• দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘বাজার বন্ধ, খাব কী?’

Lockdown
শ্রীদাম মাণ্ডি। নিজস্ব চিত্র

করোনাভাইরাস নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জেরে সবাইকে 'ঘরবন্দি' হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাঁপ পড়েছে তেলেভাজার দোকান থেকে শুরু করে অনেক ব্যবসাপাতির। বন্ধ বাজার। 

কিন্তু সে খবর বুধবার সকালে কানে পৌঁছয়নি পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার মুরগুমা এলাকার প্রত্যন্ত জঙ্গলঘেরা গুররাবেড়া গ্রামের শ্রীদাম মাণ্ডির। জমিজমা নেই বললেই চলে। জঙ্গল ঘুরে শুকনো কাঠ সংগ্রহ করে তা বাজারে বেচে সামান্য যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই দিন চলে যায় শ্রীদামের। 

বুধবার সবে দিনের আলো ফুটেছে। শুকনো কাঠ নিয়ে অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে বেগুনকোদর বাজারে পৌঁছে গিয়েছেন শ্রীদাম। কিন্তু দিনকয়েক আগে দেখা বাজারের ছবির সঙ্গে এ দিনটা কিছুতেই যেন মেলাতে পারছিলেন না তিনি।

এ কেমন বাজার! লোকজনের দেখা নেই। যে দোকানগুলিতে তিনি কাঠ বিক্রি করেন, ঝাঁপ পড়েছে সে সবের। হলটা কী! প্রথমে কিছুটা ঘাবড়ে যাওয়ার পরে, শেষমেষ চার দিকে খোঁজ করে শ্রীদাম যখন জানতে পারলেন যে বাজার বন্ধ, তখন বেশ কিছুটা সময় গড়িয়ে গিয়েছে। অবশেষে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাছে সব শুনে ফাঁকা বাজারে আর না বসে থেকে অবিক্রিত কাঠ কাঁধে তুলে ঘরে ফেরার রাস্তা ধরলেন তিনি।

একরাশ আক্ষেপ নিয়ে বলেন, "কোথা থেকে কী রোগ এল।! এ বার দেখছি, না খেতে পেয়েই আমাদের মতো মানুষগুলোকে মরতে হবে।" 

একা শুধু শ্রীদাম নন, করোনা-পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার অনেকেই।

অযোধ্যা পাহাড়তলির গুররাবেড়া, মামুডি, লেওয়ার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে তা বাজারে বেচে সামান্য উপার্জন করেন। তা থেকেই কোনও রকমে সংসার চলে যায়।

মামুডি গ্রামের সনকা মাণ্ডি, রিঙ্কু কিস্কুরা জানালেন, বাজার এ ভাবে বন্ধ থাকলে কে-ই বা কিনবেন,  তাঁদের কষ্ট করে সংগ্রহ করা কাঠ। পরিস্থিতি এ রকম চলতে থাকলে বেঁচে থাকাটাই তাঁদের কাছে মুশকিল হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জঙ্গলঘেরা ওই এলাকায়। প্রশাসনের অবশ্য আশ্বাস, রোগ ঠেকাতেই অপাতত এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন