• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সংক্রমণ শিশুরও

nanur
উদ্বেগ: নানুরে এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র
জেলায় আরও চার করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলল। প্রত্যেকেই নানুর ব্লকের বাসিন্দা। আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছে একটি বছর তিনেকের শিশু। জেলায় এই প্রথম কোনও শিশুর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বেগ দ্বিগুণ হয়েছে। নানুরের বিডিও অরূপকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘তিনটি পরিবারের ১০ জনকে সরকারি নিভৃতবাসে এনে লালারস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আক্রান্তদের পাড়াগুলি আপাতত বিচ্ছিন্ন করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’
 
বীরভূম স্বাস্থ্য জেলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি নানুরের শাকবাহা গ্রামে। বাকি তিনজনের বাড়ি নানুরের বালিগুণী গ্রামে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারে দুই ভাই এবং তাঁদের পড়শি এক যুবকও রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতেই কলকাতার নাইসেড থেকে সকলের লালারসের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। প্রত্যেককে বুধবার বোলপুর কোভিড হাসপাতালে পাঠানো ভর্তি করানো হয়। একই দিনে নানুরে চার জনের শরীরে করোনার সংত্রমণ মেলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা পরিজন ও পড়শিদের চিহ্নিত করে তুলে এনে সরকারি নিভৃতবাসে রেখে লালারস পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। বাঁশের বেড়া দিয়ে গ্রামের অন্য অংশের সঙ্গে পাড়া দু’টিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
 
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগুণী গ্রামের যে তিন জনের করোনা ধরা পড়েছে তাঁরা রাজমিস্ত্রির কাজের সূত্রে মাস চারেক ধরে চেন্নাইয়ে ছিলেন। ১৫ মে ফিরে আসেন। দিন দু’য়েক নানুরে সরকারি নিভৃতবাসে ছিলেন। পরে বাড়িতে নিভৃতবাসে থাকার পরামর্শ দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শাকবাহা গ্রামের শিশুটি তার বাবা মা’র সঙ্গে দিল্লিতে ছিল। দিন পাঁচেক আগে বাড়ি ফেরে। বাড়িতে নিভৃতবাসে থাকার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার আগে  দুদিন তাঁদেরও ইলামবাজারের সরকারি নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। তখনই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাবা মায়ের করোনা সংক্রমণ ধরা না পড়লেও  শিশুটি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তিত প্রশাসন। 
 
চিকিৎসকেরা অনেকে বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুদের ক্ষেত্রে এই অসুখের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের সংক্রমণ সাধারণত দু’ভাবে হতে দেখা যায়। প্রথমত, কোনও কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ থেকে, অথবা কোভিড-১৯ হচ্ছে এমন জায়গায় ঘুরে আসার পর। এ ক্ষেত্রে শিশুটিও সেভাবেই আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।  বোলপুর কোভিড হাসপাতালের সুপার শোভন দে বলছেন, ‘‘শিশুটিকে প্রোটোকল অনুয়ায়ী মায়ের কাছে রাখা হয়েছে। বাকি তিন জন আক্রান্ত যুবকও চিকিৎসাধীন।’’
 
এক স্বাস্থ্য কর্তা বলছেন, জেলায় এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯। তবে সংখ্যা বাড়লেও সুস্থ হয়ে উঠার হারও জেলায় এখনও খুবই ভাল। আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ছ’জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন দুর্গাপুরের বেসরকারি কোভিড হাসপাতাল থেকে এবং দু’জন বোলপুর কোভিড হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সুস্থ থাকায় দু’একদিনের মধ্যে বোলপুর হাসপাতাল থেকে আরও দুই আক্রান্তকে ছেড়ে দেওয়া হবে। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন