• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনা-যোদ্ধাকেই ‘হেনস্থা’

Nalhati
সাবধানী: এক শিশুর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বুধবার নলহাটির কুমারশানড্ডা গ্রামে। নিজস্ব চিত্র
করোনা-যোদ্ধাদের প্রতি অমানবিক আচরণ বা হেনস্থা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না— রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও যে অনেক ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে না, বুধবার তার প্রমাণ মিলল  সিউড়ি থানার কড়িধ্যা কালীপুরে।
 
ছুটিতে বাড়িতে আসায় এ দিন বোলপুর কোভিড হাসপাতালের এক মহিলা সাফাইকর্মী ও তাঁর বাবাকে পাড়ার লোক মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠল কালীপুরে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।  ঘটনার পরে আতঙ্কে ভুগছে ওই মহিলার পরিবার। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বোলপুর কোভিড হাসপাতালের সুপার শোভন দে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এঁরাই তো সামনে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা লড়ছেন। এমন চলতে থাকলে কে কাজ করবে? মানুষ অন্তত এটুকু বুঝুন।’’ জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলছেন, ‘‘খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ওই গ্রামে গিয়েছিল। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্কিতা কর্মকার নামে কোভিড হাসপাতালের ওই মহিলা কর্মী বোলপুর থেকে মঙ্গলবার রাতেই কড়িধ্যার বাড়িতে ফিরেছিলেন। বুধবার সকালে সে খবর জানাজানি হতেই অশান্তি শুরু হয়। বাড়ি ঘিরে ফেলেন এলাকার শ’খানেক মহিলা। কেন ওই কর্মী বাড়িতে এসেছেন, সেই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পাড়ার লোক। তার পরেই ওই মহিলা এবং তাঁর বাবাকে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠে। অঙ্কিতার অভিযোগ, ‘‘আমি বাড়ি ফিরেছি কেন, সেটা নিয়েই আপত্তি ছিল পাড়ার লোকেদের। আমি ওদের বারবার বলি, সাত দিন ডিউটি করার পরে ১৪ দিন বিশ্রাম নিয়ে বাড়িতে এসেছি। সমস্যা কোথায়? কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনতে চায়নি।’’
 
মারধর করার অভিযোগ মানতে চাননি কালীপুরের বাসিন্দারা। তবে, অঙ্কিতার ফেরা নিয়ে যে তাঁদের আপত্তি, তা স্পষ্ট করেছেন। পাড়ার লোকেদের দাবি, ‘‘আমরা শুধু বলেছিলাম, ওই হাসপাতাল করোনা রোগীরা ভর্তি থাকে। সেখানে কেন বাড়ি এসেছো। কিন্তু সে কথার উত্তর না দিয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে অঙ্কিতা। তাই একটু ঠেলাঠেলি হয়েছে।’’  
 
কোভিড হাসপাতালের সুপার অবশ্য জানাচ্ছেন, উপযুক্ত পোশাক পরে, কোভিড হাসপাতালের সমস্ত নিয়ম মেনেই ডিউটি করেন সব কর্মী। তার পরে কিছুদিন বসিয়ে রেখে দেখা হয়, কারও কোনও উপসর্গ হচ্ছে কিনা। তাঁর মন্তব্য, ‘‘উপসর্গ না থাকলে কারও বাড়ি ফেরায় আপত্তি উঠবে কেন? বরং ওই কর্মীকে সম্মান জানানো উচিত ছিল।’’  পাড়ার লোক যে কাজটা ঠিক করেননি, তা মানছেন কড়িধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উজ্জ্বল সিংহ। তিনি বলছেন, ‘‘যে ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁদের সুস্থ করে তোলার কাজে যুক্তদের সঙ্গে এমন ব্যবহার ঠিক নয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন