রাত পোহালেই উদ্বোধন হবে ‘অম্রুত’ জল প্রকল্পের। কিন্তু ঘরে জল কবে পৌঁছবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ধোঁয়াশায়। বাঁকুড়ার বিরোধী কাউন্সিলরেরা কটাক্ষ করে বলছেন, ‘‘কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভোটের কথা ভেবে ঘটা করে প্রকল্পের উদ্বোধন করে ফেলছে তৃণমূল।’’ তবে সে কথা মানতে নারাজ বাঁকুড়ার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। তিনি বলছেন, ‘‘প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের মুখে। ঘরে জল পৌঁছতে বেশি দেরি নেই।’’ 

কাল, শনিবার বাঁকুড়ায় ওই জল প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের। বাঁকুড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাঁকুড়া শহরে জলের সমস্যা মেটাতে ‘অম্রুত’ প্রকল্প নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাঁকুড়ার কেশিয়াকোল এলাকায় গন্ধেশ্বরী নদীতে মাটি খুঁড়ে গড়া হয়েছে ‘রিজ়ার্ভার’। যার জল ধারণ ক্ষমতা প্রায় ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার লিটার। ছ’টি নতুন ‘রিজ়ার্ভার’ও গড়া হয়েছে এই প্রকল্পে। শহর জুড়ে পাতা হয়েছে প্রায় ২৫২ কিলোমিটার পাইপ। শহরের মোট ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম দফায় ১৪টি ওয়ার্ডের জল পাওয়ার কথা। বাকি ১০টি ওয়ার্ড দ্বিতীয় দফায় জল পাবে বলে পুরকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতি বছর গরম কালে বাঁকুড়া শহরের গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বরের জলস্তর নেমে গিয়ে সঙ্কট দেখা দেয়। ব্যাহত হয় পুরসভার জল পরিষেবা। শহরের জল সমস্যাকে বরাবরই শাসকের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করে আসছে বিরোধীরা। কিন্তু সমস্যা মিটছে না। ‘অম্রুত’ প্রকল্পে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল শহরে দেওয়ার কথা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রীষ্মে জলের টানাটানি থেকে শহরবাসী রেহাই পাবেন বলেই দাবি পুর-কর্তাদের। পাশাপাশি, গত আড়াই বছর ধরে বাঁকুড়া পুরএলাকায় নতুন করে বাড়িবাড়ি জলসংযোগ দেওয়ার কাজও বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প চালু হলে ওই পরিষেবা দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে যাবে। মহাপ্রসাদবাবু জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই শহরের হাজারটি পরিবারকে নতুন করে জলসংযোগ দেওয়ার জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছে পুরসভার তরফে।

তবে সমস্ত কিছুর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, উদ্বোধন হলেও বাঁকুড়াবাসী ‘অম্রুত’ প্রকল্পের জল পাবেন কবে, তা নিয়ে। পুরসভার কাউন্সিলরদের একাংশ আড়ালে দাবি করছেন, প্রকল্পটি উদ্বোধন করা গেলেও, বাড়ি বাড়ি জল দিতে আরও মাস ছ’য়েক লেগে যেতে পারে। বাঁকুড়া শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, “প্রকল্পটির বেশির ভাগ কাজ বাকি। শহরের বহু ওয়ার্ডেই এখনও পাইপ বসানো হয়নি। এখন থেকেই উদ্বোধনের জন্য লাফালাফিতে সময় নষ্ট না করে পুরপ্রধান যদি বাকি কাজ শেষ করতে তৎপর হতেন, তা হলে শহরবাসীর উপকার হত।”

মহাপ্রসাদবাবুর অবশ্য দাবি, প্রকল্পের প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যেই বাড়ি-বাড়ি জলসংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ করে, পরিষেবা চালু করা হবে বলেই তাঁর আশ্বাস। তিনি বলেন, “বিরোধীরা কী বললেন, তা নিয়ে ভাবছি না। দেড় মাসের মধ্যেই ঘরে ঘরে জলসংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ করে জল পরিষেবা চালু করা হবে। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পরে বাঁকুড়া শহরের জলকষ্ট ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে।”