বাঁকুড়া জেলা শিশু কল্যাণ সমিতির নির্দেশ বাতিল করে, সানবাঁধার শিশুকন্যাকে পুজোর আগে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস বলেন, ‘‘শিশুটিকে অবিলম্বে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পুলিশকে বলেছি।’’ 

বাঁকুড়া শহর লাগোয়া সানবাঁধার  এক বধূ ২০১৭ সালে তিনটি শিশুর জন্ম দেন। তাদের মধ্যে একটি মারা যায়। বাকি দু’জনের মধ্যে একটি শিশুর কাটা তালুর সমস্যা ছিল। মহিলার স্বামী বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা কর্মী। তাঁর পক্ষে মেয়ের অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব ছিল না। তা জেনে একটি সংস্থার নাম করে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুর এক দম্পতি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, নিখরচায় চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দিয়ে বাদুর দম্পতি বছর দু’য়েক আগে আট মাসের শিশুটিকে নিয়ে যান। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেও, শিশুটিকে তাঁরা আটকে রেখেছেন বলে সানবাঁধার দম্পতি বাঁকুড়া জেলা চাইল্ড লাইনের দ্বারস্থ হন। 

সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলা শিশু কল্যাণ সমিতি দু’পক্ষের শুনানি করে বাদুর দম্পতির কাছেই শিশুটিকে রাখতে নির্দেশ দেয়। শিশুকল্যাণ সমিতির যুক্তি ছিল, শিশুটি তার বাবা-মাকে চেনে না। তাই তাঁদের কাছে থাকলে সে কান্নাকাটি করায় শরীরের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কা করেই ওই রায় দেওয়া হয়। এর পরে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন বাবা-মা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার জেলাশাসক জেলা শিশু কল্যাণ সমিতি এবং দুই দম্পতিকে নিয়ে শুনানি করেন। তারপরেই ওই সিদ্ধান্ত। জেলা শিশুকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান উদয়চন্দ্র মল্লিক বলেন, ‘‘শিশু কল্যাণ সমিতির নির্দেশে কেউ খুশি না হলে জেলাশাসকের কাছে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে জেলাশাসক নিজের মতো রায় দিতে পারেন।’’

চেষ্টা করেও বাদুর ওই দম্পতিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জবাব দেননি এসএমএসেরও। তবে শিশুটির মা বলেন, ‘‘আমি চাই, এ বারের দুর্গাপুজো দুই মেয়ে এক সঙ্গে কাটাক। ওদের নিয়েই আমি পুজোর আনন্দ পেতে চাই।’’ জেলা পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, ‘‘পুজোর আগেই শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’