• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

এয়ার হর্ন খোলায় স্তব্ধ সদর শহর

Traffiic Jam
জট: থমকে গিয়েছে সিউড়ি। রাস্তার মাঝে আটকে যানবাহন। নিজস্ব চিত্র
যাত্রীবাসী বাস থেকে নিষিদ্ধ এয়ার হর্ন খুলতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবাদে রাস্তার মধ্যে বাসগুলিকে আড়াআড়ি লাগিয়ে ঘন্টা দু’য়েক শহরের জনজীবন স্তব্ধ করার পথে হাঁটলেন বাসকর্মী ও বাস মালিক সমিতি। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা ৯টা থেকে ১১টা। ঘটনাস্থল জেলা সদর শহরের সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা। ঘটনার জেরে দিনের ব্যস্ততম সময়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগ পড়লেন অফিসযাত্রী, স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসেন ডেপুটি পুলিশ সুপার (আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক) আনন্দচরণ সরকার। বাসমালিক ও কর্মচারি সমিতির সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জেলা পুলিশসুপারের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হবে এই আশ্বাসে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন বাসমালিক কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছে আগামী তিনদিন অভিযান স্থগিত রাখবে পুলিশ। ঘটনা হল, সিউড়ি শহরে দিনে দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু শহরের মধ্যে যে ভাবে বাসগুলি, নিষিদ্ধ এয়ার হর্ন ব্যবহার করে, তাতে সুস্থ জনজীবন বিঘ্নিত হয়। জেলা পুলিশের কর্তাদের কথায়, হর্নের বিকট শব্দ, দূষণ সৃষ্টিকারি আওয়াজে ঘুম থেকে চমকে জেগে উঠছে শিশুরা। বয়স্ক ও অসুস্থ (বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন)-রা অসুবিধায় পড়ছেন। পড়াশুনায় মননিবেশ করতেও সমস্যা হচ্ছে পড়ুয়াদের। এমন নানা আভিযোগ জানাচ্ছিলেন শহরবাসী। সেই কারণে এমন সিদ্ধান্ত।
চিকিৎসকদেরও অভিমত, ৬৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দকে স্বাভাবিক বলা হয়। কিন্তু হর্নের ক্ষেত্রে তা ১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়, যা সর্বোচ্চ শব্দসীমার থেকে অনেক বেশি। 
ইএনটি বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘‘তীব্র আওয়াজ থেকে মানুষের মধ্যে আংশিক বধিরতা দেখা যায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক নাগাড়ে ওই তীব্র আওয়াজ কানে ঢুকলে সম্পূর্ণ বধির হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।” শব্দদূষণ কমাতে স্কুল, হাসপাতাল, আদালত এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘সাইলেন্স জোন’ বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে শাস্তি জরিমানা। আর এয়ার হর্ন তো নিষিদ্ধই। কারণ, এর শব্দসীমা ১১০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়। কী হয়েছিল এ দিন?
পুলিশ প্রাশাসনের দাবি, এসব ভেবেই শহরবাসীর অসুবিধা ও আইনকানুনের কথা মাথায় রেখে দিন পনেরো আগে মহকুমা শাসকের পৌরহিত্যে জেলা প্রশাসন ভবনে একটি বৈঠকে পরিস্কার ভাবে বাসমালিক ও কর্মচারি সংগঠনকে বার্তা দেওয়া হয় বাস থেকে এয়ার হর্ন খুলে ফেলতে হবে। বাস মালিকদের বলা হয়েছিল, দিন পনেরোর মধ্যে নিজেরাই খুলে ফেলুন হর্ন। নতুবা পুলিশকে বাধ্য হয়েই অভিযানে নামতে হবে। কথা না মানায় এ দিন সাকলে বোলপুর ও কীর্ণাহার গামী দুটি বাসের এয়ার হর্ন খুলে নেন ওসি ট্রাফিক সুমন প্রামাণিক।
এরপরেই বিরোধিতায় নামে বাসকর্মী ও মালিক সমিতি। তাঁদের কথায়, এয়ার হর্ন খুলতে গিয়ে পাইপ কেটে দিয়েছে পুলিশ। যে কারণে ব্রেক অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বাসগুলি অচল হয়ে পড়েছিল। পুলিশই যখন চায় না রাস্তায় বাসগুলি চালুক তাহলে বন্ধ থাকা বাস। কর্মী ও মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, ‘‘বাসকর্মীদের গায়ে হাত দিয়েছে পুলিশ। সরকারি বাস ছেড়ে বেছে বেসরকারি বাস টার্গেট করা হচ্ছে।’’ ঘটনা হল, এরপরেই রাস্তায় খান পনেরো বাস দাঁড়িয়ে যায়। 
দুটি বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং আব্দুল আজিম এয়ার হর্ন নিয়ম বহির্ভূত মানলেও, ১৫ দিনের মধ্যে হর্ন খুলে দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে মানতে নারাজ। তাঁরা বলেন, ‘‘শহরে এই হর্ন আমরা বাজাই না। তবে গ্রাম এলাকায়, রাস্তায় ধান-গম মেলা থাকে। গরু-ছাগল সরাতে তীব্র আওয়াজ প্রয়োজন। তাও যদি খুলতে হয় তাহলে পাইপ সমতে কেন কাটবে পুলিশ। আমরা এই কথাটাই বলতে চাই পুলিশ সুপারকে।’’ জেলা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের জেলা কোর কমিটির সদস্য শেখ রাজীবুল বলেন, ‘‘নিয়ম মানতে অসুবিধা নেই কিন্তু পুলিশের এমন ব্যবহার কাম্য নয়।’’
জেলা পুলিশসুপার নীলকান্ত সুধীর কুমার বলছেন, ‘‘আমরা আলোচনার জন্যই বসে রয়েছি। তবে ছাগল গরু তাড়াতে হলেও নির্দিষ্ট শব্দ সীমার মধ্যেই হর্ন বাজাতে হবে। আর শহরে তো আর গরু ছাগল চড়ে বেরাচ্ছে না, যে এয়ার হর্ন বাজাতে হবে। ওঁরা নিজেরা হর্ন খুলুন, নয় তো পুলিশ খুলবে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন