পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই রামপুরহাট আদালত চত্বর বা অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হনুমান— এমনই মনে করছেন পশুপ্রেমীদের একাংশ। আর প্রতি দিন হনুমানের তাণ্ডবে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে আদালত চত্বরে। ওই হনুমানের হাতে আক্রান্তও হচ্ছেন কেউ কেউ। শুক্রবারও অনেক চেষ্টা করেও হনুমানটিকে ধরতে পারেননি বনকর্মীরা।

পশুপ্রেমী উর্মিলা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না ওই হনুমান নতুন কোনও দলে শামিল হতে পারছে, ততক্ষণ এ ভাবেই সে ঘুরে বেড়াবে।’’

এ দিকে, এ দিনও রামপুরহাট আদালত চত্বর ও হাটতলায় দাপিয়ে বেড়ালো সেই হনুমান। তার হামলার মুখে পড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন আইনজীবী, বনকর্মী। সারা দিন কার্যত তার পিছনে ছুটেছেন বনকর্মীরা। কয়েক বার বস্তা দিয়ে জাপটে ধরলেও, আটকে রাখা যায়নি। কার্যত তা ছিড়েই পালায় হনুমানটি।

এ দিন সকাল ৭টা নাগাদ রামপুরহাট গাঁধী ময়দানের স্টেডিয়ামে হাজির হয় হনুমানটি। মাঠে তখন অনেকে শরীরচর্চায় ব্যস্ত। তারই মধ্যে কখনও মাঠে নেমে যায় সেটি, কখনও উঠে যায় স্টেডিয়ামের উপরে। আতসবাজি ফাটিয়ে তাকে কিছুটা দূরে সরাতে পারলেও, খাবারের আশায় ঠায় সে বসেছিল মাঠের এক কোণে। মাঠ ফাঁকা হওয়ার পরে উধাও হয় সেই হনুমান। ততক্ষণে মাঠে হাজির বন দফতরের রেঞ্জার সুষেণ কর্মকার সহ আরও আট কর্মী। সকাল সাড়ে ১০টায় আদালত চত্বরে পৌঁছয় হনুমানটি। ঢুকে য়ায় ভিড়ে। আইনজীবীদের টেবিলের উপর দিয়ে ছুটে বেড়াতে থাকে। বন দফতরের কর্মীরা তাকে খাবারের লোভ দেখালে তাঁদের কাছেও যায়। তার পরে খাবার নিয়েই চম্পট। আইনজীবী শিবসাধন নশিপুরীর ঘাড়ে উঠে কান কামড়ে আদালতের ছাদে গিয়ে বসে।

কামড়ে জখম আইনজীবী। রামপুরহাটে। —নিজস্ব চিত্র

বন দফতরের কর্মীরা আদালত চত্বরে দু’বার বস্তা ও জালে জড়িয়ে ধরলেও হনুমানটিকে আটকে রাখতে পারেননি। বার বার তাকে ধরার চেষ্টা হচ্ছে দেখে সে চলে যায় রামপুরহাট মহকুমা সংশোধনাগার চত্বরে। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে ফের ফের আদালতে। খাবারের লোভেই ওই হনুমানটি বার বার আদালত চত্বরে আসছে বলে মনে করছেন রেঞ্জার সুষেণ কর্মকার। বিকেলের দিকে রামপুরহাট হাটতলা এলাকায় ঘুরে বেড়তে দেখে বন দফতরের কর্মীরা তার পিছু নেয়। তা দেখে ছুটে এসে তিন বনকর্মী ও এক পথচারীকে কামড়ে-আঁচড়ে পালায় হনুমান। এ সবে আতঙ্কিত রামপুরহাটবাসী। বন দফতরের এডিএফও বিজনকুমার নাথ বলেন, ‘‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। হনুমানটিকে বাগে আনতে গিয়ে আমাদেরও কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’’