ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন বাসন্তী রুইদাস। শুক্রবার রাতে কার্যত দু’মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের পরীক্ষাপাড়া গ্রাম। বাসন্তী রুইদাস ও তাঁর চোদ্দো বছরের ছেলে কোনও ক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন। কিন্তু ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে চাল, মুড়ি, গম কিচ্ছু নেই। শুধু বাসন্তীদেবীর বাড়িই নয়, সরকারি হিসেবে ঝড়ে ১৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও দশটি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাণহানির কোনও খবর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঝড় শুরু হয়। মাত্র দু’মিনিট ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গোটা এলাকা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারেরা গ্রামে পৌঁছন। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। ছিলেন বিডিও (ইন্দাস) মানসী ভদ্র চক্রবর্তীও। দুর্গতদের উদ্ধার করে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রিপল ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এ দিন গ্রামে যান ইন্দাসের বিধায়ক গুরুপদ মেটে। তিনি এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ত্রাণ পৌঁছে দেন। বিজেপি নেতা গৌতম ধাড়াও গ্রামে গিয়ে মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। 

বিডিও এ দিন বলেন, ‘‘ঝড়ে ১৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও দশটি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাইকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ভাল না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণশিবির চলব। মেডিক্যাল টিম এলাকায় রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির হিসেব জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে সাহায্য পৌঁছলে তা গ্রামবাসীকে বিলি করা হবে। আপাতত তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।