উচ্চ মাধ্যমিকে মেধাতালিকায় নবম স্থান পেয়েও মনে আঁধার বেলিয়াতোড়ের ছান্দার গ্রামের ঈশিতা চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি ভূগোল নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চান। কিন্তু বাধ সেধেছে আর্থিক অনটন। 

তাঁর বাবা শান্তনু চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, একটি ছোট গুমটি দোকানই তাঁদের এক মাত্র সম্বল। সেখানকার বেচাকেনা থেকে কোনও রকমে সংসার চালান। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘মেয়ে সায়েন্স নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু পড়াতে পারিনি। কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াতেই ওর মাকে ঋণ নিতে হয়েছে। সেই ঋণের কিস্তি শোধ করতেই সংসার খরচে টান পড়ে। স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্যে কোনও ভাবে মেয়েকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াতে পেরেছি। এর বেশি আর পড়াতে পারব না। দেখি মেয়েটার কোথায় কী কাজের ব্যবস্থা করা যায়!’’

নিজের জেদ আর অধ্যাবসায়কে সঙ্গী করে উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ঈশিতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ভূগোল নিয়ে গবেষণা করতে চাই। অধ্যাপনা করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু জানি না কী ভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাব। হয়তো স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে।’’ 

ঈশিতার পড়াশোনার আগ্রহ আর আর্থিক অনটন দেখে এগিয়ে এসেছিলেন ছান্দার গৌরিশঙ্কর হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস গড়াই বলেন, ‘‘খুবই কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে ঈশিতা। বাবার সামান্য রোজগার। আমরা যতটুকু পেরেছি সাহায্য করেছি। কিন্তু এরপর কী ভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাবে, সেটাই চিন্তার। অর্থাভাবে মেধা হারিয়ে যাবে, এটা ভাবলেও খারাপ লাগে।’’

উচ্চ মাধ্যমিকে সে ভাবে টিউশনও নিতে পারেননি ঈশিতা। তাতেও পেয়েছেন ৪৮৭ নম্বর। ভূগোল ও সংস্কৃত দু’টি বিষয়েই তিনি ৯৯ পেয়েছেন। ঈশিতাকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই ছান্দারের বাসিন্দাদের। সেই সঙ্গে সমানে রয়েছে উদ্বেগ— টাকার অভাবে কেন বন্ধ হবে তাঁর পড়াশোনা? 

কানে বাজে নিরুপায় শান্তনুবাবুর শেষ কথা— ‘‘কোনও ভাবে সাহায্য না পেলে আর পারব না। উচ্চ শিক্ষার খরচ জোগাড় আমার সাধ্যের বাইরে।’’ টিনের চালাঘরের দরজার পাশে তখন সজল চোখে তাকিয়ে ঈশিতা।