আবার হাতির আনাগোনা শুরু হয়েছে ঝালদা ও বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের বনাঞ্চলে।

রবিবার ভোরে দলছুট দুই দাঁতাল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়াল ঝালদা বনাঞ্চলের খামার বিট এলাকার পুস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমডিতে। বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বাঘমুণ্ডি বনাঞ্চল থেকে দলছুট দুই দাঁতাল ঢুকে পড়ে নিমডি গ্রামে। গ্রামে ঢুকেই হাতিগুলি কয়েকটি মাটির ঘর ভাঙে। আতঙ্কে বাসিন্দাদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। 

শুক্রবার রাতেই ঝালদা রেঞ্জের পার্শ্ববতী বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের কালীমাটি বিটের চারটি গ্রামে ঢুকে পাঁচটি মাটির ঘর ভেঙে দেয় কয়েকটি হাতি। গ্রামগুলি হল: গাগী, ডাংডুং, পেড়েতোড়াং, পিড়রগড়িয়া। আলু, বিনস-সহ আনাজের খেত নষ্ট করে বলে অভিযোগ। বন কর্মীদের দাবি, ওই দু’টি হাতিই বাঘমুণ্ডি ও ঝালদার বনাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। বাসিন্দারা হাতিগুলিকে ঝাড়খণ্ডে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

নিমডি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় কৃষক হলধর লায়ারের মাটির ঘরের একাংশ ভেঙে দেয় হাতি। এ দিন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে হলধরবাবু বলেন, ‘‘কপাল জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। একচি মাত্র ঘরেই আমরা বাস করতাম। তাও হাতিতে ভেঙে দিল। এখন ওই ভাঙা ঘরে থাকব কী করে?’’ হাতির হানায় ভাঙা পড়েছে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ভীম সিং ও প্রমীলা লায়ার ঘরের দরজা। 

ইতিমধ্যে গ্রামবাসীরা পথে নেমে হাতিদের তাড়া করে। তাড়া খেয়ে দু’টি দাঁতাল গ্রাম ছেড়ে ফসলের খেতে নেমে পড়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাতিগুলির পায়ের দাপাদাপিতে জমিতে থাকা আলু, কপি,সিম প্রভৃতি আনাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সকালের দিকে বনকর্মীদের তাড়া খেয়ে সামনের হেঁসলার জঙ্গলে গাঢাকা দেয় দাঁতালেরা।

ঝালদার রেঞ্জ অফিসার অমিয়বিকাশ পাল বলেন, ‘‘তিনটি বাড়ির একাংশ ভাঙার পরে প্রায় দেড় হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে দু’টি দাঁতাল। আমরা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ফেলেছি। ক্ষতিগ্রস্তেরা যাতে বিধি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ পান, তার সব রকম ব্যবস্থা আমরা করছি।’’ তিনি জানান, হাতি দু’টির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। 

ঘটনা হল, ঝাড়খণ্ড থেকে হাতির পাল সুবর্ণরেখা নদী পার করে মাঝে মধ্যেই ঝালদা ও বাঘমুণ্ডি এলাকায় ঢুকে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতিও করে। এমনকি ওই এলাকায় হাতির হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই বাসিন্দাদের দাবি, হাতি ঠেকাতে স্থায়ী পরিকল্পনা নিক প্রশাসন।