ছাত্রদের পরে এ বার স্কুলে তালা ঝোলালেন অভিভাবকেরা। শুক্রবার হুড়া ব্লকের কলাবনি হাইস্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। মিড-ডে মিলের মানও খারাপ। অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে এক বেলা স্কুলের পড়াশোনা শিকেয় ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক, পুলিশ এবং পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোজ মণ্ডলের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। টিফিনের পরে ক্লাস শুরু হয়।

কলাবনি হাইস্কুলে অভিভাবকদের বিক্ষোভের ঘটনা এই প্রথম  নয়। ২৭ জুলাই পরিকাঠামো সংক্রান্ত অভিযোগে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অম্বুজকুমার মিশ্রকে তালাবন্ধ করে রাখে পড়ুয়াদের একাংশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে এবং পরিচালন সমিতি বৈঠকের আশ্বাস দিলে অম্বুজবাবু ছাড়া পান। কিন্তু পরের দিন স্কুল খোলার পর বৈঠক না হওয়ায় তাঁকে ফের ঘেরাও করা হয়। সে যাত্রা পরিচালন সমিতির এক সদস্য গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মেটান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তখনই অভিযোগ করেছিলেন, বৈঠকে আদপে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি।

এ দিন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের একাংশ স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে স্কুলের কোন কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে সেই হিসাব তাঁদের দেখাতে হবে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সত্যজিৎ মণ্ডল, মানিক কুম্ভকার, পান্নালাল মুখোপাধ্যায়, উত্তম মণ্ডলরা বলেন, ‘‘স্কুলে শৌচালয় নেই, গ্রন্থাগার নেই। সীমানায় পাঁচিল নেই। ক্লাসঘর, শিক্ষক— সমস্ত কিছুর অভাব। গত পাঁচ বছরে অবস্থার কোনও উন্নতিই হয়নি।’’ তাঁদের অভিযোগ, ব্লকের অন্য স্কুলে পরিকাঠামোর উন্নতি হলেও এই স্কুলেই হয়নি। মিড-ডে মিলের মান পর্যন্ত অন্য স্কুলের তুলনায় খারাপ। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ টাকা কোন খাতে খরচ করা হয়েছে তা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একাধিক বার প্রশ্ন করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ দিনও তাঁরা এই বিষয়টি নিয়েই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ দিন স্কুল শুরু হওয়ার পরেই গেটে তালা ঝোলানোয় শিক্ষক এবং পড়ুয়ারা ভিতরে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ স্কুলে গিয়ে তালা খোলানোর বন্দোবস্ত করে। কিছুক্ষণ পরে সেখানে যান পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোজবাবু। পুলিশের উপস্থিতিতে অবিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি। মনোজবাবু বলেন, ‘‘আলোচনায় স্থির হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার খরচের হিসাব নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বসা হবে।’’

অম্বুজবাবু বলেন, ‘‘স্কুলের উন্নয়নের জন্য কোনও তহবিল থেকেই টাকা পাওয়া যায়নি। তাই পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি। বিগত দিনে স্কুলের টাকা কোথায় কোথায় খরচ হয়েছে তার সমস্ত হিসাব তৈরি আছে। পরিচালন সমিতি চাইলেই সেই হিসাব দেখিয়ে দেব।’’