মনোনয়নের শুরুতেই বাঁকুড়া ‘মিছিল শহর’
পঞ্চায়েত ভোটের পুনরাবৃত্তি লোকসভা নির্বাচনে হবে না বলেই দাবি করলেন বাঁকুড়ার তৃণমূল পর্যবেক্ষক তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
TMC

ডিএম অফিস চত্বরে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের দুই তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অভিজিৎ সিংহ

মনোনয়ন পর্ব শুরুর দিনই কার্যত মিছিল নগরে পরিণত হল বাঁকুড়া শহর। তৃণমূল এবং বামেদের নজরকাড়া মিছিল শহরের ভোট উত্তাপকে বাড়িয়ে দিল অনেকটাই। এদিন তৃণমূল এবং সিপিএমের বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের প্রার্থীরা মিছিল করে জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তৃণমূলের মিছিলে হাজির ছিলেন দলের বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে ভাল ফল করেছিল বিজেপি। তবে পঞ্চায়েত ভোটের পুনরাবৃত্তি লোকসভা নির্বাচনে হবে না বলেই দাবি করলেন বাঁকুড়ার তৃণমূল পর্যবেক্ষক তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা করেন তৃণমূলের বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অভিষেক। ‘হুড খোলা’ জিপে দুই প্রার্থীকে নিয়ে রোড শো করেন তিনি। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হবার কিছুক্ষণ আগে অভিষেক জেলাশাসকের দফতর থেকে বেরিয়ে পড়েন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “জঙ্গলমহলের সর্বত্রই এবার তৃণমূল জিতবে। পঞ্চায়েত ভোটে কিছু ‘আবর্জনা’ জিতে গিয়েছিল। কিন্তু তারা এলাকায় অশান্তি করা ছাড়া আর কিছু করেনি”।  বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁকে এ দিনও কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। বলেন, “সৌমিত্রর কুকর্ম দল জেনে ফেলেছিল। তাই টিকিট পাবে না জেনেই বিজেপিতে চলে গিয়েছে। বালি চুরি থেকে শুরু করে নানান অভিযোগ রয়েছে ওর বিরুদ্ধে। আদালত জেলায় ঢোকার অনুমতি পর্যন্ত দিচ্ছে না।” সৌমিত্রর পাল্টা কটাক্ষ, “যিনি আমার বিরুদ্ধে এ সব কথা বলছেন, তিনি নিজে কী, তা মানুষ জেনে গিয়েছেন। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তৃণমূল জিততে পারবে না।”

এ দিন জেলার দুই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থীও মনোনয়ন জমা করেন। স্কুলডাঙায় সিপিএম অফিসের সামনে থেকে একটি মিছিল করা হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী অমিয় পাত্র ও বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের প্রার্থী সুনীল খাঁ। জেলার দু’টি কেন্দ্র থেকেই কয়েক হাজার বাম কর্মী মিছিলে অংশ নেন। অমিয়বাবুর অভিযোগ, “তৃণমূল এই রাজ্যে গণতন্ত্র  লুট করেছে। জনগন ওদের হারানোর জন্য ঘরে ঘরে প্রস্তুতি নিচ্ছে।” 

এদিন শহরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয় বেশ কয়েকটি জায়গায়। জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁর দাবি, তাঁদের মিছিলে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, সংখ্যাটা মেরেকেটে ১৫ হাজার হতে পারে।