টাকা তুলতে এলে শুনতে হচ্ছে লিঙ্ক নেই, পেনশন তুলতে এলেও এক জবাব। দিনের পর দিন স্থানীয় ডাকঘর থেকে পরিষেবা না পেয়ে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রাহকেরা। ঘটনাটি পুরুলিয়া ২ ব্লকের হুটমুড়া ডাকঘরের। শুক্রবার সকালে ডাকঘর খোলার আগেই সেখানে জড়ো হয়ে ডাকঘরের মূল দরজা অবরোধ করে কোনও কর্মীকেই ভিতরে ঢুকতে দেননি গ্রাহকেরা। বাধ্য হয়ে পোস্টমাস্টার ও বাকি কর্মীরা অবরোধকারীদের সঙ্গেই বাইরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন।

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বক্তব্য, ডাকঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জায়গায় দিনের পর দিন লিঙ্ক থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের অভিযোগ, টানা ১৭-১৮ দিন ধরে এই ‘লিঙ্ক ফেলিওর’-এর সমস্যা চলছে। ফলে নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বা পেনশন এবং এমআইএসের টাকা তুলতে এসে দিনের পর দিন তাঁরা দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন। এলাকার বাসিন্দা বিজয় মিশ্র জানান, কারও মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা প্রয়োজন, কারও বা পরিজনের চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে হবে। অথচ ডাকঘরে এলেই শুনতে হচ্ছে লিঙ্ক নেই।

এ দিন ছেলের সঙ্গে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের সিজু-মাখনা গ্রাম থেকে অবসর ভাতা তোলার জন্য এসেছিলেন বৃদ্ধা অমলা পাতর। তিনি বললেন, ‘‘এর আগেও কয়েক দিন এত দূর এসে ফিরে গিয়েছি। পোস্টমাস্টার বা অফিসের কর্মীরা কোনও জবাব দিতে পারছেন না। টাকাও তুলতে পারছি না। খুবই মুশকিলে পড়েছি।’’ এ দিন বিক্ষোভকারী গ্রাহকেরা জানিয়েছেন, এই ডাকঘরের অধীনে চেপড়া, চাঁচড়া, আনাই-জামবাদ, বন বালিগাড়া, বাতিকরা, হারামজাঙ্গা, দাপাং, অর্জুনজোড়া-সহ একাধিক শাখা ডাকঘর রয়েছে। সেই ডাকঘরগুলিতেও কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে গিয়েছে হুটমুড়া ডাকঘরের পরিষেবা লাটে ওঠায়। দেবাংশু পাঠক নামে এক গ্রাহক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‘টাকা তুলতে পারছি না বলে আমার স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না।’’ গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, এই সমস্যার কথা যখন পুরুলিয়া সদরে পোস্টাল সুপারের কাছে ফোনে জানানো হচ্ছে, উনি বিরক্ত বোধ করছেন।

হুটমুড়া ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘সপ্তাহ দুয়েক ধরেই লিঙ্ক নেই। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছি। আমার কিছু করার নেই।’’ পুরুলিয়া জেলা ডাকঘরের সুপার তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এটা আমাদের তরফের সমস্যা নয়। বিএসএনএলের সমস্যা। বিএসএনএলের দাবি, বাজ পড়ে ওখানে বিপত্তি হয়েছে।’’ এ দিন বিকেলেই পরিষেবা সচল করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।