গরমে যেন চুল্লি হয়ে রয়েছে ঘরবাড়ি। তার উপরে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ‘লো-ভোল্টেজ’-এর সমস্যা। সঙ্গে রাত ১০টার পর থেকে দফায় দফায় ‘বিদ্যুৎ ছেদ’। জোড়া অভিযোগ তুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দফতরের পাওয়ার হাউসে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন সিউড়ির শ্রীভূমি পল্লির বাসিন্দারা। সেই বিক্ষোভের জেরে ভোর পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হলে আরও অনেক এলাকার বাসিন্দাকে। বিদ্যুৎ দফতরের পাল্টা দাবি, বেআইনি ভাবে পরের পর এসি মেশিন লাগানোর ফলেই ভোল্টেজের এই সমস্যা। 

শনিবার রাত রাত ১১টা নাগাদ শ্রীভূমি পল্লির বাসিন্দাদের একাংশ জেলাশাসকের বাংলোর কাছাকাছি থাকা পাওয়ার হাউসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, বিক্ষোভের পাশাপাশি ভাঙচুরও এবং যতক্ষণ না বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত গোটা শহরের আলো বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় সেই সময় পাওয়ার হাউসে কর্তব্যরত আধিকারিক ও কর্মীদের। পরিস্থিতি সামলাতে ছুটে আসতে হয় পুলিশকে। শেষ পর্যন্ত দ্রুত সমস্যা মেটাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার আধিকারিকদের এই আশ্বাস পাওয়ার পরে ক্ষান্ত হন উত্তেজিত এলাকাবাসী। 

তবে শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে ভোর ৩টে বেজে যায়। ততক্ষণ দুঃসহ গরমে কাটাতে হয়েছে শহরের একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। তাঁদের প্রশ্ন, এক এলাকার মানুষের বিক্ষোভের জন্য বাকিরা কেন ভুক্তভোগী হবেন।  

বাসিন্দাদের ক্ষোভ, শহরে দু’টি সাবস্টেশন রয়েছে। কিন্তু গরমকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিয়েছে। শ্রীভূমি পল্লির বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকায় প্রায় দিনই লো ভোল্টেজ থাকছে। দিন চারেক ধরে রাত বাড়লেই আলো চলে যাচ্ছিল। পাখা না চলার মতো করে চলছে। গরমে নাজেহাল হচ্ছেন সকলে। শনিবার সেটাই চরমে উঠে। এলাকাবাসীর দাবি, রাত ১০টা থেকে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছিল। এই প্রাণান্তকর গরমে কষ্ট সহ্য করতে না পরে বাধ্য হয়েই পাওয়ার হাউসে এসে ক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। তবে ভাঙচুরের অভিযোগ ঠিক নয় বলে তাঁদের দাবি। 

বাসিন্দাদের আরও ক্ষোভ, আসলে যে ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফর্মার বসানোর কথা, তার থেকে কম ক্ষমতার ট্রান্সফার্মার থাকায় তা ‘লোড’ নিতে পারছে না। সমস্যার উৎস সেখানেই। শহরের মানুষ বলছেন, এই সমস্যা শুধু শ্রীভূমি পল্লিতেই আটকে নেই,  সমন্বয় পল্লি, বারুইপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে। তীব্র গরমে তখন আর মাথার ঠিক রাখা যাচ্ছে না। 

বিদ্যুৎ ছেদের ঘটনা ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে মানলেও তাঁদের তরফে গফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ বিদ্যুৎ দফতরের কর্তারা। বরং গরমে শহরবাসীর নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে এসি মেশিন লাগানোকেই দায়ী করছেন তাঁরা। কর্তাদের বক্তব্য, সিউড়ি শহরে প্রায় ২৮ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এমনিতেই গরম কালে বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বাড়ে। এ বার তো আরও বেড়েছে। শহরের বিশেষ কিছু এলাকা, যেমন ডাঙালপাড়া, সমন্বয়পল্লি, শ্রীভূমি পল্লি, অরবিন্দ পল্লি, রবীন্দ্রপল্লি, সাজানো পল্লিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বাড়িতে বাড়িতে এসি মেশিন বসানো হয়েছে। কেউ কেউ নিজের বাড়িতে একাধিক মেশিন লাগিয়েছেন। কিন্তু, বিদ্যুৎ দফতরে আবেদন করে প্রয়োজনীয় লোড বাড়ানোর বন্দোবস্ত করেননি। কেউ কেই বাড়িতে একের বেশি বাতানুকূল যন্ত্র লাগিয়েছেন। এর ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। রাতের দিকে শহরে ৫ এমভিএ (মেগা ভোল্ট এম্পিয়ার) লোড পড়ছে। যেটা অস্বাভাবিক। তার জেরেই বিভিন্ন এলাকায় সমস্যা হচ্ছে।

শ্রীভূমি পল্লির বাসিন্দারা আবার বলছেন, ‘‘যাঁরা অন্যায় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক দফতর। কিন্তু বৈধ ভাবে বিদ্যুৎ বিল মিটিয়ে কেন আমরা সমস্যায় পড়ব?’’ তাঁদের দাবি, এলাকায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফর্মার না লাগালে সমস্যা মিটবে না। বিদ্যুৎ দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, শ্রীভূমি এলাকায় ট্রান্সফর্মার বসানোর পরিকল্পনা আগেই নেওয়া হয়েছিল। ওই এলাকায় সঙ্কীর্ণ রাস্তায় ট্রান্সফর্মার বসানোর জায়গা না পাওয়ায় সেটা বসানো যায়নি। রবিবারও উপযুক্ত জায়গা খোঁজার চেষ্টা চলছে। ট্রান্সফর্মার বসলে দুর্ভোগ কমবে।