লেন ভেঙে ঢুকে পড়া, নো-এন্ট্রি রাস্তায় যাতায়াত, জোরে মোটরবাইক চালানো, হেলমেট-হীন আরোহীদের দাপাদাপি—জেলাসদর সিউড়ির রাস্তায় এমন ছবি হামেশাই নজরে আসে। শহরবাসীর একাংশের প্রশ্ন, যেখানে ‘স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল’ ব্যবস্থা রয়েছে, সেই শহরে শয়ে শয়ে টোটো, মোটরবাইক, গাড়ি থেকে বাস— রাস্তার নিয়ম মেনে চলার দায় যেন কারও নেই!

জেলা সদরের বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, এমনিতেই জেলাসদরে নিয়ম ‘না মানা’টাই নিয়ম। কিন্তু তাতে রাশ টানতে পারত স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা। কিন্তু তাতেই রয়েছে গলদ। স্বয়ংক্রিয় সে সব সিগন্যালে সারা দিন একই রঙের আলো জ্বলে থাকে। তা-ই কেই সে দিকে তাকান না। সব সময় মিটমিটিয়ে জ্বলে লালচে হলুদ রঙের আলো। পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রাফিক পুলিশকর্মীর অভাব এবং নজরদারিতে ঘাটতি মেটাতে ২০১৭ সালের ১৯ মে  শহরের সব চেয়ে ব্যস্ত মোড়ে স্বযংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করে প্রশাসন। তৎকালীন জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী তার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ছিলেন তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার নীলকান্তম সুধীর কুমারও। প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল, যানজট থেকে শহরবাসীকে মুক্তি এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে সকলকে বাধ্য করা। সে দিন প্রশাসনিক কর্তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত করা হবে স্বয়ংক্রিয় ওই সিগন্যাল ব্যবস্থা।

কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো হয়েছে বলে মত শহরবাসী ও গাড়িচালকদের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, ওই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে কিছু দিন সব ঠিক ছিল। লাল জ্বললে থেমে যাওয়া, নীলচে সবুজে স্বাভাবিক গতিতে এগোনো, লালচে হলুদে গতি কমানোর পাশাপাশি পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্যও নির্দিষ্ট সিগন্যাল ছিল। শহরবাসী ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হচ্ছিলেন তাতে। কিন্তু অভিযোগ, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। 

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা ছিল সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড, প্রশাসন ভবনের সামনে, চৈতালি মোড়, সার্কিট হাউসের সামনে, এসপি মোড় এবং ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের কড়িধ্যা মোড়ে। সার্কিট হাউসের সামনে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাকি চারটির মধ্যে জাতীয় সড়ক লাগোয়া সিগন্যাল ছাড়া শহরের তিনটি  স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালে প্রায় ১ বছর ধরে শুধু লালচে হলুদ রঙের আলো জ্বলছে। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, শহরের মধ্যে একটা অংশে এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় সারাক্ষণ ধীরে চলার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।

তাতেই বিরক্ত শহরবাসী।

শহরবাসী অনেকের অভিযোগ, দিনের ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি থাকলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে রাস্তা। বাকি সময় যে যার মতো পথ চলছেন। পথচারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।  কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তা হলে এমন  সিগন্যাল ব্যবস্থা থেকে কী লাভ?

অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার  শ্যাম সিংহ বলছেন, ‘‘এখন কিছুটা অসুবিধা রয়েছে। তবে ঢেলে সাজানো হবে পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা। শুধু সিউড়ি সদর নয়, রামপুরহাট ও বোলপুরেও একই পদক্ষেপ করা হবে। নীলনকশা তৈরির কাজ চলছে। কাজে হাত পড়বে দ্রুত। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ আর থাকবে না।’’