সরস্বতী পুজোর এক দিন বাদেই মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পুজো মণ্ডপের মাইক, সাইন্ডবক্সের দাপাদাপি শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাবে না তো— প্রশ্ন তুলছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। আদৌ কি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, শব্দ-তাণ্ডব— সংশয় দুই জেলায়।

এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাঁকুড়া জেলায় ৫১ হাজার ২২ জন, পুরুলিয়া জেলায় ৪৫ হাজার ১১৭ জন। দুই জেলায় শহরাঞ্চল থেকে গ্রামের বিভিন্ন ক্লাবে জাঁকজমক ভাবে সরস্বতী পুজো করা হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুজোর দিন তো বটেই, পরের তিন-চার দিনও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা, জলসা ইত্যাদি লেগেই থাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকের দাপটে অনেকে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বার আতঙ্কিত মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মেদিনীপুর আঞ্চলিক অফিসের আধিকারিক শান্তনু রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘পুজোকে ঘিরে যাতে পরীক্ষার মুখে মাইকের দাপাদাপি না হয়, তা প্রশাসনকে দেখতে হবে।’’ 

ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতির পর্যালোচনা করতে এসে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কর্তারা জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সর্তক করে গিয়েছেন। মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার তিন দিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাইক, সাউন্ডবক্স বাজানো যাবে না। 

পর্ষদের প্রতিনিধি পুরুলিয়া জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক দেবাশিস লায়েক বলেন, ‘‘এ বার সরস্বতী পুজোর পিঠোপিঠি মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাই পুজো মণ্ডপগুলোয় মাইকের দাপাদাপি যাতে না হয়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।’’ অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নবকুমার বর্মণ বলেন, ‘‘সাউন্ড বক্স, মাইক যাতে প্রকাশ্যে না বাজানো হয়, সে জন্য প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ 

সামনেই পরীক্ষা থাকায় পুজো কমিটিগুলিও চিন্তায় পড়েছে। তবে, বাঁকুড়া শহরের কিছু পুজো কমিটি আশ্বাস দিয়েছে, তারা এ বার মাইক, সাউন্ডবক্স বাজাবে না। শহরের কলেজ মোড় টেন্ট সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের সম্পাদক সঞ্জয় কুণ্ডু বলেন, ‘‘পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে মণ্ডপের বাইরে সাউন্ডবক্স, মাইক ব্যবহার করব না। শুধু পুজো মণ্ডপের ভিতরেই ছোট্ট একটা বক্স বাজানো হবে।’’ লালবাজার এলাকার দেশবন্ধু ইউথ টেন্টের সম্পাদক রুদ্র চৌধুরীও জানান, তাঁরাও মাইকে গান বাজাবেন না। শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি মাইক ব্যবহার করা হবে। পালিতবাগানের সায়েন্স ক্লাবের সম্পাদক সুব্রত সেনেরও আশ্বাস, তাঁরাও মাইক ব্যবহার করবেন না।

এ দিন পুরুলিয়ার জয়পুর থানায় এলাকার পুজো কমিটি, যাঁরা মাইক ভাড়া দেন এবং ডেকোরেটর্সের মালিকদের ডেকে সতর্ক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাইক বাজানোর অভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাঁকুড়ার জেলা পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, ‘‘মাধ্যমিকের জন্য শব্দ নিয়ন্ত্রণের যে নির্দেশিকা এসেছে, সমস্ত থানাকে তা জানানো হয়েছে। শহরে তো বটেই, গ্রামাঞ্চলেও যাতে মাইক, সাউন্ড বক্স না বাজানো হয়, তা পুলিশ ও সিভিক কর্মীরা নজরে রাখবেন।