লোকসভা ভোটের ফলের পরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শাসক শিবিরের একাংশে। শনিবার বাঁকুড়ায় দলের পর্যালোচনা বৈঠকে এসে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দলীয় পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘পুলিশ কোথাও যদি এফআইআর না নেয়, তাহলে আমাকে জানাবেন। যথাস্থানে পৌঁছে দেব। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে পুলিশ মন্ত্রী, সেখানে আমাদের দলের লোকজন ঘরছাড়া থাকবেন, তাঁদের অভিযোগ নেওয়া হবে না, এটা মেনে নেব না।’’

সূত্রের খবর, পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না বলে কিছু দিন আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কয়েকজন মন্ত্রী। যদিও পরে এবিপি আনন্দের একটি সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী তা মানতে চাননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাঁকুড়া জেলার দু’টি লোকসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের পরে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে শুভেন্দু ওই মন্তব্য করেছেন।

একই সঙ্গে সংগঠনের সংশোধনের দিকেও নজর দিয়েছেন শুভেন্দু। সরকারি প্রকল্প বিলি করা নিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা নিয়েও এ দিন সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘গরিব মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে উপভোক্তা নির্বাচনের সময়ে দলের লোকজনের কথাও গুরুত্ব দিতে হবে। যে লোকটি আপনাকে বুথে ‘লিড’ দেবে, আপনি তাঁর কথা শুনবেন না, এটা হতে পারে না।’’

ভোটে জেতার পরে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে আন্দোলনে নামছে বিজেপি। ব্লক সভাপতিদের কাছে সে কথা শোনার পরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কেউ স্মারকলিপির নামে অবৈধ জমায়েত করলে তা বরদাস্ত করবেন না। পুলিশকে খবর দিয়ে রাখুন, যাতে সেখানে পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা থাকে। তিন-চার জন প্রতিনিধি বাদে আর কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেবেন না। বিজেপির লোকজন কোনও কাজের তথ্য চাইলে দেবেন না। আরটিআই (তথ্য জানার অধিকার আইন) করতে বলবেন।’’

বৈঠকে হাজির ছিলেন টিএমসিপি-র নেতারা। তাঁদের কাছে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ’-র (এভিবিপি) গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ করেন শুভেন্দু। কিছু কলেজের অধ্যক্ষ তাঁদের কথা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে শুভেন্দুর কাছে অভিযোগ করেন কয়েকজন ছাত্র-নেতা। শুভেন্দু তাঁদের বলেন, ‘‘ছাত্র-সংগঠনে মন দাও। তারপরেও এমনটা হলে জানাবেন। আমি দেখব।’’

এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে সিপিএম প্রার্থী যে যাঁদের নিয়ে মিছিল করেছিলেন, শুধুমাত্র সেই লোকগুলিও যদি তাঁকে ভোট দিত, তাহলে তৃণমূল জিতে যেত। এই পরিস্থিতিতে সবাই একজোট হয়ে কাজ করুন। একক ভাবে কেউ কাজ করতে যাবেন না।’’ তাঁর দাবি, সংগঠন শক্তিশালী থাকলে ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়া কঠিন নয়।

বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারের অভিযোগ, ‘‘জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনীতি প্রথম থেকে করে আসছে তৃণমূল। মানুষকে আর ঠকানো যাবে না। বিরোধীদের তথ্য না দেওয়া গণতন্ত্রের উপরে সরাসরি আক্রমণ। আমরা মেনে নেব না। পুলিশকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের যতই দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুক তৃণমূল, মানুষই ওদের পরাস্ত করবে।’’