গণবণ্টন ব্যবস্থায় বেনিয়মের অভিযোগে পুরুলিয়া জেলার দশ জন রেশন ডিলারকে সাসপেন্ড করল জেলা খাদ্য দফতর। পাশাপাশি, জঙ্গলমহলের আরও দুই রেশন ডিলারকে একই অভিযোগে শোকজ় করা হয়েছে। তবে রেশন ডিলারদের সংগঠন সরাসরি অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন সরকারি পরিষেবা কতটা পাচ্ছেন, তা দেখতে সরেজমিন ব্লকে ব্লকে ঘুরছেন জেলাশাসক রাহুল মজুমদার-সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা। সেই সময়েই তাঁদের কাছে অভিযোগ আসে, জঙ্গলমহল এলাকায় গ্রাহকদের সপ্তাহে মাথা পিছু যে দু’কেজি চাল রেশনে দেওয়ার কথা, তা কম দেওয়া হচ্ছে। 

প্রশাসন সূত্রের খবর, তদন্তে জানা যায়, পুরুলিয়া জেলার জন্য যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ, রাজ্য থেকে তার কিছুটা কম চাল আসছিল। সেই ঘাটতির কোপ পড়েছিল গ্রাহকদের ভাগে। রাজ্য খাদ্য দফতরে তা জানানোর পরে সেখান থেকে সরেজমিন তদন্ত হয়। তার পরেই চালের ঘাটতির সমস্যা মিটেছে।

জেলাশাসক জানিয়েছিলেন, চালের ঘাটতির সমস্যা মিটে যাওয়ায় এখন আর গ্রাহকদের কোনও ভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না। খাদ্য দফতর বা গণবণ্টন ব্যবস্থায় যাঁরা জড়িত রয়েছেন, কোন স্তরেই কারও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

ইদানীং গ্রামে গ্রামে রেশন ডিলারদের দোকানে হঠাৎ-পরিদর্শনে জোর দিয়েছেন জেলা খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা। সেই সময়ে কয়েকজন ডিলারের কাজে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসে। খাদ্য দফতর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সে কারণে পুরুলিয়া ১ ব্লকের তিন জন, পুরুলিয়া ২, ঝালদা ২ ব্লকের দু’জন করে এবং বরাবাজার, মানবাজার ১ এবং ঝালদা ১ ব্লকের এক জন করে ডিলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

পুরুলিয়া সদর মহকুমার খাদ্য নিয়ামক বিশ্বজিৎ বর্মন জানান, ওই ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা বেনিয়মের অভিযোগ ছিল। সাসপেন্ড করার পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 

‘ওয়েস্টবেঙ্গল এমআর ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পুরুলিয়া জেলা শাখার সভাপতি আহ্লাদচন্দ্র মাজি বলেন, ‘‘আমাদের দশ জন সহকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। হয়তো দোকানে ভিড় থাকায় সময়মতো ক্যাশমেমো না দিতে পারা বা খাতায় হিসেব না উল্লেখ করার মতো ছোটখাটো কিছু ত্রুটি মিলেছে। তবে কেউই গ্রাহকদের রেশনে মাল কম দিয়েছেন, এ রকম কোনও অভিযোগ নেই। জেলার সমস্ত ব্লকেই আমাদের সদস্যেরা ভাল ভাবেই কাজ করছেন। আমরা সাসপেনশন তুলে নেওয়ার জন্য দফতরকে অনুরোধ করব।’’