খেলার প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল টোটো চালকের বিরুদ্ধে। চলন্ত টোটো থেকে লাফ দিয়ে নেমে সাহসী মেয়েটি নিজেকে বাঁচিয়েছে বলে পরিবারের দাবি। মল্লারপুর থানার কানাচি গ্রাম সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। কিশোরীর বাবার অভিযোগে টোটো চালক ইদেল শেখকে পুলিশ মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বাড়ি মল্লারপুর থানার খরাশিনপুর গ্রামে। 

ওই কিশোরীর বাড়ি মল্লারপুর থানার ভাটগড়িয়া গ্রামে। সে বীরভূম জেলায় স্কুল স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় লং জাম্প এবং জ্যাভলিন থ্রো-এর চ্যম্পিয়ন। তার বাবা, স্থানীয় একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, রোজ দুপুরে বাড়ি থেকে সাঁইথিয়ায় প্রশিক্ষণ নিতে যায় তাঁর মেয়ে। রাতে মল্লারপুর থেকে জ্যাঠা কিংবা জ্যেঠতুতো দাদার সঙ্গে বাড়ি ফিরে। সেই মতো সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মেয়েটি বাড়ি থেকে সাঁইথিয়া বেরিয়েছিল। মল্লারপুর স্টেশন যাওয়ার জন্য গ্রাম ছাড়িয়ে বাহিনা মোড় থেকে কোটাসুর যাওয়ার রাস্তায় মালঞ্চি মোড় সংলগ্ন ধর্মস্থান এলাকায় সে টোটোয় চাপে। 

ওই কিশোরীর অভিযোগ, টোটো চালক কিছু দূর যাওয়ার পরে অন্য পথ ধরেন। মেয়েটি বুঝতে পেরে টোটো চালককে মল্লারপুর স্টেশন যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যেতে বলে। কিন্তু টোটো চালক তা না করে কানাচি এলাকায় ভাড়া আছে বলে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, ‘‘মেয়ে বারবার টোটো চালককে টোটো থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু টোটো চালক মেয়ের কোনও কথা শুনতে চায়নি। এর পরেই মেয়ে বেগতিক বুঝে চলন্ত টোটো থেকে লাফ মারে। তাতে মেয়ের ডান পায়ে চোট লাগে।’’  

কিশোরীর অভিযোগ, টোটো থেকে লাফ দেওয়ার পরে ইদেল শেখ টোটো থামিয়ে তার কাছে থাকা মোবাইল কেড়ে নেয়। জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। সঙ্গে থাকা নগদ কয়েক হাজার টাকা (বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার জন্য নিয়েছিল মেয়েটি) ছিনিয়ে টোটো চালক নিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সময় ভাটগড়িয়া গ্রামেরই বাসিন্দা, সিভিক ভলান্টিয়ার ব্রজগোপাল ভুঁইমালি মল্লারপুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিশোরীর কথায়, ‘‘তাঁকে ঘটনার কথা বলি। দু’জনে মিলে টোটো চালককে খুঁজতেও বেরোই। কিন্তু দেখা না পেয়ে বাড়ি চলে আসি।’’

সোমবার সন্ধ্যায় মল্লারপুর থানায় টোটো চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীটির বাবা। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার খরাশিনপুর গ্রাম থেকে ইদেলকে গ্রেফতার করে।