মাস দেড়েক পরেই পরীক্ষা। তার আগে সংসদ থেকে প্রকাশিত নমুনা প্রশ্নপত্র জোগাড়ে ভোগান্তিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সংসদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্যেই এই দুর্ভোগ।

বিভিন্ন স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের ধাঁচ জানাতে উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের তরফে বিভিন্ন বিষয়ের নমুনা প্রশ্নপত্র প্রকাশ করা হয়। ওই সমস্ত প্রশ্নপত্র সংসদ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বিক্রি করে। এ বছরও সংসদ কার্যালয় থেকে স্কুলগুলিকে বিভিন্ন বিষয়ের নমুনা প্রশ্নপত্রের দাম সহ অন্য তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে সংসদের ওয়েবসাইটেও।

বিভিন্ন স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে—কলা এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্য প্রতিটি বিষয়ের নমুনা প্রশ্নপত্রের জন্য ৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের নমুনা প্রশ্নপত্রের দাম ১০০ টাকা। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সমস্ত নমুনা প্রশ্নপত্র সংসদের বিভিন্ন আঞ্চলিক দফতর থেকে বিক্রি করা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, পরীক্ষার আগে নমুনা প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে ওই সব দফতরে যেতে হচ্ছে। তাতে নষ্ট হচ্ছে সময়। স্কুল কর্তৃপক্ষ বা জেলা শিক্ষা দফতর স্কুলে স্কুলে তা বিলির ব্যবস্থা করলে দুর্ভোগ কমত। তাদের অভিযোগ, সংসদের আঞ্চলিক দফতরের ঠিকানা অনেকের অজানা। সে জন্য পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যেতে হচ্ছে। 

রামপুরহাট শহরের এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘‘দু’জনের যাতায়াত খরচ তো রয়েছেই। নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার সময়ও।’’ অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, নমুনা প্রশ্নপত্র স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হলে পরীক্ষার্থীদের অনেক সুবিধা হতো। 

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির বীরভূম জেলা সম্পাদক অধীর দাস জানান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য নমুনা প্রশ্নপত্র শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক স্ংসদ ওই ব্যবস্থা করেনি। বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নমুনা প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের তালিকা আগাম তৈরি করে দাম মিটিয়ে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির বীরভূম জেলা সভাপতি মহম্মদ নুরুজ্জামানের দাবি—বোলপুর, সিউড়ি, রামপুরহাটে সংসদের ক্যাম্প অফিস রয়েছে। সেখান থেকে নমুনা প্রশ্নপত্র বিলির ব্যবস্থা করতে সংসদের উদ্যোগী হওয়া উচিত। 

উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের বীরভূম জেলার প্রতিনিধি প্রশান্তকুমার দাস অবশ্য জানান, সংসদের ক্যাম্প অফিসগুলি অস্থায়ী। সে জন্য সেখান থেকে বিক্রি না করে সংসদের অফিস দফতর থেকে নমুনা প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয়। তবে আগামী দিনে শিক্ষা দফতরের অফিস থেকে যাতে তা বিতরণ করা যায়, সে বিষয়ে সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। 

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে সংসদ থেকে নমুনা প্রশ্নপত্র বিক্রির বিষয়ে কোনও তথ্য জেলা স্কুলশিক্ষা দফতরকে জানানো হয় না। সে সংক্রান্ত খবর দেওয়া হয় স্কুলগুলিকেই।

সংসদের বর্ধমান আঞ্চলিক অফিসের ডেপুটি সেক্রেটারি শৌভিক ঘড়ুই জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশই তিনি পালন করছেন।