দ্বিতীয় বার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বসে আছে তৃণমূল। আর আটচল্লিশ ঘণ্টা। জেলাশাসক অলকেশপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন, বুধবার পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন হবে। কিন্তু তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যেরা এখনও জানেনই না, কে বসতে চলেছেন সভাধিপতির কুর্সিতে। দলের অন্দরে এখন সবাই থমথমে মুখে। নীচুতলার কিছু কর্মীদের কেউ বলাবলি করছেন, তেলমাখা বাঁশ আর বাঁদরের অঙ্কে উত্তর মেলাতে পারছেন না মনে হয়। আর সদস্যদের একাংশ আড়ালে বলছেন, ‘‘জেলা পরিষদে টিকিট পাওয়া নিয়ে যেমন দড়ি টানাটানি হয়েছিল, বোর্ড গঠনের আগে সেই উত্তেজনাটাই আবার ফিরে এল।’’ উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিরোধী শিবিরেও। কুর্সিতে কে বসছেন, সেটা নিয়ে খোঁজ খবর নিতে শুরু  করেছে তারা। 

গত বার দলনেত্রী বোর্ড গঠনের অনেক আগেই পুরুলিয়ার জেলা সভাধিপতি হিসেবে সৃষ্টিধর মাহাতোর নাম ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। এ বার বোর্ড তৈরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নতুন সভাধিপতির নাম সামনে না আসায় জল্পনা উঠেছে তুঙ্গে। তৃণমূল সূত্রের খবর, নির্বাচিত সদস্যদের অনেকেই আবার দলের জেলাস্তরে, এমনকি কলকাতায় নেতাদের কাছে খোঁজ নিতে শুরু করেছেন। দলের জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠদের ফোনও বেজেই চলেছে। আগে সরাসরি জিজ্ঞাসা ছিল— কার কপালে শিকে ছিঁড়ছে। এখন প্রশ্নের ধরনটা বদলে গিয়েছে। ফোনে এ কথা সে কথার মাঝে জানতে চাইছেন, ‘‘বুধবারের কোনও খবর আছে নাকি?’’

অন্দরের খবর কী? কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ভোটের ফল বেরনো ইস্তক দলের বিভিন্ন শিবির থেকে সভাধিপতি পদের দাবিদার হিসেবে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছিল। এ বারে সভাধিপতির পদটি সংরক্ষিত নয়। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দলের তরুণ এক নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমন কথা শোনা গিয়েছিল প্রথমে। কিন্তু বলরামপুরে দলের জেলা পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পরে পুরনো কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সদস্যের মধ্যে কানাঘুষো শুরু হয়। জল্পনায় যাঁরা এগিয়েছিলেন, এমন অনেকেই সম্ভাবনার অঙ্কে পিছনের সারিতে চলে যান। 

দল সূত্রের খবর, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একাংশ সভাধিপতির কুর্সিতে নবাগত এক সদস্যকে বসানোর জন্য সচেষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁদের তরফে বলা হচ্ছে, ওই সদস্য প্রশাসন পরিচালনায় অভিজ্ঞ। অন্য দিকে নির্বাচিত সদস্যদের আর একটা অংশ চান ওই পদে দলের ‘সিনিয়র’ কেউ আসুন। শেষ পর্যন্ত কুর্সি কার হবে সেটা এখনও অজানা। দলের জেলা পরিষদের এক সদস্যের কথায়, ‘‘যিনিই দায়িত্ব নিন, খবরটা আগে জানতে পারলে 

ভাল হত।’’

তৃণমূলের জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটা দলনেত্রী নিজে ঠিক করবেন। বেশ কয়েকটি নাম বিবেচনায় রয়েছে। ঠিক সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’’