নোট বাতিলের পক্ষে তথ্যভিত্তিক যুক্তি শোনা গেল না। তার বদলে স্লোগানের মতো জারি হল সংক্ষিপ্ত বার্তা: ‘এতে কালো টাকা খতম হবে।’ তার সঙ্গে এক দিকে সমালোচনার প্রতি ক্ষমতাবানের চেনা অসহিষ্ণুতা, অন্য দিকে ঘোলা জলে মাছ ধরতে বিরোধীদের পরিচিত আকচাআকচি।

২০১০ সালে কমনওয়েলথ ক্রীড়ার সময় দিল্লির বাস পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। আমি তখন দিল্লিতে ছিলাম, বিরল ঘটনাচক্রে দেখা হয়েছিল ভারত সরকারের এক অত্যুচ্চ আধিকারিকের সঙ্গে। কথায়-কথায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, শহরের সব বাস বন্ধ থাকায় লোকের অসুবিধা হচ্ছে না? প্রশ্নটা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বললেন, নট অ্যাট অল, দিল্লির সব লোকের গাড়ি আছে।

নোট-বাতিলের রঙ্গে ভদ্রলোকের কথা মনে পড়ে গেল। দেশসুদ্ধ মানুষ আজ টের পাচ্ছে, আমাদের ভাগ্যনির্ধারক মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী— নেতা-মন্ত্রী হন আর আমলাই হন— জনজীবন থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন। পছন্দমত রিপোর্ট-পরিসংখ্যান সাজিয়ে, রাজনৈতিক তাগিদে সেই হিসাবও রেখেঢেকে কারিকুরি করে, একটা মনগড়া ছক তাঁরা কষতে পারেন, সদিচ্ছাও থাকতে পারে। বাস্তব সমাজে সেটা চাপিয়ে দিলে কী দাঁড়ায় তা মালুম হলে তাঁরা দিশাহারা হয়ে পড়েন, যে এলেবেলে লোকগুলোর জন্য ঘুঁটি কেঁচে গেল তাদের উপর রুষ্ট হয়ে ওঠেন। শুধু মড়া কেটে ডাক্তার হওয়া যায় না, জীবন্ত রোগীর নাড়ি টিপতে হয়। দেশবাসীর নাড়ি বোঝার ক্ষমতা আমাদের সর্বোচ্চ শাসককুলের আছে কি?

এই লেখা নোট-বাতিলের অর্থনীতি নিয়ে নয়; সে আলোচনা আমার দখলের বাইরে। নোট-বাতিল ঘিরে আমাদের প্রশাসন ও রাজন্যগোষ্ঠীর যে অস্বাচ্ছন্দ্য ও অপরিণামদর্শিতা ফুটে উঠেছে— আরও বড় কোনও সঙ্কটে (সর্বোপরি, ভগবান না করুন, যুদ্ধ বাধলে) যা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে— তা নিয়ে এক সাধারণ নাগরিকের উদ্বেগ প্রকাশ করছি মাত্র। যে-কোনও সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু লোক প্রশাসনিক অব্যবস্থার শিকার হন, বাকিরা নিরাপদ দূরত্বে টিভির পর্দায় দেখি বা আদৌ জানতে পারি না। এ বার দেশজোড়া মানুষের একযোগে আলোকপ্রাপ্তির সুযোগ ঘটল। অবস্থা নিশ্চয় ক্রমে স্বাভাবিক হবে। তত দিনে স্থায়ী ক্ষতি ঘটে যাবে অপেক্ষাকৃত অল্প লোকের জীবনে। বাকিরাও যেন অভিজ্ঞতাটা মনে রাখি, এই শিক্ষালাভ থেকে সরকারের বাস্তব দক্ষতার একটা স্থায়ী দাবি গড়ে তুলি।

সাধারণ মানুষ স্বভাবতই কালো টাকার বিরোধী। বিরোধী বলেই এত দুর্ভোগ সত্ত্বেও তাঁরা অসামান্য ধৈর্য ও শুভবুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছেন। সারা দেশ মিলিয়ে যেটুকু হিংসা-হামলা ঘটেছে, রাজনৈতিক গুণ্ডাদের তাণ্ডবে একটা মহল্লায় এক দিনে তার চেয়ে বেশি ঘটে। ভারতবাসী সংযত, যদিও তাঁরা জানেন নোট বাতিলে ঘা খেল কালো অর্থনীতির নেহাত ক্ষুদ্র শরিক, বড়জোর কিছুমাত্রায় মেজ-সেজর দল। সংযত, যদিও এই অভিযানের ফলে দেশের আটপৌরে আর্থিক জীবনে প্রবল বিঘ্ন ঘটেছে, বহু কোটির রুজিরোজগার ও আরও বহু কোটির অত্যাবশ্যক চাহিদা বিপর্যস্ত হচ্ছে।

আমাদের বাজারি লেনদেনের অনেক প্রধান শাখা (যেমন খাদ্যদ্রব্যের বাণিজ্য) মূলত নগদ টাকায় চলে। তার একটা অনির্দিষ্ট অংশ নিশ্চয় কালো টাকা, কিন্তু ক্ষেত্রগুলিকে ‘কালো’ বলার প্রশ্ন নেই: সেগুলি আমাদের জীবনযাত্রার স্বীকৃত, প্রায়ই অত্যাবশ্যক অংশ। এগুলি ঝেড়ে–ধুয়ে আরও সাদা করার যথেষ্ট উদ্যোগ আগে হয়েছে কি? তার বদলে আচমকা সব লেনদেন জোগান আমদানি বন্ধ করা কি অনিবার্য ছিল? এক সপ্তাহ দেরিতে ছোট ব্যবসা ও কৃষিকার্যের জন্য যে বরাদ্দ ঘোষণা হয়েছে, সেটা কি গোড়াতেই করা যেত না? কখন ফসল বোনা হয় কাটা হয়, ছোটবড় কৃষক কখন কী টাকা খরচ করেন বা ঘরে তোলেন, কৃষিপ্রধান দেশের কর্তারা সে খবর রাখেন না? যে প্রধানমন্ত্রীর জীবন শুরু চা বিক্রি করে, তাঁর সরকার জানে না ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র ঋণে নগদ এখনও অপরিহার্য? যে-সব কারবারের সঙ্গে দেশবাসীর নাড়ির যোগ, নগদের ফাঁদ থেকে তাদের মুক্তি দেওয়ার কোনও ব্যাপক প্রচেষ্টা চালু হয়েছে কি?

এ দিকে এমন পরিস্থিতিতে যে খুচরো দালালের দল নোটবদলের লাইনে ভিড় জমাবে, তাও কি অজানা ছিল? যে ‘জনধন প্রকল্প’ এই সরকারের একটা সত্যিকারের সদর্থক উদ্যোগ বলে আমরা ভেবেছিলাম, সেটার অপব্যবহারের সম্ভাবনা বোঝা যায়নি? এখন যদি হাইজ্যাক-করা জনধন আমানত নিয়ে নাড়াচাড়া হয়, তবে ব্যাংক ব্যবহারে অনভ্যস্ত সব গ্রাহকের মনে নতুন করে ভীতি ও অনাস্থা জন্মে পুরো প্রকল্পটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ রকম নানা প্রশ্ন সর্বোচ্চ বিচারপতিরা তুলেছেন, সাধারণ নাগরিকের মনের কথা ব্যক্ত করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ কেবল একটা সমস্যাই বিস্তারে দেখা যাক— শুধু মানবিক মাত্রার জন্যই নয়, সম্ভাব্য আর্থিক মাত্রার জন্যও: তা হল বেসরকারি চিকিৎসা ক্ষেত্রে পুরনো নোট ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া। পরিণামে অন্তত দুটি শিশুমৃত্যু ঘটেছে। কত রোগীর স্থায়ী স্বাস্থ্যহানি হল, পরিজনের দুর্ভোগ কতগুণ বৃদ্ধি পেল সে হিসাব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু নোটকাণ্ডে কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম সদিচ্ছার প্রমাণস্বরূপ এ বিষয়ে একটা জবানবন্দি দাবি করতেই হয়।

অর্থমন্ত্রী থেকে স্টেট ব্যাংকের প্রধান, সকলেই সরল বিধান দিয়েছেন: কেন, জনে-জনে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মালিক, হাসপাতালগুলিও কার্ডে লেনদেন করে, অসুবিধা কোথায়? গ্রহান্তরের মানুষের সঙ্গে ভাববিনিময় সহজ নয়, তবু সত্যজিৎ রায়ের বঙ্কু মাস্টারের ঢঙে দুটো প্রসঙ্গ তুলি। আজ অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে জানা যাচ্ছে, বহু তথাকথিত গরিব লোকের এক বা একাধিক ব্যাংকের খাতা; কিন্তু প্রায়শ কার্ড নেই, কার্ড ব্যবহারে তাঁরা অক্ষম বা সন্দিহান, তল্লাটে কার্ড ব্যবহারের সুযোগও নেই। সমগোত্রীয় বা আরও সচ্ছল বহু লোক ব্যাংকের খাতা খোলেননি। সেটা অবশ্যই তাঁদের অজ্ঞতা বা গ্রাম্যতার লক্ষণ; একই সঙ্গে কিন্তু অর্থপ্রশাসনের ব্যর্থতা, ব্যর্থতা ব্যাংক ব্যবস্থার জনমুখী প্রসারে। আর অবশ্যই ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার: স্বাধীনতার প্রায় সত্তর বছর বাদে ভারতীয় নাগরিকদের বৃহৎ অংশ প্রায় পরিকল্পিত অবহেলায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, যাতে তাদের আত্মপ্রত্যয় বা আধুনিক জীবনযাত্রার ইচ্ছা গড়ে না ওঠে।

অপর প্রশ্নটা হাসপাতাল নিয়ে। উচ্চবর্গীয় বেসরকারি হাসপাতালে লেনদেন হয় কার্ড, চেক বা ক্যাশলেস ব্যবস্থায়। কিন্তু পাড়ায়-পাড়ায়, মফস্সল শহর জুড়ে জাঁকিয়ে আছে মাঝারি থেকে ক্ষুদ্র মাপের চিকিৎসালয়, যা কার্ডের মুখ দেখে না, অনেকগুলি হয়তো নথিভুক্তই নয়। গরিব থেকে মধ্যবিত্ত লোকে এদের শরণ নেন, হয়তো ধারকর্জ করে বা পাঁচ জনের টাকা একত্র করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর কোনও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই, না চিকিৎসাগত না আর্থিক। তৎসত্ত্বেও এগুলি প্রায়ই রোগীর একমাত্র অবলম্বন; অনেকগুলি নিশ্চয় সৎ ভাবে, এমনকী মহৎ ভাবে পরিচালিত হয়। সবগুলির আয়ের কর একশো শতাংশ জমা পড়ে, এমন দাবি কেউ করবে না।

একটু অনধিকারচর্চা করব, ভুল হলে অর্থবিদরা শুধরে দেবেন। গোদা বুদ্ধি বলে, যদি বেসরকারি হাসপাতালে বাতিল নোট দেওয়া চলত, এবং সৎ প্রতিষ্ঠান কর্তব্যবশে ও অসৎ প্রতিষ্ঠান নিদেন হামলার ভয়ে তা গ্রহণ করত, সেই টাকার বৃহদংশ (হয়তো সেই সঙ্গে পূর্বে সঞ্চিত টাকাও, চলতি রোজগার হিসাবে দেখিয়ে) ব্যাংকে জমা পড়ত, কর আদায় হত, টাকাটা স্বীকৃত অর্থব্যবস্থার আওতায় আসত। তার বদলে ধরে নেওয়া চলে, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান একশো টাকার নোটই কালোর গহ্বরে ঠেলে দিল, বাড়িয়ে দিল একশোর নোটের আকাল।

এই অনুমান ভুল হতে পারে, কিন্তু সাধারণ লোকের দ্বিধা দূর করাও রাজধর্মের অঙ্গ। রাজপুরুষেরা এই কর্তব্য পালন করছেন দায়সারা বাঁধা বুলিতে, চক্ষুকর্ণের বিবাদ ঘটিয়ে। রাস্তায় বেরিয়ে আমরা দেখলাম একশোটা এটিএমের আশিটা খালি, ব্যাংকে দু’ঘন্টা লাইন দিয়ে জানলাম টাকা আসতে আরও দু’ঘন্টা; অথচ বাড়ি ফিরে টিভিতে শুনলাম নোটের জোগান একেবারে স্বাভাবিক। সরকারি মুখপাত্র মিথ্যাভাষণ করছেন না; তিনি বলছেন চালু নোটের মোট অর্থমূল্যের কথা, জনগণের চিন্তা তার সংখ্যা ও লভ্যতা নিয়ে। ফলে সরকার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে, সমাজের পক্ষে যা ঘোর অমঙ্গল।

এটাই সবচেয়ে দুঃখ ও উদ্বেগের কথা, যে সরকার নাগরিক সমাজের কাছে এত বড় আলোড়নের কোনও বিশদ ব্যাখ্যা দিলেন না; দিলেন না সবিস্তার যুক্তি বা পরিসংখ্যান, কেন কালো টাকা উদ্ধারে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। অপর দিকে সত্যিই যুক্তিতথ্য সাজিয়ে, বিভিন্ন কারণে ও মাত্রায় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একাধিক বিশিষ্ট অর্থবিদ ও অর্থপ্রশাসক মত দিয়েছেন। নোট-কাণ্ডের স্বপক্ষেও নিশ্চয় জোরালো যুক্তি আছে। তার স্বচ্ছ তথ্যভিত্তিক বিবরণ পেলে আমরা উপকৃত ও আশ্বস্ত হতাম; ভাবতাম, অর্থনীতির প্রশাসনিক প্রয়োগে ভারতের গৌরবময় ঐতিহ্য আজও উজ্জ্বল। তার বদলে দেখলাম, ‘এতে কালো টাকা খতম হবে’ এই সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রায় স্লোগানের মতো জারি হল; তাতে পেট না ভরলে জুটল গরম-গরম রাজনৈতিক ভাষণ, সমালোচনার প্রতি ক্ষমতাবানের চিরাচরিত অসহিষ্ণুতা, ঘোলা জলে মাছ ধরতে বিরোধীদের চিরাচরিত আকচাআকচি।

তারও বেশি যা জুটছে তা সবচেয়ে চিন্তার কারণ। বেফাঁস মুহূর্তে (না কি পরিকল্পিত বাক্যচ্যুতিতে?) শাসকদলের বিভিন্ন সদস্য বলে বসছেন সমালোচকরা সবাই কালো টাকার কারবারি, লাইন দিয়ে নাস্তানাবুদ সব মানুষও তা-ই। এক সাংসদ এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এই হয়রানি, ক্ষতি, মায় মৃত্যু হল কালো টাকার সঙ্গে যুদ্ধে আনুষঙ্গিক খেসারত, ‘কোলেটরাল ড্যামেজ’।

‘কোলেটরাল ড্যামেজ’ কথাটা মার্কিন যুদ্ধবাজদের সৃষ্টি: অর্থ, শত্রু নিকেশ করতে গিয়ে নিরপরাধ লোকের গ্রহণযোগ্য প্রাণহানি। যুদ্ধবাজরাও কথাটা স্বদেশবাসীদের সম্বন্ধে প্রয়োগ করে না। সাংসদ মহাশয়ের বক্তব্য আমাদেরও বক্তব্য— কালো টাকা ধ্বংস করতে আমাদের কিছু ক্ষতি স্বীকার করতে হবে। তবু বলছি, তাঁর শব্দচয়নে শিউরে উঠছি।

শিউরে উঠছি আর একটা কথা ভেবে, যদিও পুরো নোটকাণ্ডের এটাই আপাতভাবে ইতিবাচক দিক। কিছু মৌলিক বিচারে নোটবদল-পালা আশ্চর্য ভাবে মসৃণ ও সফল। এমন দেশ-কাঁপানো সিদ্ধান্ত গোপনে সম্পন্ন করা, এত নতুন নোট সমান গোপনে সুষ্ঠু ভাবে ছাপানো, অমানুষিক চাপের মধ্যে ব্যাংক পরিষেবা চালু রাখা— এগুলি কম সাফল্য নয়। অর্থাৎ কোনও জরুরি তাগিদে, বিশেষত তার পিছনে রাজনৈতিক বাধ্যতা থাকলে, আমাদের শাসনযন্ত্র সজাগ ও সক্রিয়; ঘাটতি কেবল মানবিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষায়। অপরাধী দমনে, এমনকী নিছক সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে, শেষোক্ত নীতি দুটি লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ ওঠে; তামাম নাগরিকের প্রতি সেই অসহিষ্ণু অবজ্ঞার প্রকাশ অবশ্যই আরও বেশি উদ্বেগজনক। তাই বলেছিলাম, নোটবদল-কাণ্ড দেশের সার্বিক রাজা-প্রজা সম্পর্কের একটা সম্যক ধারণা করার বিরল সুযোগ।

রাজার না হয় রাজশক্তি আছে, প্রজার সম্বল কী? কাল হোক পরশু হোক, প্রধানমন্ত্রীর কথামত পঞ্চাশ দিনেই হোক, নোটের অভাব মিটে যাবে। আরও মৌলিক যে দৈন্য এই সঙ্গে প্রকট হয়ে পড়ল, সেটা অত সহজে মেটার নয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমেরিটাস অধ্যাপক