Advertisement
E-Paper

পুঁজিপতিরা বাঁচবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের বিপদ

মূল আলোচনায় ঢোকার আগে এফ আর ডি আই-এর পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে দু’চার কথা। এটা অনেকেরই অজানা নয় যে, বেশ কিছু দিন ধরেই ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অনাদায়ী ঋণের বোঝায় জেরবার হয়ে রয়েছে।

অভিরূপ সরকার

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ০০:১৪

ব্যা ংক এবং দেশের অন্যান্য মৃতপ্রায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নতুন জীবন দেওয়ার জন্য বা তাদের মৃত্যুর প্রক্রিয়াটি যন্ত্রণাহীন ও আইনগত ভাবে নিষ্কণ্টক করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় একটি বিল এনেছে। বিলটির নাম ‘ফিনানশিয়াল রেসোলিউশন অ্যান্ড ডিপোজিট ইনশ্যুয়রান্স বিল, ২০১৭’, সংক্ষেপে ‘এফ আর ডি আই’। নাম থেকেই টের পাওয়া যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাস্থ্যরক্ষা বা অবস্থাগতিকে পারলৌকিক ক্রিয়া সুসম্পন্ন করা ছাড়াও বিলটির ঘোষিত উদ্দেশ্য ডিপোজিট ইনশ্যুয়রান্স-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা। কিন্তু নামে স্বার্থরক্ষা হলেও, বিলটি ভাল করে পড়লে বোঝা যাবে, এতে এমন কিছু প্রস্তাব আছে যা আমানতকারীদের পক্ষে মারাত্মক। বস্তুত, বিলটি আইনে পরিণত হলে এবং সেই আইনের অপপ্রয়োগ ঘটলে সাধারণ মানুষ তাঁদের ব্যাংকে রাখা সারা জীবনের সঞ্চয় খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন। তাই এই বিলটির ব্যাপারে সকলেরই ওয়াকিবহাল থাকা দরকার।

মূল আলোচনায় ঢোকার আগে এফ আর ডি আই-এর পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে দু’চার কথা। এটা অনেকেরই অজানা নয় যে, বেশ কিছু দিন ধরেই ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অনাদায়ী ঋণের বোঝায় জেরবার হয়ে রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশের বিধিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মোট অনাদায়ী ঋণ বা নিষ্ফল সম্পদ (যার ইংরেজি নাম নন পারফর্মিং অ্যাসেট) ১০ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। মোট নিষ্ফল সম্পদের ৬০ শতাংশই আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিতে রয়েছে। অপর পক্ষে, মোট নিষ্ফল সম্পদের এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা, মাত্র বারোটি সংস্থা ঋণ হিসেবে নিয়েছিল, যা তারা ফেরত দেয়নি। অর্থাৎ ২৫ শতাংশ নিষ্ফল সম্পদের জন্য দায়ী মাত্র বারোটি বৃহৎ অধমর্ণ। বাকি ৭৫ শতাংশ অনাদায়ী ঋণেও বড়দেরই প্রাধান্য। দেখা যাচ্ছে, ছোট ঋণগ্রহীতারা মোটের ওপর ঋণ নিয়ে ফেরত দিয়ে দিচ্ছেন।

অবশ্য এটা সত্যি যে, গত সাত-আট বছর ধরে পৃথিবীব্যাপী মন্দা চলেছে, যার কবল থেকে আমাদের দেশও পুরোপুরি মুক্তি পায়নি। মন্দার কারণে বিশ্ব জুড়ে নির্মাণ প্রকল্পগুলি এক এক করে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং এর ফলে সব থেকে মার খেয়েছে ইস্পাত শিল্প। ইস্পাত শিল্পের সংকট আমাদের আর্থিক বাজারেও ছায়া ফেলেছে, সন্দেহ নেই। যে বারোটি ঋণখেলাপী সংস্থার উল্লেখ করেছি, তাদের অধিকাংশই ইস্পাত তৈরি করত। কাজেই কেউ বলতেই পারে, বড় পুঁজিপতিদের ষড়যন্ত্র নয়, বিশ্ব বাজারে মন্দার ফলেই বৃহৎ আকারে ঋণখেলাপ ঘটেছে। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। প্রথমত, মন্দার ফলে ঋণখেলাপি ইস্পাত কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু কোম্পানির মালিকরা কোম্পানি থেকে তাদের নিজস্ব বিনিয়োগ মোটা মুনাফা সমেত আগেই সরিয়ে নিয়ে দিব্য গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বস্তুত, টাকা সরিয়ে নেওয়ার ফলে বহু ক্ষেত্রে ঋণখেলাপ তরান্বিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইস্পাত শিল্পের বাইরেও ঋণখেলাপ ঘটেছে এবং সেখানে বড় পুঁজিপতিদেরই প্রাধান্য।

সে যা-ই হোক, ব্যাংকগুলির অনাদায়ী ঋণ জনিত সমস্যা সমাধানের জন্য ইদানীং ২০১৬ সালে চালু হওয়া ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্সি কোড, সংক্ষেপে আই বি সি, নামক আইন এবং ২০১৬ সালের জুন মাসে নবগঠিত ন্যাশানাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল, সংক্ষেপে এন সি এল টি, নামক কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে এন সি এল টি-র ১১টি শাখা ভারতের বিভিন্ন শহরে কাজ করছে। যে বারোটি বৃহত্তম ঋণখেলাপি কোম্পানির কথা উপরে উল্লেখ করেছি, রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী তারা সকলেই এখন এন সি এল টি-র বিচারাধীন। এন সি এল টি প্রথমে দেখবে উত্তমর্ণদের সঙ্গে একটা সমঝোতায় এসে কোম্পানিগুলোকে আবার চালু করা যায় কি না। যদি নেহাতই সেটা সম্ভব না হয়, তা হলে কোম্পানিকে বন্ধ করে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোম্পানির যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে যতটুকু সম্ভব দেনা মেটানো হবে।

কিন্তু এন সি এল টি যতই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করুক, এটা পরিষ্কার যে, সমাধান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাংক ইত্যাদি উত্তমর্ণরা তাদের প্রাপ্য টাকার একটা ভগ্নাংশ মাত্র ফেরত পাচ্ছে। এই কারণে গুরুতর ভাবে ভেঙে পড়ছে তাদের স্বাস্থ্য। ফলে আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিরও পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজন ঘটছে। ক্ষেত্র বিশেষে, যেখানে স্বাস্থ্য এতটাই ভেঙে গেছে যে তার আর উদ্ধার সম্ভব নয়, আর্থিক সংস্থাটাকে পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া দরকার হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে যেমন অধমর্ণদের জন্য এন সি এল টি, তেমনি উত্তমর্ণদের জন্যও একটা কর্তৃপক্ষ এবং একটা আইনি পরিসর দরকার হচ্ছে, যা দিয়ে রুগ্ণ আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সমস্যার সমাধান করা যাবে। এই উদ্দেশ্যেই প্রস্তাবিত হয়েছে এফ আর ডি আই বিল।

রুগ্ণ আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য এবং যে আমানতকারীরা এই সব সংস্থায় টাকা রেখেছেন, তাঁদের স্বার্থরক্ষার জন্য এফ আর ডি আই বিলে একটি কর্পোরেশন বা নিগম গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গঠন করবে কেন্দ্রীয় সরকার, নাম রেসোলিউশন কর্পোরেশন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা ছাড়াও রিজার্ভ ব্যাংক, সেবি ইত্যাদি নিয়ামকদের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

অতীতে আমরা দেখেছি, একটা আর্থিক সংস্থা, বিশেষ করে রাষ্ট্রের অধীন কোনও সংস্থা, যখন রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছে, তখন সরকার এগিয়ে আসছে, তাকে নতুন পুঁজি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করছে। এটা শুধু ভারত নয়, সারা পৃথিবীর অলিখিত নিয়ম। এর পোশাকি নাম ‘বেল আউট’। এফ আর ডি আই প্রস্তাবিত রেসোলিউশন কর্পোরেশন কিন্তু বেল আউটের পথে আদৌ হাঁটবে না। নিগমের লক্ষ্য হবে রুগ্ণ আর্থিক সংস্থাটির আর্থিক দায়গুলো ঠিকমত সামলে তাকে বাঁচিয়ে তোলা। এর জন্য প্রস্তাবিত বিলে বেল আউটের বদলে ‘বেল ইন’ বলে একটা অভিনব ও মারাত্মক উপায় উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বর্তমানে ধরে নেওয়া হয় যে, কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে টাকা রাখলে সেই টাকা সুদ সমেত ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এফ আর ডি আই বিল এটাকে বদলে দিতে চাইছে। বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, রেসোলিউশন কর্পোরেশনের হাতে ক্ষমতা দেওয়া থাকবে একটা রুগ্ণ আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার আর্থিক দায়গুলো সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়ার বা দরকার মতো তাদের রদবদল ঘটানোর। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘বেল ইন’। কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আর্থিক দায়গুলো আইনত বাতিল করে দিলে বা তার রদবদল ঘটালে সরকারের এই দায় নিয়ে আর কোনও দায়িত্ব থাকবে না। এই মারাত্মক প্রস্তাবের নিহিতার্থটা ভাল করে বোঝা দরকার।

ধরা যাক, আমানতকারী এমন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে টাকা রেখেছে যে ব্যাংক জমে ওঠা বিপুল অনাদায়ী ঋণের কারণে রুগ্ণ হয়ে গেছে। ব্যাংকটিকে চাঙ্গা করার জন্য বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী নিগমের হাতে অনেকগুলি বিকল্প থাকছে। এক, নিগম চাইলে আমানতকারীর সঙ্গে ব্যাংকের সুদসহ টাকা ফেরত দেবার চুক্তিটা সম্পূর্ণ বাতিল করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমানতকারী তার জমা টাকার এক পয়সাও ফেরত পাবেন না। দুই, নিগম আমানতকারীকে টাকার বদলে ব্যাংকের শেয়ার নিতে বাধ্য করতে পারে, যদিও সকলেই জানে সেই শেয়ারের দাম কানাকড়িও নয়, যেহেতু ব্যাংকটি রুগ্ণ হয়ে গেছে। তিন, নিগম চাইলে চুক্তির শর্ত বদলে আমানতের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারে অথবা সুদের হার কমিয়ে দিতে পারে। চুক্তিটাই যখন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা নিগমের থাকছে, তখন রুগ্ণ সংস্থাকে পুনরুজ্জীবনের দোহাই দিয়ে আরও অনেক কিছুই করা সম্ভব।

এর পাশাপাশি অবশ্য আমানতকারীদের আমানত বিমা নির্ধারণের ক্ষমতাও নিগমের হাতে থাকছে। অনেকেই হয়তো জানেন না, বর্তমানে ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের ওপর সর্বোচ্চ বিমার পরিমাণ এক লক্ষ টাকা। অর্থাৎ কোনও আমানতকারীর এক কোটি টাকা আমানত থাকলেও তার আমানত বিমার পরিমাণ এখন এক লক্ষের বেশি নয়। নিগম ইচ্ছে করলে এই বিমার পরিমাণ খানিকটা বাড়াতেও পারে, আবার চাইলে কমাতেও পারে। এটাকেই আমানতকারীর স্বার্থরক্ষা বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিমা বাড়লেও কতটা বাড়তে পারে? বিশেষ করে তার বদলে যদি আমানত ফেরত পাওয়ার অলিখিত সরকারি নিশ্চয়তাটি উধাও হয়ে যায়, যদি আমানতের মৌলিক নিরাপত্তাটাই না থাকে, তা হলে লাভ কী হল?

বিল পাশ হলে, সাধারণ মধ্যবিত্ত, যাঁদের সামান্য পুঁজি, সামান্য সঞ্চয়, যাঁরা ঝুঁকি না নিয়ে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জমা রাখতে অভ্যস্ত, ব্যাংকে রাখা জমা টাকা ক’টাই যাঁদের অবসর জীবনের সম্বল, তাঁদের আর কোনও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থাকবে না। উপরন্তু, সাধারণ মধ্যবিত্তকে অসৎ পুঁজিপতিদের দুষ্কর্মের বোঝা বইতে হবে। অসৎ পুঁজিপতি ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেবেন না, ফলে রুগ্ণ হয়ে পড়বে ব্যাংক আর সেই রুগ্ণতার দায় গিয়ে পড়বে সাধারণ আমানতকারীর ঘাড়ে। তাদের রক্ত জল করা সঞ্চয় মেরে দিয়ে ব্যাংকের পুনরুজ্জীবন ঘটানো হবে। এমন অন্যায় আগে কখনও শোনা যায়নি।

প্রশ্ন উঠতে পারে, আমানতকারীর টাকা বাজারে ধার দিয়ে যে ঝুঁকি ব্যাংক নিচ্ছে সেই ঝুঁকির একটা অংশ আমানতকারী নিজে বহন করবেন না কেন? বিশেষ করে, ব্যাংকে টাকা রেখে আমানতকারী যখন সুদ পাচ্ছেন। এই প্রশ্নের একাধিক উত্তর। প্রথমত, ব্যাংক চাইলে পরস্পর সম্পর্কহীন আলাদা আলাদা প্রকল্পে টাকা ধার দিয়ে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পারে। সব প্রকল্প তো আর এক সঙ্গে ডুববে না। অর্থশাস্ত্রে এর নাম পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন। কিন্তু বাস্তবে যখন দেখছি ঝুঁকি যথেষ্টই থাকছে এবং জমে উঠছে অনাদায়ী ঋণের পাহাড় তখন ধরে নিতে হবে এটা ব্যাংকের অদক্ষতা, নিয়ামকের ব্যর্থতা আর সবার ওপরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অসাধু বোঝাপড়ার ফল। এর বোঝা আমানতকারী কেন বইবেন? দ্বিতীয়ত, ব্যাংক আশাতীত লাভ করলে তার ভাগ তো আমানতকারী পাচ্ছেন না, তা হলে ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হলে তার দায় আমানতকারী নেবেন কেন? সব থেকে বড় কথা, আমাদের দেশে সামাজিক সুরক্ষা বলে প্রায় কিছুই নেই। তাই এখানে সরকারকে এগিয়ে এসে আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে। দরকার পড়লে, বেল আউটের মাধ্যমে। বেল আউট প্রথা তো ধনতন্ত্রের পীঠস্থান আমেরিকাতেও আছে।

আর একটা কথা। ব্যাংক আমানতে নিরাপত্তা না থাকলে সাধারণ মানুষ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হবেন আর এতেও পুঁজিপতিদের লাভ। শেয়ার বাজারে বাড়তি বিনিয়োগ হলে, দশ টাকার শেয়ার বিক্রি হবে একশো টাকায়। ফলে যে পুঁজিপতিদের হাতে কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ার, তাঁরা রাতারাতি দশ গুণ বড়লোক হয়ে যাবেন। সব মিলিয়ে মনে হয়, এই বিলটি যেন বড় পুঁজিপতিরাই খসড়া করেছেন। সরকারি মুখপাত্ররা অবশ্য বলছেন, এ সব কিছু ঘটানো বিলের উদ্দেশ্য নয়, শুধু সাধারণ আমানতকারীদের নিরাপত্তা দেওয়াটাই এই বিলের লক্ষ্য। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে, যদি ব্যবহারই না করা হবে, তা হলে বেল ইন-এর সংস্থানটা বিলে রাখা হল কেন? তা ছাড়া যাঁরা বিনা নোটিসে নোট বাতিল করে কোটি কোটি গরিব মানুষকে বিপদে ফেলতে পারেন, তাঁদের পক্ষে ধনীর স্বার্থে সাধারণ মধ্যবিত্তের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়াটা মোটেই অসম্ভব নয়।

ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট, কলকাতা-র অর্থনীতির শিক্ষক

consumers Investors Bank Bank Revenue
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy