‘দূরেই থাক না ওদের পৃথিবী’ (২৯-১১) নিবন্ধটি আন্দামানের সেন্টিনেল দ্বীপবাসীদের রক্ষার জন্য এক কাতর আবেদন। আন্দামানের চারটি জনজাতির সবচেয়ে বড় জনজাতি আন্দামানীদের ১০টি ভাষাগোষ্ঠীর মিলিত সদস্যসংখ্যা এক সময়ে ৪০০০-এর বেশি ছিল। সভ্যতা তাদের মাত্র ৪০-এ আনতে পেরেছে। ১৯৫৩ সালেও অরণ্যসম্পদে সমৃদ্ধ লিটল আন্দামান দ্বীপটিতে ওঙ্গে জনজাতির সংখ্যা ২৫০-এর বেশি ছিল। জনজাতিটিকে সভ্য করে জামা-কাপড় পরিয়ে ভাত-রুটি খাইয়ে মূল স্রোতে মিশিয়ে দেওয়ার মানসে ‘আন্দামান আদিম জনজাতি বিকাশ সঙ্ঘ’ নামের সরকারি মদতে প্রতিষ্ঠিত এনজিওটির প্রচেষ্টার ফল ডুগং-ক্রিক অঞ্চলে তাদের জন্য বরাদ্দ এক চিলতে অঞ্চল আর হাট-বে শহরাঞ্চলের মদের দোকানে তাদের উপস্থিতি। এতটা সভ্য হওয়ার ফলে তাদের সংখ্যা মাত্র ৯৩। কোন পদ্ধতিতে ওঙ্গেদের এই সর্বনাশ ঘটল তা আমি জানিয়েছি ‘মাই ড্রিমল্যান্ড আন্দামান’ (২০০৭) বইটিতে। কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারির কারণে জারোয়াদের সভ্য করতে একটু সময় লাগছে বটে, তবে তারাও আজ যে চরম বিপদে সে কথা জানিয়েছেন সীতা ভেঙ্কটেশ্বর তাঁর গবেষণাগ্রন্থে (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এথনোসাইড: কলোনিয়াল প্র্যাক্টিসেস ইন দি আন্দামান আইল্যান্ডস, ২০০৪)। তবে সেন্টিনেল দ্বীপটি আয়তনে এতটাই ছোট ও অরণ্যসম্পদে নগণ্য যে সরকারের দৃষ্টি এত দিন এ দিকে পড়েনি। কিন্তু জন অ্যালেনের মতো কিছু পতিতোদ্ধারীর কল্যাণে তাদের দিকেও সরকারি উন্নয়নের নজর পড়তে কত দিন! 

রণধীর কুমার দে

কলকাতা-৩৩

নাথপন্থী


‘বাঙ্গালীর ইতিহাস নতুন পর্ব’ (রবিবাসরীয়,১৮-১১) শীর্ষক নিবন্ধে রণবীর চক্রবর্তী এক বারও নাথ ধর্মের উল্লেখ করলেন না, যদিও বাংলার প্রাচীন সাহিত্য ‘চর্যাপদ’-এ নাথপন্থী সাধকদের সবিস্তার উল্লেখ আছে। কল্যাণী মল্লিকের ‘নাথ সম্প্রদায়ের ইতিহাস, দর্শন ও সাধন পদ্ধতি’ গবষেণাগ্রন্থে পাই, বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের পীঠস্থান ‘ওডিডয়ান’, যা জাদুবিদ্যার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল, সেই রাজ্যে, কবি লুইপাদ রাজকর্মচারী ছিলেন। উল্লেখ্য, এই লুইপাদকে ড. শহীদুল্লাহ সপ্তম শতকের কবি বলে উল্লেখ করেছেন। ড. প্রবোধ চন্দ্র বাগচী মহাশয় আবার শৈব যোগী মীননাথকে (মৎস্যেন্দ্র নাথ) সিদ্ধাচার্য লুইপাদ বলে মনে করেন। রণবীরবাবু ‘ময়নামতি’কে (কুমিল্লা, বাংলাদেশ)শুধুমাত্র স্থান হিসাবে দেখালেন। এই ‘ময়নামতি’ নাথধর্মের এক সাধিকা ছিলেন। বঙ্গদেশে, ‘ময়নামতির গান’, ‘গোপীচন্দের গান’, ‘ময়নামতির গাথা’, ‘শূন্যপুরাণ’ প্রভৃতিতে ছত্রে ছত্রে নাথধর্মের কথা উল্লিখিত। কুমিল্লার কাছে ময়নামতি লালমাই পাহাড়ে ময়নামতির পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের রাজধানী ছিল। এই স্থান ও সংলগ্ন এলাকাকে মৃকল বা মেহেরকুল বলা হয়। ড. আব্দুল গফুর ‘সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা’তে কুমিল্লার ময়নামতির পাহাড়, পুকুর, মাঠ ও চড়কডাঙা দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। রাজা রাজেন্দ্র চোল ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে গোবিন্দচন্দ্রকে পরাভূত করেন। অধ্যাপক ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী মহাশয় অনেক যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত করেছেন, বঙ্গরাজ গোবিন্দচন্দ্র রাজেন্দ্র চোল দ্বারা পরাভূত হয়েছিলেন। রাজেন্দ্র চোলের ‘তিরুমলয়’ শিলালিপির বিচারেও দেখা যায়, তিনি বঙ্গালরাজ গোবিন্দচন্দ্রকে পরাজিত করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই গোবিন্দচন্দ্রই নাথ সাহিত্যের ‘গোপীচন্দ’। ‘মানিকচন্দ্র-ময়নামতি-গোপীচন্দের’ আখ্যান নাথ ধর্ম-দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং ব্রাহ্মণ-বৈষ্ণব-বৌদ্ধের সঙ্গে নাথদর্শনের উল্লেখ না করলে, বাংলার ইতিহাস সম্পূর্ণ হবে না।


ভাস্কর দেবনাথ
নবপল্লি, বহরমপুর

প্রতিবেদকের উত্তর: নাথ ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার নিবন্ধটি একটি সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে পুস্তক-পরিচিতি মাত্র; এমনকী এটি গ্রন্থ-সমীক্ষাও নয়। তাই সব কিছুর তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়, তেমন পরিকল্পনাও ছিল না। তা হলে তো পুস্তক-পরিচয়ের বদলে জাবদাখাতা লিখতাম। ভাস্করবাবুর অবগতির জন্য জানাই, নাথপন্থী এবং তার প্রয়োজনীয় আকর তথ্যসূত্র-সহ আলোচনা বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় খণ্ডে আছে। আমার নিবন্ধে নাম ধরে ধরে আলোচনা নেই; বরং বিষয়ের উপস্থাপন করা হয়েছিল। ইতিহাসচর্চার রীতিপদ্ধতি এবং নূতন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচয় ঘটানোই এই লেখাটির অন্বিষ্ট। তাই ধর্মপাল, দেবপাল, বিজয় সেন, লক্ষ্মণ সেন, অতীশ দীপঙ্কর, হলায়ুধ শর্মা— কারও নামই উচ্চারিত হয়নি।
নাথপন্থী সাধকদের বিবরণ চর্যাপদে এবং তিব্বতি সাহিত্যে অবশ্যই আছে। বহু বিশিষ্ট পণ্ডিত সে বিষয়ে গবেষণাও করেছেন। কিন্তু এই সাধকদের জন্য আকর তথ্যসূত্রগুলির সন-তারিখ সুনির্দিষ্ট ভাবে বাংলার আদিপর্বের ইতিহাসে রাখা দুরূহ কর্ম; অন্তত এতে পণ্ডিতমহলের মতানৈক্য সুবিদিত। আমার নিবন্ধের কালসীমা ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই প্রেক্ষিতটি খেয়াল রাখা জরুরি। না হলে কালানৌচিত্য দোষ ঘটবে। ময়নামতির দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চাক্ষুষ সাক্ষ্য পাওয়া যাবে সেখানকার উৎখনন থেকে। সেই উৎখনিত প্রত্নবস্তুর আলোকে দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত নাথপন্থীদের তুলনায় ময়নামতি অঞ্চলে মহাযানী বৌদ্ধ ধর্মের উপস্থিতি অনেক বেশি উজ্জ্বল।

ওদের জন্য


আমার এক নাতি ছোটবেলা সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। কথা বলত। নিজে প্লাস্টিক কমোড-এ মলত্যাগ ও প্রস্রাব করত। হঠাৎ তার কথা আস্তে আস্তে বন্ধ হল ও সে যেখানে-সেখানে, এমনকী বিছানায় মলত্যাগ করতে আরম্ভ করল। তখন তার বয়স বছর তিনেক। ডাক্তার বললেন, ও অটিজ়ম-এ আক্রান্ত। নাতিকে লক্ষ করে দেখতে পাই ও যেন অন্য জগতে আছে। নিজের মনে কথা বলে, লাফায়। ওর কথা আমরা বুঝতে পারি না। ওকে যত কথা বলানোর চেষ্টা করেছি ও কিছুতেই আমাদের কথা শুনতে চায় না।
এখন ওর বয়স ১১। ও আস্তে আস্তে বড় হবে। এখন ওর মা-বাবা, আমরা আছি। দেখাশোনা করছি। যখন থাকব না, ওকে কে দেখবে? 
যদি সরকার অটিজ়ম আক্রান্ত মানুষের আবাসিক কেন্দ্র গড়ে তোলে, এই সব মানুষের উপকার হয়। সরকার ইচ্ছা করলে এই সব শিশুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতে পারে। যত দিন এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির আত্মীয়েরা নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন, রাখবেন, তার পর তাদের আবাসিক কেন্দ্রে স্থান হবে ও সরকার দেখবে।


অসীম রায়চৌধুরী
কলকাতা-৮২

কার উপদেশ?


‘‘ভোটযাত্রা’ কটাক্ষ’’ (২০-১১) পড়লাম। সূর্যকান্ত মিশ্র বিজেপি দলের রথযাত্রাকে ‘ভোটযাত্রা’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সেই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৯০ সালে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী সারা ভারতে রথযাত্রা করেছিলেন। তখন কেন্দ্রে ভিপি সিংহের সরকার চলছিল বামপন্থী ও বিজেপির সমর্থন নিয়ে। বামপন্থীরা মুখে রথযাত্রার বিরোধিতা করলেও, যখন পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে আডবাণীর রামরথ গিয়েছিল, বিন্দুমাত্র বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁদের ভয় ছিল, কেন্দ্রে সরকার পড়ে যাবে। রথ বিহারে ঢোকার পর বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব রামরথ আটকে আডবাণীকে গ্রেফতার করেছিলেন। কেন্দ্রে সরকার পড়ে যাওয়ার থেকেও শান্তিরক্ষাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সুতরাং বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে বামপন্থীদের অন্তত কাউকে উপদেশ দেওয়া সাজে না। 


সমর দাস
চুঁচুড়া, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও