Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: সংস্কার, প্রশাসন...

বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের দেশে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাবল্যের দরুনই মাতৃজাতির প্রাপ্য মান, মর্যাদা, সম্ভ্রম কিংবা স্বাচ্ছন্দ্য আদৌ গুরুত্ব পায় না। তা না হলে স্যানিটারি ন্যাপকিনে উচ্চ হারে জিএসটি বসানো নিয়ে (পরে অবশ্য করমুক্ত করা হয়েছে) অপপ্রচারের বিষয়ে বিজেপি সাংসদদের সতর্ক করতেন না তদানীন্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০

‘সংস্কার ভাঙার বার্তা দিয়েই অস্কার’ (২৬-২) শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের সাড়ে ৩৫ কোটি ঋতুমতী নারীর স্বাস্থ্য স্বাচ্ছন্দ্য বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। কিছু যোগ করার তাগিদ অনুভব করছি।

ইতিপূর্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র দেওয়া মাপকাঠি মোতাবেক নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানো হয়নি ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেন্ডিং মেশিনে নিম্নমানের ন্যাপকিন দেওয়া হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে, ২০১৭-র ২৪ জুলাই স্নাতক তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী, ঋতুমতী অবস্থায় স্যানিটারি ন্যাপকিন না-পরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর এই অভিনব আন্দোলনের জেরে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছিলেন প্রেসিডেন্সির তৎকালীন উপাচার্য, শিশু ও সুরক্ষা কমিশন ও মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সমেত বহু স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ।

বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের দেশে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাবল্যের দরুনই মাতৃজাতির প্রাপ্য মান, মর্যাদা, সম্ভ্রম কিংবা স্বাচ্ছন্দ্য আদৌ গুরুত্ব পায় না। তা না হলে স্যানিটারি ন্যাপকিনে উচ্চ হারে জিএসটি বসানো নিয়ে (পরে অবশ্য করমুক্ত করা হয়েছে) অপপ্রচারের বিষয়ে বিজেপি সাংসদদের সতর্ক করতেন না তদানীন্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

ভাবতে অবাক লাগে, আর্থিক বৃদ্ধির হারে অন্যান্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তুলনায় ভারত এগিয়ে থাকলেও, ঋতুকালে পরিচ্ছন্নতার জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে এ দেশের মেয়েরা। ইন্দোনেশিয়া, তাইল্যান্ড, চিন ও কেনিয়ায় মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সংখ্যা যথাক্রমে ৮০, ৬০, ৫০ ও ৩০ শতাংশ হলেও, ভারতে ঋতুমতী মেয়েদের ৮৮ শতাংশই তা ব্যবহার করতে পারেন না। পরিবর্তে সাবেকি পদ্ধতি অবলম্বন করে অপরিচ্ছন্নতাজনিত সংক্রমণে ভুগতে বাধ্য হন এঁরা। এ দেশে কমবয়সি মেয়েদের মধ্যে যোনিপথে সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশের অধিক।

লজ্জা, সঙ্কোচের বাধা ছাড়াও, প্রতি মাসে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার ক্ষমতা এঁদের পরিবারের নেই। ফলে ঋতুস্রাবের সময়ে পরিচ্ছন্নতার অভাবে বৃদ্ধি পায় সংক্রমণের সম্ভাবনা। বিষয়টির সঙ্গে কেবল মহিলাদের স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে না-পারা দরিদ্র নিম্নবিত্ত ছাত্রীরা, ঋতুস্রাবের সময়ে প্রতি মাসে চার-পাঁচ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হন। ক্ষতি হয় লেখাপড়ার।

সব কিছু অবগত থেকেও দার্শনিক রকমের উদাসীন ও নির্বিকার কেন্দ্র-রাজ্য সরকার। আমাদের দুর্ভাগ্য, আফ্রিকার হতদরিদ্র রাষ্ট্র কেনিয়া এবং লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশ মরিশাস স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর কর মকুব করলেও কিছু দিন আগেও মোদীর ভারত এর উপর কর ধার্য করেছিল ১২ শতাংশ জিএসটি। ভ্যাট-এর নিয়মে যা ছিল ৬ শতাংশ।

তাজ্জব ব্যাপার হল, মোদী সরকারের তরফে ইতিপূর্বে অপযুক্তি খাড়া করে বলা হয়েছিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর কর মকুব করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা স্বদেশি উৎপাদকদের। এঁরা আমদানি করা ন্যাপকিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে পারবেন না। পাশাপাশি অরুণ জেটলি সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, চিনা ন্যাপকিন আমদানি করে বিক্রি করতে চাইছে এ দেশের সংস্থাগুলি।

কোন বক্তব্যটা ঠিক?

মানস কুমার রায়চৈধুরী

কলকাতা-২৬

যুদ্ধ ও প্রেম

যুদ্ধক্ষেত্রে এবং যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘মেমোয়ার’, সাহিত্য, বা চিঠিপত্রের মধ্যে যে প্রেম-আবেগের কথা থাকতে পারে, এটি প্রাথমিক ভাবে পাঠকের মনেই থাকে না। অথচ রাহুল দাশগুপ্ত তাঁর লেখায় ফরাসি সৈনিক-সাহিত্যিক অ্যাপোলিনেয়ারকে ভালবাসার মানুষ হিসাবে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত করেছেন (‘যুদ্ধের দিনগুলিতে প্রেম’, রবিবাসরীয়, ৩-৩)।

বাস্তব ক্ষেত্রে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আকস্মিকতা আর ব্যাপকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এতটাই হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত লেখাগুলিতে প্রেম খুব একটা দেখা যায় না। ইংল্যান্ডের সাসুন-আওয়েন বা জার্মানির জয়েনঙ্গার-স্ট্রামের লেখাগুলিতে যুদ্ধ-বিরোধিতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আবেগ-ভালবাসা প্রায় অনুপস্থিত। এর মাঝে অ্যাপোলিনেয়ার সত্যিই ব্যতিক্রমী।

অপর দিকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহে লেখা ব্রিটিশ কবিতাগুলিতে প্রেম অনায়াসেই উন্মোচিত হয়ে আছে। অ্যালেন লুইস, কিথ ডগলাস, বা সিডনি কিইজের মতো সৈনিক-কবিরা যুদ্ধের পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে ভালবাসার উপাসনা করতে পিছপা হননি। ফল হিসাবে, লুইসের ‘ফ্রিদা আক্ক্রয়ড’, ডগলাসের ‘য়িং চেন’, বা কিইজের ‘মিলেইন কজ্ম্যান’ মতো প্রেমিকারা যুদ্ধ-সাহিত্যে চিরস্থায়িত্ব লাভ করেছেন। যুদ্ধ-সাহিত্য পড়বার সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা প্রেমের কবিতাগুলো গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে।

পিনাকী রায়

বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর

উদারনীতি

দীর্ঘ দিনের শিক্ষকতার সুবাদে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নজরদারির দায়িত্ব পালন করে আসছি। প্রথম প্রথম কাজটি সম্মানজনক মনে হলেও, দিন দিন বিরক্তিকর এবং সম্মানহানিকর কাজে পর্যবসিত হয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ‘মোবাইল’ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে, সবাই জানি। সেই উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ‘খোকাবাবু’রা রোজই প্রশ্ন ফাঁস করে পরীক্ষাব্যবস্থার বজ্র-আঁটুনিকে তুড়ি মেরে ফস্কা গেরোয় পরিণত করেছে।

কিন্তু প্রশ্ন আর এক জায়গায়। সিবিএসই, আইসিএসই বোর্ডের পরীক্ষার সঙ্গে সমান সারিতে আনতে, এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকেও, প্রশ্নের ধরন, মান, সব পাল্টে নম্বর ব্যবস্থায় অনেকটা উদারনীতি আনার ব্যবস্থা হয়েছে। উদারনীতি অন্যত্রও, যা কিনা একটি সামাজিক ক্ষত বলেই মনে হয়। পরীক্ষার হলে গোছা গোছা নকল দেখেও ‘আপনি কিছু দেখেননি মাস্টারমশাই’ গোছের অভিনয় করা, বা বড়জোর আটক করে ফেলে দেওয়া ছাড়া আমাদের করণীয় কিছুই নেই। সঙ্গে প্রাপ্তি: চুইংগাম চিবোতে চিবোতে উদ্ধত মুখে কিছু অশ্রাব্য কটূক্তি। তার ওপর আবার খাতা দেখতে গিয়ে অঢেল নম্বর দিয়ে তাদের উতরে দেওয়ার নীতি। এ ভাবে কত দিন চলবে? অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষায় এই ঘটনাগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বলেই মনে হয়।

সরকার মোবাইলের ব্যাপারে যতটা উদ্বিগ্ন, বা ব্যবস্থা গ্রহণে যতটা উদ্যোগী, এ ক্ষেত্রেও এমন কিছু পদক্ষেপ করা উচিত, যাতে এক শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা নকল করাটাকে জন্মগত অধিকার ভেবে না বসে এবং চরম কিছু ক্ষতির আশঙ্কায় এর থেকে কিছুটা বিরত থাকে।

যখন ছাত্ররা নকলে বাধা পেলে বলে ওঠে ‘আপনারা করেন নাই?’ বা ‘একটা বই এনে তো বলে দিলেও পারেন’— তখন লজ্জায় মুখ নিচু হয়ে আসে, এই সমাজ, এই শিক্ষাব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে।

দোলা আইচ

আলিপুরদুয়ার

আটকে গেলাম

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এর সকাল। ফিরছি হাওড়া-পুরী এক্সপ্রেসে। এসি থ্রি টায়ার স্লিপার কোচ। কোচের শেষ প্রান্তে বাঁ দিকের টয়লেটে গিয়েছি। টয়লেট সেরে দেখি, দরজা কিছুতেই খুলছে না। তখন যাত্রীরা ব্যস্ত তাঁদের লাগেজ গোছাতে। পকেটে ভাগ্যিস মোবাইল ফোন ছিল। ছেলেকে ফোন করি। তক্ষুনি ছেলে এসে জোরে জোরে জুতো-পায়ে ধাক্কা মারতে থাকে। অবশেষে উদ্ধার পাই। না হলে আমাকে কারশেডে চলে যেতে হত। টয়লেটের দরজা খোলার জন্য আছে সরু জং ধরা রড। তার চেয়ে কব্জাওয়ালা ছিটকানি অনেক ভাল।

বৈদ্যনাথ চন্দ্র

কলকাতা-৩৫

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

Menstruation Sanitary Napkin Sanitation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy