গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারত। দেশ জুড়ে সংখ্যালুঘুদের উপর হামলা বন্ধে ভারত সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে। ভারতে ক্ষমতাসীন কিছু নেতা হিন্দু আধিপত্য ও উগ্র জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচ আর ডব্লিউ)-এর তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালে দেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বন্ধ করতে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ পায় ১৮-০১-১৮ তারিখে। এখনও পর্যন্ত ‘গো-রক্ষার নামে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারতের কর্মকর্তারা প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিপদের মুখে পড়া অন্য গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে একনাগাড়ে হওয়া আক্রমণ থেকে তাঁদের রক্ষা করতে অনিচ্ছুক। ভবিষ্যতে এ-ধরনের হামলা বন্ধ করতে জোরালো প্রয়াস ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ভারত সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিগত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৬০ বার ইন্টারনেট পরিষেবা ব্লক করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি ঘটনা জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট গোপনীয়তার অধিকারকে মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের সম্মান দিয়েছে। আদালত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন রক্ষা ও ক্ষমতার উদ্ধত আচরণের বিরুদ্ধে গ্যারান্টির ওপর জোর দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি নীতি বা তার কাজকর্মের সমালোচনাকারী সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফারুক আহমেদ  ঘটকপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

ছাড়ের হিসাব

অমিতাভ গুহ সরকারের ‘আপনি কী পেলেন’ (বিষয় আশয়, ৮-২) প্রতিবেদনে তিন জন প্রবীণের আয়কর ছাড়ের একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবীণ ১-এর করযোগ্য আয় এবং কর দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৩,৫০,০০০ টাকা ও ২৬০০ টাকা। ১৯১৭-১৮ আর্থিক বছরে ৩.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত কর মকুবের সংস্থান আছে। আগামী আর্থিক বছরেও যদি এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকে, তা হলে প্রবীণ ১-এর আয়ে কোনও কর ধার্য হওয়ার কথা নয়।

নন্দকুমার সরকার  কলকাতা-৬১

 

খেয়াল রাখুন

‘সতর্ক থাকুন’ (বিষয় আশয়, ৮-২) শীর্ষক বক্সে জানানো হয়েছে, সময়সীমার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা না হলে ৮০ ধারার অধীনে যত রকম কর ছাড় পাওয়া তা আর মিলবে না। এই উক্তিটি আংশিক ভাবে সত্য। আয়কর আইনে বিভাগ VIA-তে ৮০ ধারাগুলি উল্লিখিত আছে। আবার এই ধারাগুলি কয়েকটি উপবিভাগে সাজানো। এই বছরের ফাইনান্স বিল ধারা ৮০এসি-তে এক পরিবর্তনের প্রস্তাব রেখেছে এবং তা অনুযায়ী বিভাগ VIA -র উপবিভাগ ‘সি’-তে বর্ণিত ছাড়গুলি পেতে গেলে রিটার্ন সময়মত জমা করতে হবে। দেরি হলে এই সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে না। তার মানে উপরিভাগ ‘সি’-র বাইরে যে ধারাগুলি আছে, তার ক্ষেত্রে ৮০এসি প্রযোজ্য নয়। এমন কয়েকটি পরিচিত ধারা হল: ৮০সি (পিপিএফ, জিপিএফ-এ লগ্নি, জীবনবিমা), ৮০ডি (স্বাস্থ্যবিমা), ৮০জি (দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান), ৮০টিটিএ (সেভিংস অ্যাকাউন্ট সুদ) ও ৮০টিটিবি (প্রবীণদের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও পোস্ট অফিস সুদ)। সুতরাং করদাতাদের আশ্বস্ত করে বলা যেতেই পারে যে, রিটার্ন দাখিল করতে দেরি হলেও উপরোক্ত ৮০ ধারার ছাড়গুলি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হবেন না। তবে যাঁরা উপবিভাগ ‘সি’-র অধীন ছাড়গুলি চাইবেন, তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে ওই দাবি গ্রাহ্য হবে না এবং বাড়তি করের বোঝা চাপবে।

গৌতম চৌধুরী ভূতপূর্ব চিফ কমিশনার অব ইনকাম ট্যাক্স কলকাতা-২৯

 

ঠিক নয়

‘বাজেট ও প্রবীণ’ (সম্পাদক সমীপেষু, ১০-২) চিঠিটির প্রেক্ষিতে কয়েকটি সংশোধন। ১) লেখা হয়েছে, ‘...যৎসামান্য টাকা ডাকঘরে বা ব্যাংকে রেখে তার থেকে প্রায় চোদ্দো থেকে সতেরো শতাংশ সুদ পেয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন...’। ডাকঘরে বা ব্যাংকে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ কবে পাওয়া গেল? অন্তত বিগত কয়েক বছরে এ-দেশে তো তা পাওয়া যায়নি! ২) লেখা হয়েছে, ‘সেভিংস ব্যাংকের জমায় সুদের ছাড় দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে।’ এটা ঠিক নয়। সেভিংস এবং মেয়াদি জমায় সর্বসমেত এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সেভিংস অ্যাকাউন্টে সাড়ে তিন শতাংশে জমানোর প্রশ্নই ওঠে না।

সঞ্জীব সরকার  কলকাতা-১২৭

 

দুটি কথা

‘ঘাঁটির সুরক্ষায় ১৪৮৭ কোটি’ (১১-২) শীর্ষক খবরে লেখা হয়েছে, ‘ঘাঁটির সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে লেফটেন্যান্ট ফিলিপ ক্যাম্পোসের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।’ আসলে ফিলিপ ক্যাম্পোস হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনেরাল পদমর্যাদার এক জন সিনিয়র সেনা অফিসার। ওই পাতায় ‘অভিযান’ ক্যাপশনের ছবিত যেটি দেখা যাচ্ছে, সেটি ট্যাংক নয়। এটি আসলে ইনফ্যানট্রি কমব্যাট ভেহিক্‌ল (এক রকমের সাঁজোয়া গাড়ি) যেটি আমাদের সেনাবাহিনীতে BMP-2 নামে পরিচিত।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কসবা, কলকাতা

 

সহায়ক মূল্য

‘মনসাপূজা’ (৫-২) শীর্ষক সম্পাদকীয়টি সম্পর্কে তাঁর চিঠিতে (১৩-২) কমলকুমার দাশ লিখেছেন, ‘সরকার কৃষকের কাছ থেকে অনেক ফসল কেনে না। শুধু কেনে ধান ও গম।’ এই তথ্যটি ঠিক নয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার চব্বিশটি শস্যের জন্য সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে। তবে কোন রাজ্য কোন কোন ফসল সহায়ক মূল্যে কিনবে, তা কেন্দ্রই ঠিক করে। পশ্চিমবঙ্গে ধান ও পাট প্রতি বছরেই সহায়ক মূল্যে কেনা হয়। তার সঙ্গে কোনও কোনও বছর অন্য ফসল যুক্ত হয়। যেমন গত বছর কিছু তিল কেনা হয়েছিল সহায়ক মূল্যে। ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলো, সরষে, আখসহ বিভিন্ন ফসলের কোনটির কত সহায়ক মূল্য হবে, তা সুপারিশ করে ‘কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল কস্টস অ্যান্ড প্রাইসেস’। তাদের ওয়েবসাইটে গেলে গত কয়েক বছরে ঘোষিত বিভিন্ন ফসল এবং তাদের সহায়ক মূল্যের তালিকা পাওয়া যাবে।

শবনম খাতুন কলকাতা-৯৯ 

 

হাবড়া

উত্তর ২৪ পরগনার ‘হাবড়া’কে আনন্দবাজার ‘হাবরা’ লিখে থাকে। পাঁক অর্থাৎ কাদার আর এক নাম ‘হব্বড়’ বা ‘হাবড়’, তার থেকে ‘হাবড়া’। অতীতে এই অঞ্চলটি পদ্মা ও তার শাখানদীগুলির জলে বছরের অধিকাংশ সময়েই ডুবে থাকত। জল সরে গেলেও পাঁক বা কাদা প্রায় শুকাত না। সেই কাদা থেকেই ‘হাবড়া’ নামের উৎপত্তি। একমাত্র হাবড়া স্টেশনেই বানানটি ‘র’-কার দিয়ে লেখা আছে। অন্যত্র, পুরসভা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ অফিস কাছারিতে ‘হাবড়া’— ‘ড়’ দিয়েই লেখা।

রতন চক্রবর্তী  উত্তর ২৪ পরগনা

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়