Advertisement
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Congress

সম্পাদক সমীপেষু: পরীক্ষা কংগ্রেসেরই

গত দু’টি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন-সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ এবং ৫২। তাই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা হারিয়েছিল কংগ্রেস।

congress.

—প্রতীকী ছবি।

শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৪:৫২
Share: Save:

প্রেমাংশু চৌধুরীর ‘নরেন্দ্র মোদীর শেষ পরীক্ষা’ (৯-১১) শীর্ষক লেখাটির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। ছত্তীসগঢ়, মিজ়োরাম, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও তেলঙ্গানা— এই পাঁচটি রাজ্যে যে নির্বাচনগুলি হল, সেটা যত না ‘মোদী ম্যাজিক’-এর কষ্টিপাথর, তার থেকে অনেক বড় পরীক্ষা কংগ্রেসের কাছে। মনে রাখতে হবে, গত দু’টি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন-সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ এবং ৫২। তাই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা হারিয়েছিল কংগ্রেস। প্রধান বিরোধী দল না থাকা, এবং শক্তিশালী বিরোধী জোট না থাকার কুফল সকলেই টের পাচ্ছেন।

যদিও গত হিমাচলপ্রদেশ এবং কর্নাটক বিধানসভাগুলির নির্বাচনে কংগ্রেস দল জয়লাভ করে। বিশেষত কর্নাটক বিধানসভার ফল লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, ২০১৮-র তুলনায় বিজেপির ২০২৩-এ প্রাপ্ত ভোট শতাংশ প্রায় একই আছে, এবং কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট যেখানে ৪৩ শতাংশ, সেখানে বিজেপির ৩৬ শতাংশ। কর্নাটকের ভূমিপুত্র কুমারস্বামীর দল জেডি(এস) থেকে ৪ শতাংশ ভোট কংগ্রেসের ঝুলিতে যাওয়ার ফলে বিজেপির পরাজয় ঘটে। এ ছাড়াও, বোম্মাই সরকারের ব্যাপক দুর্নীতিও বিজেপির হারের অন্যতম কারণ।

আবার এই ৫টি রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের ফল যদি বিজেপির অনুকূলে না-ও যায়, তথাপি বিজেপির খুব দুশ্চিন্তার কারণ নেই। লেখক নিজেই উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালে বিধানসভার নির্বাচনে দক্ষিণে তেলঙ্গানা এবং উত্তর-পূর্বে মিজ়োরামে কোন‌ও লড়াইতেই ছিল না বিজেপি। ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান— হিন্দি বলয়ের এই তিন রাজ্যে কংগ্রেসের কাছে হার স্বীকার করে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু পরের বছরেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তেলঙ্গানা বাদে বাকি রাজ্যগুলি থেকে বিপুল জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপির মোদী ম্যাজিক! উল্টো দিকে, এই পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন কংগ্রেসের কাছে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে শুধু যে অস্তিত্বের পরীক্ষা তা-ই নয়, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস কতখানি লড়াই করতে পারবে, তারও পরীক্ষা বটে। এর সঙ্গে আছে মাত্র কয়েক মাস আগে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ নামক বিরোধী জোটের রাশ নিজের হাতে রাখার লড়াই।

সুতরাং, সব দিক বিচার করলে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মোদী ম্যাজিক-এর অস্তিত্ব বহাল থাকা, বা বিজেপির আগামী লোকসভা নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্বের পরীক্ষা। অন্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলিকে হেয় না করে এ কথাটা বলা বোধ হয় অসঙ্গত হবে না যে, সমগ্র ভারতের স্বার্থেই একটি শক্তিশালী বিরোধী সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন এবং একমাত্র কংগ্রেসই পারে সেই জায়গাটা পূরণ করতে।

অমিত কুমার চৌধুরী, কলকাতা-৭৫

উন্নয়নের ধারা

দেবাশিস ভট্টাচার্যের “‘না’ বলবেন কবে?” (১৬-১১) শীর্ষক প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জানাই, সরকারি চাকরিতে বদলি বা অবসর-পরবর্তী পুনর্নিয়োগ ইত্যাদি অত্যন্ত রুটিনমাফিক প্রশাসনিক এবং স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। প্রবন্ধকার তাঁর প্রবন্ধের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে সে কথা উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই ব্যবস্থায় সরকারের সার্বিক এবং বিশেষ কোনও দফতরের কাজ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ কখনও ব্যাহত হয় না। পরবর্তী প্রশাসনিক আধিকারিকরা যোগদান করে রাজ্য সরকারের সার্বিক এবং স্ব স্ব দফতরের সকল কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন করেন ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখেন।

প্রবন্ধে স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষা ইত্যাদি কয়েকটি দফতরকে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এই সকল দফতরে শীর্ষস্থানীয় পদে রদবদল হলে সমস্যা বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে তার ফলভোগ করতে হয়। দফতরের আমলা-সহ অন্য কর্মচারীরা যখন উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন, সেখানে সুষ্ঠু ভাবে কাজকর্ম হতে পারে না।

এ প্রসঙ্গে জানাই যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণক্ষেত্রে বিগত বারো বছরে এ রাজ্যে প্রভূত উন্নতি লক্ষ করা গিয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪০ শতাংশেরও বেশি। সফল ভাবে রূপায়িত হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’-র মাধ্যমে সার্বিক স্বাস্থ্যবিমায় উপভোক্তা পিছু পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা প্রকল্প। এ ছাড়াও চালু হয়েছে ‘চোখের আলো’, ‘মাতৃ-মা’র মতো বিভিন্ন উদ্যোগ। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় উন্নতি হয়েছে প্রভূত। গত ১২ বছরে স্থাপিত হয়েছে ১৪টি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ৪২টি সুপার-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, ১০১৭৩টি নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এ ছাড়া আরও অনেক ধরনের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে।

পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বারো বছরে রাজ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়কালে ২০টি রাজ্য সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়, ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৫২টি রাজ্য সরকার পোষিত কলেজ, ২৭২টি আইটিআই, ৭২৫০টি নতুন স্কুল, ২৯৪৩টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে। শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ২০২২ সালে যথাক্রমে ২৪ লক্ষেরও বেশি এবং প্রায় ১৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রী নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও স্কুলব্যাগ প্রদান ইত্যাদি উদ্যোগের ফলে উপকৃত হয়েছে বহু ছাত্রছাত্রী। অত্যন্ত সফল ভাবে রূপায়িত হচ্ছে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল প্রদান। উপকৃত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ, ফলে কমেছে স্কুলছুটের সংখ্যা।

খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের উদ্যোগে প্রায় ৯ কোটি মানুষকে খাদ্য সাথী-র আওতায় আনা হয়েছে এবং বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হচ্ছে। রেশন কার্ড সংক্রান্ত কাজে অনেক স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ, পোর্টাল ইত্যাদি আইটি সংক্রান্ত পরিষেবাকে ব্যবহার করে রেশন কার্ড প্রস্তুতি, বিলি ইত্যাদিতে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। ধান কেনার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এসেছে অনেক। পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি চলছে, রেশন কার্ডে আধার সংযুক্তি-সহ।

কেবলমাত্র এই দফতরগুলিই নয়, গত ১২ বছরে রাজ্যে যে সার্বিক উন্নয়ন ও প্রগতি লক্ষ করা গেছে, তা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই সময়কালে রাজ্য প্রশাসনে শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে সকল স্তরে অনেক আধিকারিক-সহ কর্মচারী অবসর নিয়েছেন, বদলি হয়েছেন। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি। রাজ্যে সার্বিক প্রগতি ও উন্নয়নের ধারা আজও অব্যাহত।

পাশাপাশি উল্লেখ্য, যে কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার চালিত হয় মন্ত্রী ও আধিকারিকদের পারস্পরিক মতামতের সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে। যে কোনও নীতি বা উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক মতামতের সুস্থ আদানপ্রদানে। এ রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়।

মিত্র চট্টোপাধ্যায়, তথ্য অধিকর্তা ও পদাধিকার বলে বিশেষ সচিব, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

নকলনবিশ

এখন ন্যাশনাল হাইওয়ে ও স্টেট হাইওয়েতে নকল এনবিএসটিসি বাসের রমরমা। রাস্তায় অনেক বাস চলছে, যেগুলোর হুবহু সরকারি বাসের রং ও নকশা। উইন্ডস্ক্রিনে বড় বড় হরফে এনবিএসসি, এনবিএসসিজি, এনবিএসজিটি— এমন নানা ধরনের নাম লেখা, যাতে ব্যস্ততার সময়ে সহজেই সেগুলিকে সরকারি বাস বলে ভুল হয়। ভাড়া সরকারি বাসের তুলনায় বেশি, এবং পরিবহণ দফতরের দেওয়া ভাড়ার চার্ট সেখানে দেখা যায় না। এই বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন। সরকারি বাসের রং, লেখার হরফ ও ডিজ়াইন কোনও ভাবেই যেন বেসরকারি বাসে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হওয়া দরকার। অন্যথায় দ্রুত সরকারি পরিবহণ কমে তা বন্ধ হয়ে যাবে।

তমাল কুমার ঘোষ, ফরাক্কা, মুর্শিদাবাদ

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE