Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

সম্পাদক সমীপেষু: প্রজা নয়, নাগরিক

দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে, নাগরিক অধিকার গড়ে তোলার অসম লড়াইয়ে নেমেছিলেন চিকিৎসক থেকে আইএএস অফিসার হওয়া কাশ্মীরি তরুণ শাহ ফয়সল।

০১ জুন ২০২১ ০৪:৫৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় (‘অধৈর্য হওয়াই এখন কর্তব্য’, ২৫-৫) নৈতিকতা, দায়িত্ব ও অধিকারের কথা বলেছেন, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘নাগরিক’ নন, ‘প্রজা’ হয়েই থাকতে স্বচ্ছন্দ। নৈতিকতার কথাও শুধুমাত্র কথাই থেকে যায়, না হলে সরকারি পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়াটাও ‘এ আর এমন কী’ গোছের মনে হয় আমাদের! অভিযুক্তদের সমর্থনে রাজপথে জনজোয়ার নামে। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে চাপা পড়ে যায় নৈতিকতার বিশুদ্ধতা।

অথচ, এমনটা হওয়ার ছিল না। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে, নাগরিক অধিকার গড়ে তোলার অসম লড়াইয়ে নেমেছিলেন চিকিৎসক থেকে আইএএস অফিসার (২০০৯-এ সিভিল সার্ভিসে প্রথম) হওয়া কাশ্মীরি তরুণ শাহ ফয়সল। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গিয়েছে। লড়াই শুরুতেই শেষ, যখন ‘পিএসএ’ (জম্মু ও কাশ্মীর জননিরাপত্তা আইন, ১৯৭৮) অ্যাক্টে তাঁকে দীর্ঘ দিন বিনা কারণে আটক করে রাখে রাষ্ট্র। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠই নীরব ছিলেন, কারণ তাঁরা প্রজা হয়ে শান্তিতে থাকতে চান, নাগরিক হয়ে অশান্তিতে নন। শাহ ফয়সল একা নন, রাষ্ট্রের রোষানলে পড়া কবি, সমাজকর্মী থেকে নাগরিক অধিকাররক্ষা কর্মীর তালিকা অনেক লম্বা। আদালতের ন্যায়দণ্ড রাষ্ট্রকে প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও মুক্তস্বর দমনের মানসিকতা থেকে বিরত করতে পারেনি, আর প্রশাসনকে কর্তব্যপালনে বাধ্য করবে সর্ব ক্ষেত্রে? এত দূর ভাবা একটু বাড়াবাড়ি বইকি।

বাকি রইল ‘গণআলোচনা’। এই ‘গণ’ শব্দটাতেই শাসককুলের যত আতঙ্ক, বিপদের গন্ধও। তা সে গণআন্দোলন, গণআলোচনা, গণভোট হোক, বা গণতন্ত্র। তাই রাষ্ট্র সর্বদাই গণপরিসর থেকে ব্যক্তিকে আলাদা করতে সক্রিয়। যে দেশে নীতি নির্ধারণে জনশিক্ষার থেকে ধর্ম, জনস্বাস্থ্যের থেকে প্রতিরক্ষা বেশি গুরুত্ব পায়, সে দেশে দেশপ্রেমের ঝড়ে ধর্মের ফানুস তো উড়বেই। এই চক্রব্যূহে একা ব্যক্তিমানুষও গত সাত বছরে চিনে নিয়েছেন তাঁর লক্ষ্মণরেখা। সেই গণ্ডির বাইরে পা রাখলেই বিপদ। সীমা টপকে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

Advertisement

সুপ্রতিম দত্ত, কলকাতা-৮৪

ভয়ের দেশ

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের নিবন্ধটি সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রামাণ্য দলিল। দেশ জুড়ে প্রান্তিক খেটে-খাওয়া মানুষের দুর্দশা তাঁদের চোখেই শুধু পড়বে না, যাঁরা তাঁবেদারি করাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অপ্রতুল টিকা, সমন্বয়ের অভাব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা, অক্সিজেনের ঘাটতি, দু’টি টিকা গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর বার বার নির্দেশিকা বদল— নাগরিক সমাজকে আতঙ্কিতও করেছে। দেশ জুড়ে পুনরায় লকডাউন ঘোষিত হয়নি বটে, তবে যে ভাবে কোভিড মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে নিজ নিজ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ জারি করা হয়েছে, তাতে এটুকু পরিষ্কার যে, সাফল্যের কৃতিত্ব নিলেও কেন্দ্র ব্যর্থতার দায় নিতে প্রস্তুত নয়। ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় এখনও পর্যন্ত লকডাউন করা। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ এই পথেই হেঁটেছে। প্রথম পর্বে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা কেন্দ্রের তরফেই করা হয়েছে, তা হলে আজ আবার আলাদা করে রাজ্যগুলিকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ কেন? যদি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার যুক্তি দেওয়া হয়, তবে প্রথম পর্বেই তা ক্ষুণ্ণ হয়নি কি! পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা তো ছিলই, সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা ছোট, বড়, মাঝারি সব ব্যবসায়ীকে আর্থিক ভাবে হীনবল করেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে।

একটি বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একশো শতাংশ সফল। জনমনে এক ভয়ের বাতাবরণ তারা তৈরি করেছে। স্বাধীন মত প্রকাশে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে! সংবাদপত্র, সমাজমাধ্যমে কে কী লিখবে, তা নিয়েও ধন্দে পড়তে হচ্ছে। রাজরোষে পড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তবুও এর বিপ্রতীপে গড়ে ওঠে জনমত। সুশীল সমাজের নিদ্রাভঙ্গ হয়, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বিপদ উপেক্ষা করে অগ্রবর্তী হন। সেই ভরসাতেই আজও লেখক, কবি কলম ধরেন।

রাজা বাগচি, গুপ্তিপাড়া, হুগলি

বাঁধভাঙা ক্ষোভ

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সহমত। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েই তো আসে অধৈর্যের প্লাবন। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের এই প্রবল আন্দোলনের মুখে অতি বড় স্বৈরাচারী শাসকেরও পতন ঘটে। এটা ঐতিহাসিক সত্য।

যখন প্রশাসনের অপদার্থতা প্রকট হয়, তখনই হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায় বিচার বিভাগকে। তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্যের জোগান দিতে সরকারকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। লকডাউনের সময়ে যখন সাধারণ মানুষ কর্মহীন, ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে, তখন মোদী সরকারকে গরিব মানুষের হাতে নগদ টাকার জোগান দিতে বলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। কান দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। অতিমারির মতো বিপর্যয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। গণতন্ত্রে সেটাই দস্তুর। টাকা আসবে সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের মুনাফার উপর কর বসিয়ে, সেন্ট্রাল ভিস্টার কাজ বন্ধ করে, মন্ত্রীদের খরচ ছাঁটাই করে। মানুষের জন্য গণতন্ত্রে স্বৈরাচারী শাসকের জায়গা কোথায়?

দিলীপ কুমার সেনগুপ্ত, কলকাতা-৫১

ধৈর্যের গুণ

‘অধৈর্য হওয়াই এখন কর্তব্য’ নিবন্ধে পেলাম আমেরিকান লেখক অ্যামব্রোস বিয়ার্স-এর উদ্ধৃতি, “ধৈর্য ব্যাপারটা হতাশার একটা ছোটখাটো রূপ, যা সদ্‌গুণের ছদ্মবেশে থাকে।” আলোচ্য প্রবন্ধের প্রেক্ষিতে উক্তিটি সঠিক হতে পারে, কিন্তু সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-বৈজ্ঞানিকদের ধৈর্য একটা বিরাট গুণ। এঁদের বেশির ভাগই দীর্ঘ সাধনার পরে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। মিগেল দে সের্ভান্তেস-এর দন কিহোতে উপন্যাসটি যখন বেরোয়, সের্ভান্তেস তখন ষাট-ছুঁইছুঁই। সমরেশ মজুমদার বলছেন, প্রথম ছোট গল্পটি লেখার পরে তাঁকে আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল উপন্যাস লেখার সুযোগ পাওয়ার জন্য। অধৈর্য হয়ে এর মাঝে যদি তিনি কলম সরিয়ে রাখতেন আমরা কালবেলা, এত রক্ত কেন, সিংহবাহিনী— কিছুই পেতাম না। অতঃপর, শ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? প্রবন্ধ সঙ্কলনে নীরদচন্দ্র চৌধুরী লিখেছেন, ১৯৮৭ সালের পর তিনি লেখক হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন। নীরদবাবুর জন্ম ১৮৯৭ সালে। চার্লস ডারউইনের অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস-এর প্রকাশকালে বিজ্ঞানীর বয়স পঞ্চাশ। আমেরিকান লেখিকা লরা ওয়াইল্ডার (জন্ম, ১৮৬৭) ১৯৩২-এ তাঁর প্রথম পুস্তক প্রকাশ করতে সক্ষম হন। জর্জ অরওয়েল অ্যানিম্যাল ফার্ম লিখলেন চল্লিশ পেরিয়ে, নাইনটিন এইট্টি-ফোর বেরোয় আরও চার-পাঁচ বছর বাদে।

সুগত ত্রিপাঠী, মুগবেড়িয়া, পূর্ব মেদিনীপুর

মিষ্টিতে সাবধান

অধিকাংশ মিষ্টির দোকানেই দোকানদার বা কর্মচারীরা যে হাতে টাকা নিচ্ছেন, সেই হাতেই মিষ্টি দিচ্ছেন। এমনকি মোবাইল ব্যবহার করতে করতে সেই হাতেই মিষ্টি বিক্রি করছেন। ব্যবহার করছেন না হাতা, চিমটে, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজ়ার। অনেকে থুতু দিয়ে টাকা গোনেন। এই কোভিড পরিস্থিতিতে টাকা ব্যবহারের পর হাত না ধুয়ে খোলা খাদ্যে হাত দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। অতি সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারত অনেক ঢিলেঢালা। সুতরাং, জনস্বাস্থ্যের দিকে তাকিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে খাদ্য-বিক্রি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করুক সরকার।

বিশ্বজিৎ মহন্ত, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement