‘দন্ত চিকিৎসকে আস্থা কেন্দ্রের, ক্ষুব্ধ আইএমএ’ (২১-৪) খবরের প্রেক্ষিতে কিছু কথা। আমরা ভুলে গিয়েছি, ২০১৬ সালের ২৪ অগস্ট, মৃত স্ত্রীকে ঘাড়ে করে, ১২ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হাঁটা শুরু করেছিলেন দানা মাঝি। ঘটনাটি মিডিয়ার নজরে আসার পর অ্যাম্বুল্যান্স জোটে। এই ঘটনা বুঝিয়ে দেয়, কেবলমাত্র চিকিৎসকের ঘাটতি নয়, সরকারি হাসপাতালগুলির সামগ্রিক অব্যবস্থাও এর জন্য দায়ী। সারা দেশে ২৩ হাজার হাসপাতাল রয়েছে। তাতে রয়েছে মাত্র সাত লক্ষ বেড। সরকারি হাসপাতালে ১,৮৪৪ জন রোগীর জন্য বরাদ্দ একটি বেড, তার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ২০,০০০ হাসপাতালে বেডের সংখ্যা তিন লক্ষ। এই সংখ্যাটা রোগীর বিচারে এতই কম যে এক-একটি বেডে চার-পাঁচ জন রোগী রেখে চিকিৎসা করতে হয়। এমনকি বেডে যাঁদের জায়গা হয় না, তাঁদের মেঝেতে রাখতে হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল অবস্থার অন্যতম কারণ, বরাদ্দেরও অভাব। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০২ শতাংশ খরচ হয় স্বাস্থ্য খাতে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭-তে স্বাস্থ্য খাতে মোট যা খরচ হয়েছে তার ৬৭.৭৮ শতাংশ রোগীকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাথাপিছু বরাদ্দ ১,১১২ টাকা, অথচ এককালীন হাসপাতালে ভর্তির গড় খরচ ২৬,৪৫৫ টাকা।
ভোট পার্বণের মধ্যেই ২০১৯-এ ৭০তম বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পারও হয়ে গিয়েছে, আমরা টের পাইনি। গুরুত্ব পায়নি এ বছরের স্বাস্থ্য দিবসের থিম— ইউনিভার্সাল কভারেজ: এভরিওয়ান, এভরিহোয়্যার। ২০০০ সালে ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’-এর লক্ষ্যে (প্রতি ১০০০ জন পিছু এক জন ডাক্তার) সংসদে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ঘোষিত হয় ১৯৮৩-তে। ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও ১০০০ তো দূর অস্ত্, প্রতি ২০০০ জনে এখন এক জন ডাক্তার। স্থায়ী, অস্থায়ী কোনও সরকারই স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেনি। 

নন্দগোপাল পাত্র
সটিলাপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

প্রবীণ


 দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ১৯৬১ সালের ২ কোটি ৪৭ লক্ষ থেকে বেড়ে, ১০ কোটি ৩৯ লক্ষ হয়েছে ২০১১ সালে। প্রবীণ জনসংখ্যা বেড়েছে বছরে ৩.৫ শতাংশ, যা মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্বিগুণ। ন্যাশনাল কমিশন অন পপুলেশন-এর হিসেবে, ২০০১ সালকে ভিত্তি বৎসর ধরলে, ২০২৬ সালে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হবে ২৬ শতাংশ। কিন্তু ৬০ বছরের বেশি মানুষের সংখ্যায় একই সময়ে বৃদ্ধি হবে প্রায় ১৭০ শতাংশ। প্রবীণ জনসংখ্যায় বিস্ফোরণে চমৎকারিত্ব শুধু এ দেশেই নয়, ঘটছে সারা বিশ্ব জুড়ে। ২০১৭-তে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৭.৩ বিলিয়ন, মানে ৭৩০ কোটি। তার মধ্যে প্রবীণ ১২%। এই সংখ্যাই ২০৫০-এ বেড়ে দাঁড়াবে মোট বিশ্ব জনসংখ্যার ২২ শতাংশ। সমীক্ষকরা আরও তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, ২০৫০ সালে, ১৫ বছর বয়সিদের সংখ্যাকে ছাপিয়ে যাবে প্রবীণসংখ্যা, যা ইতিপূর্বে কোনও দিন ঘটেনি।
জনসংখ্যায় দুরন্ত ঊর্ধ্বগতির বাস্তবতায়, প্রবীণ থেকে প্রবীণতমদের রক্ষায় জাতীয় নীতি প্রণয়নে সরকারের সদিচ্ছা ও সক্রিয়তাকে বছরের পর বছর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির মাননীয় সদস্যরা। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ রিপোর্ট লোকসভায় পেশ করে স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, “খুবই কম পেনশন দেওয়া হয় প্রবীণদের। কমপক্ষে এক হাজার টাকা পেনশন দেওয়া উচিত।’’ ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে নথিভুক্ত রিট আবেদনে বৃদ্ধভাতা দেশে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরির অর্ধেক করার কথা বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজে ন্যূনতম মজুরি ১৯১ টাকা। প্রবীণ মানুষের একাধিক সংগঠন, অসরকারি প্রবীণ সেবাদান সংস্থা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সম্প্রতি মাননীয় সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়, সকলে প্রবীণ মানুষের সুস্থ পরিবেশে জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন 
ও প্রাথমিক নির্দেশ দিয়েছে। 
সরকার নির্বিকার।
নাম না করে বলা যায়, পৃথিবীর অনেক দেশ প্রবীণদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে দেশের সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করতে, বিভিন্ন সরকারি ও শিল্প-উদ্যোগপতির সহায়তায় গড়ে তুলেছে প্রবীণ উপযোগী প্রকল্প। ‘ওল্ড ইজ় গোল্ড’ কি শুধু ওরাই মানে? আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য কি লুপ্তির পথে?
অতীশ ঘোষ
মাখলা, হুগলি

তাঁদের পেনশন
 

আমরা যারা কর্মজীবনে কোনও সরকারি চাকরি পাইনি, বা করিনি, তাদের অবসরকালীন জীবনের ক্রমবর্ধমান মূল্যসূচকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগামী দিনে বেঁচে থাকা বড় দায়। এক দিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। আবার অন্য দিকে, মুক্তবাজার অর্থনীতির কল্যাণে বেড়েছে মূল্যসূচকের মান। বহুসংখ্যক বেসরকারি কর্মী যে অবসরকালীন টাকাপয়সা বা ইপিএস স্কিমের পেনশন পেয়ে থাকেন, সেটা বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে বাড়ে না। সুদের হার ক্রমশই কমছে। ইপিএস পেনশনের পরিমাণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ একই বাজারে সকলকে বাজার করতে হয়। সমস্ত রকমের পেনশনকে বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সূচকের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত করা হোক। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সমান হারে বাড়বে সকলের পেনশন। এই ভোটপ্রচার পর্বে অবসরকালীন বার্ধক্যের আর্থিক দায় নেওয়ার কোনও সদিচ্ছা বা ঘোষণা কোনও রাজনৈতিক দলের আজেন্ডায় দেখছি না।

আলোক রায়
কলকাতা-১১০

চিত্রস্বত্ব 


 ‘তিনি ছিলেন ভারতীয় সিনেমার আচার্য...’ (পত্রিকা, ৬-৪) শীর্ষক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘‘বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের চিত্রস্বত্ব কিনে রেখেছিলেন দেবকীবাবু। কিন্তু পরে খুশিমনে সেই স্বত্ব তুলে দিয়েছিলেন সত্যজিতের হাতে।’’
আসল ঘটনাটি হল, ‘পথের পাঁচালী’ ছবির কিছুটা শুটিং হওয়ার পর টাকার অভাবে শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। সত্যজিৎ রায় এবং ছবির প্রোডাকশন ম্যানেজার অনিল চৌধুরী ‘কল্পনা মুভিজ়’ নামে এক ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, ছবিটি প্রযোজনার জন্যে। কল্পনা মুভিজ়ের মি. ভট্টাচার্য সত্যজিৎকে জিজ্ঞেস করেন, কাহিনির চিত্রস্বত্ব কেনা আছে কি না? উত্তরে সত্যজিৎ জানান, বিভূতিভূষণের স্ত্রী রমা দেবীর সঙ্গে কথা হয়ে আছে, যে কোনও সময় লিখিত দলিল তিনি নিয়ে আসতে পারেন। 
ওই ডিস্ট্রিবিউটর ভদ্রলোক সত্যজিৎকে না জানিয়ে, রমা দেবীর কাছে গিয়ে চিত্রস্বত্ব নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়ে, ছবিটি দেবকী বসুকে দিয়ে করাতে চেয়েছিলেন। রমা দেবী বলে দিয়েছিলেন, এ ছবি সত্যজিৎ রায়ই তুলবেন, আর কেউই এ ছবি তুলুন, এটা তিনি চান না। (সূত্র: ‘পথের পাঁচালীর নেপথ্য কাহিনী’ চণ্ডীদাস চট্টোপাধ্যায়, ১৯৯৩)। এই একই ঘটনার কথা সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘অপুর পাঁচালী’ গ্রন্থে এবং অনিল চৌধুরী ‘পথের পাঁচালীর নেপথ্যে’ (এক্ষণ, শারদীয় ১৩৯০) নামক স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন।
চণ্ডীদাস চট্টোপাধ্যায়, যিনি রমা দেবীর ভাই, তাঁর ওই একই গ্রন্থে জানিয়েছিলেন, ১৯৫৪ সালের ১২ এপ্রিল ব্যারাকপুরে প্রয়াত বিভূতিভূষণের বাড়িতে রমা দেবী এবং সত্যজিৎ রায়ের মধ্যে ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের চিত্রস্বত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এবং সাক্ষী ছিলেন সিগনেট প্রেসের মালিক দিলীপকুমার গুপ্ত। তাই, দেবকী বসু চিত্রস্বত্ব কিনেছিলেন, এই কথাটি ঠিক নয়।
প্রসঙ্গত জানাই, এই একই ভুল তথ্যটির উল্লেখ দেখা যায় ‘ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত ‘দেবকীকুমার বসু: আ মনোগ্রাফ’ বইতে (পৃ ৪০-৪১)।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
বোসপাড়া, চন্দননগর

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in