কিছু দিন আগে কিছু মারণখেলা দেখা দিয়েছিল। সেখানে, যিনি খেলায় অংশ নেবেন, তাঁর পরিণতি হবে মৃত্যু। কিছু দিন এ ধরনের খবর বিশেষ পাওয়া যাচ্ছে না বটে, কিন্তু মোবাইলে খেলার আকর্ষণ এবং নেশা এখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নানা ধরনের খেলার মধ্যে এক ধরনের মৃত্যু-মৃত্যু, বা বলা ভাল হত্যা-হত্যা খেলার আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। এই ধরনের গেমগুলোতে, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে দেখা যায় এবং বিপরীত পক্ষের খেলোয়াড়কে হত্যা করতে পারলে, গেমের পয়েন্ট বাড়ে। এই খেলা সারা ক্ষণ খেললে, শিশু, যুবকযুবতী, ছাত্রছাত্রীদের উপর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে। আমরা শিখি এবং শেখাই, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। অথচ অবসরের বিনোদন উদ্‌যাপন করি মিথ্যে মৃত্যুর খেলা দিয়ে। 

শঙ্খ অধিকারী

সাবড়াকোন, বাঁকুড়া

 

অরাজনীতি

‘লড়াই হোক রাজনৈতিক’ (১৯-৩) চিঠির প্রেক্ষিতে বলি, কোনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয়। এই প্রসঙ্গে জানাই, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়াতে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, তাই মিমি বা নুসরতকে নিয়ে কথা বলতে গেলে, তাঁদের কথাটাও মনে করা ভাল। এই বারের ভোটে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দ. কলকাতার বাম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় সম্বন্ধে অশ্লীল মন্তব্য করেছেন, নারী হিসেবে মিমি বা নুসরত কেন তাঁর প্রতিবাদ করলেন না? বিজেপির বাবুল সুপ্রিয় বা বাম শিবিরের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কিন্তু এর প্রতিবাদ করেছেন। আর একটা প্রশ্ন, এই তারকা প্রার্থীরাও কি যখন প্রচার করেন, খুব রাজনৈতিক ভাবে করেন? গত বার শতাব্দী রায় প্রচারে বলেছিলেন, ‘‘আমায় ভোট দিলে ফ্রিতে দেখতে পাবেন’’, মুনমুন সেন বাঁকুড়াতে গরমে প্রচারে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি বলে গরম আরও বেড়ে গিয়েছে।’’ ১৮-৩ তারিখের কাগজের প্রথম পাতাতেই মুনমুন সেনের আসানসোলে প্রচারে বেরিয়ে জনতার উদ্দেশে চোখ টিপে তর্জনী নাড়ানোর ছবি আছে। এগুলিও কি রাজনৈতিক বিবৃতি? তাঁদেরও উচিত, হাততালি পাওয়ার লোভে এই ধরণের খেলো মন্তব্য বা আচরণ থেকে বিরত হওয়া। 

অভিজিৎ ঘোষ

কমলপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

 

সবাই নয়

সেমন্তী ঘোষের ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৯-৩) পড়ে, জেনে ভাল লাগল, সাধারণ নিউজ়িল্যান্ডবাসী মানুষ, মসজিদের সন্ত্রাসের শিকার অসহায় আর্তের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সংখ্যালঘু মুসলিমরা যাতে কোনও ভাবেই নিরাপত্তার অভাব বোধ না করেন, সে জন্য সকলেই সচেষ্ট। কিন্তু তাই বলে লেখিকা কী ভাবে ধরে নিলেন, সমস্ত ভারতবাসী মুসলিম-বিদ্বেষী? এখনও ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই হিন্দু-মুসলমান পরস্পর একই বৃন্তে দু’টি কুসুমের মতোই থাকেন— হিন্দুরা যেমন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পিরের দরগায় যান, মুসলিমরাও হিন্দু উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মুসলিমদের উপর আঘাতে সব প্রতিবেশীই আন্তরিক প্রীত হয়ে ওঠেন না। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সমগ্র ভারতবাসীর বিচার বাঞ্ছনীয় নয়।

মৌসুমী সিন্হা

কেন্দুয়াডিহি, বাঁকুড়া

 

নথি প্রসঙ্গে

কলকাতা পুরসভায় সংরক্ষিত কাশীপুর মহাশ্মশানের রেজিস্টারে উল্লিখিত শ্রীরামকৃষ্ণের শেষকৃত্যের নথি (‘শ্রীরামকৃষ্ণের...বেলুড়ে’, ১৭-৩) এবং কাশীপুর পুলিশ স্টেশনের ডেথ রেজিস্টারে নথিবদ্ধ শ্রীরামকৃষ্ণের তিরোধান সম্পর্কিত তথ্যের (‘েশষকৃত্যের নথি’, সম্পাদক সমীপেষু, ২-৪) মধ্যে কোনও বিরোধ থাকার কথা নয়। এখানে লক্ষণীয়, ঠাকুরের তিরোধান সম্পর্কিত তথ্য দু’টি ভিন্ন জায়গায় নথিবদ্ধ হয়েছে: কাশীপুর মহাশ্মশান ও কাশীপুর পুলিশ স্টেশন। এই দু’টি জায়গায় ঘটনার রিপোর্ট করেছেন দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি। এতে অসুবিধা কোথায়? উল্লিখিত দু’টি ভিন্ন স্থানে একই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করতে হবে এমন তো কোনও কথা নেই। 

ঠাকুরের শেষকৃত্য বিষয়ক প্রভূত ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সূত্র পাওয়া যায়। চিঠিতে উল্লিখিত কাশীপুর পুলিশ স্টেশনের ডেথ রেজিস্টারের তথ্য সম্ভবত প্রথম প্রকাশিত হয় মহেন্দ্রনাথ দত্ত লিখিত ‘গুরুপ্রাণ রামচন্দ্রের অনুধ্যান’ (১৯৫৮) গ্রন্থের পরিশিষ্ট অংশে, যা পরে স্বামী প্রভানন্দের ‘শ্রীরামকৃষ্ণের অন্ত্যলীলা’ (২য় খণ্ড, ১৯৮৭) বইয়ে উদ্ধৃত। পরে এই তথ্যই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়। পুলিশ স্টেশনের ডেথ রেজিস্টারে লিখিত সমগ্র অংশটি:  Sl.No- 950; Date of entry: 19.8.86; Name and residence of the deceased: Ram Kisto Promohangsa, 49 Cossipore Road; Date of Death: 15.8.86; Sex- M; Age: 52; Race or Nationality: Hugli; Caste- Brahmin; Religion: Hindu; Profession: Preacher; Cause of Death: Ulcer in the throat; By whom reported: Gopal Ch. Ghosh, Friend; Remarks: Cossipore Ghat.    

ঠাকুরের মহাসমাধি হয়েছিল ১৫ অগস্ট রাত্রি ১ টা ২ মিনিটে। হিসেব অনুযায়ী সেটা ১৬ অগস্ট । ‘...অন্ত্যলীলা’-য় এর পর লেখা আছে, “তিন দিন পরে বুড়োগোপাল, যিনি ঠাকুরের চাইতে বড় ছিলেন, তিনিই কাশীপুর পুলিশ- স্টেশনে এসে এই রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন।” ‘...অনুধ্যান’-এ বিষয়টি একটু ব্যাখ্যামূলক ভাবে লিখিত, “...রেজিস্টারে লিখন-তারিখ অগস্ট ১৮ই কাটিয়া ১৯ই করা হইয়াছে দেখা যায়। অনুমান হয়, সংবাদদাতা  হইলেন, বুড়ো-গোপাল... পরবর্তী কালে, স্বামী অদ্বৈতানন্দ, শ্রীরামকৃষ্ণ অপেক্ষা বয়সে বড় ছিলেন... বুড়ো-গোপালের পূর্বাশ্রমের নাম গোপালচন্দ্র ঘোষ। ...উল্লেখ করা প্রয়োজন, শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘে হুটকো-গোপালের নামও গোপালচন্দ্র ঘোষ; কিন্তু তিনি এইকালে যুবক মাত্র ছিলেন, তাঁহার পক্ষে শ্রীরামকৃষ্ণ বন্ধু বলিয়া পরিচয় দেওয়া একেবারে অসম্ভব না হইলেও, একটু অস্বাভাবিক।’’

মহাশ্মশানের রেজিস্টারে দাহকাজের দিনই তথ্য নথিবদ্ধ করতে হয়। এই হিসেবে মহাশ্মশানের রেজিস্টারের বয়ান ভিন্ন হলেও অসত্য নয়। কারণ ঠাকুরের মহাসমাধির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তমণ্ডলী রাত্রির শেষ প্রহর থেকেই কাশীপুরে আসতে শুরু করেন। গিরিশচন্দ্র ঘোষও শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। “অক্ষয় মাস্টার ও হুটকো-গোপালের মাধ্যমে ঠাকুরের খবর ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তগণ একে একে কাশীপুর বাগানে আসতে থাকে।... এদিকে রামচন্দ্র, গিরিশচন্দ্র প্রমুখ প্রবীণ ভক্তগণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পুষ্করিণীর বাঁধাঘাটে গিয়ে বসেছিলেন” (‘...অন্ত্যলীলা’, ২য়)। তাই, মহাশ্মশানের রেজিস্টারে গিরিশচন্দ্রের নাম থাকা খুবই স্বাভাবিক। এই সময়ে তোলা একটি ফটোতে ভক্তদের সঙ্গে গিরিশচন্দ্র ঘোষ বর্তমান। তাই এগুলি যদি দু’টি ভিন্ন নথি না হয়ে আসলে একটিই রেকর্ড হয়ে থাকে, তবে ‘গোপাল’/ ‘গিরিশ’ কি পূর্ববর্তী গবেষক বা প্রতিবেদকের পড়ার ভুল! ‘-চন্দ্র ঘোষ’ তো উভয়ের সঙ্গেই যুক্ত।

বিভাস চন্দ

ধর্মা, মেদিনীপুর শহর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

• ‘কুড়মি ভোট কোন দিকে, চর্চা চলছে পুরুলিয়ায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ( দিল্লির দৌড়, পৃ ৬, ৫-৪) অজিত মাহাতোকে ‘পূর্বাঞ্চল কুড়মি সমাজ’-এর মুখপাত্র বলা হয়েছে। তিনি ‘আদিবাসী কুড়মি সমাজ’-এর মুখপাত্র।

• ‘অভিজ্ঞতার দাম আছে, বলছেন উল্লসিত ভাজ্জি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের (খেলা, পৃ ১৯, ৮-৪) সঙ্গে হরভজন সিংহ ও রবীন্দ্র জাডেজার ছবির ক্যাপশনে কিছু সংস্করণে ভুলবশত ‘ধোনিদের হারিয়ে’ লেখা হয়েছে। 

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।