‘গান কই! হাসপাতালে ছটফটানি আরাবুলের’ (২৭-৫) শীর্ষক খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। আরাবুল ইসলামকে গত ১১ মে গ্রেফতারের পর ওঁকে বারুইপুর কোর্টে হাজির করানো হয় ১২ মে, এবং কাশীপুর থানার তদন্তকারী অফিসার ১৪ দিন পুলিশ কাস্টডি চাইলে, মহামান্য কোর্ট ১০ দিন পুলিশ কাস্টডি দেন। এর পর ১৯ মে নলমুড়ি রুরাল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক ওঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারের নির্দেশ মতো ওঁকে ওখানে ভর্তি করানো হয়, সম্পূর্ণ পুলিশ পাহারায় সেই দিন থেকে ২৬ মে পর্যন্ত উনি ওখানে ভর্তি থাকার পর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিসচার্জ লিখলে, ওঁকে ২৭ মে কোর্টে প্রোডিউস করা হয়। ১৯ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত পুলিশ প্রহরায় এসএসকেএম হাসপাতালে থাকাকালীন কোনও ব্যক্তিকে ওঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি।

এর পরও উপরোক্ত সংবাদটি পড়ার পর আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ২৫ মে রাতে যে অফিসার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ মে সকাল ৯:৩০ মিনিটে নিজের ডিউটি হস্তান্তর করেন পরের অফিসারকে। এই দু’জন অফিসারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা হয় এবং তাঁরা জানান, কোনও ব্যক্তিকেই আরাবুল ইসলামের কেবিনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বা কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

অরিজিৎ সিনহা,  আরক্ষাধীক্ষক, বারুইপুর জেলা পুলিশ

 

প্রতিবেদকের উত্তর: গত ২৬ মে দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে আরাবুল ইসলামকে ঠিক যে ভাবে পাওয়া গিয়েছে এবং কথা বলে যা জানা গিয়েছে তা-ই পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রকাশিত হয়েছে পরের দিনের (২৭-৫) আনন্দবাজার পত্রিকায়। যদিও তাঁর কাছে পৌঁছতে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। পুলিশ থাকতে আমায় তল্লাশি করেছিলেন আরাবুলের সঙ্গীরা। ফোন এবং নোটপ্যাডটিও তাঁরা নিয়ে নেন।

একা আমি নই, ওই দিন আরাবুলের সঙ্গে খোশগল্প করে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং পুত্র হাকিমুলও (ভাঙড়ে খুনের অভিযোগে বাবার সঙ্গে তাঁর নামও ছিল বলে খবর)। তাঁদের কেন আটকানো হয়নি সে উত্তর পুলিশকর্মীরাই দিতে পারবেন।

খবর প্রকাশের দিন বারুইপুর আদালতে তোলার সময় প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট একটি প্রসঙ্গ নিয়ে আরাবুলকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে (তার ভিডিয়ো রেকর্ডিং রয়েছে)। যদি প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনও কথাই না হবে, তা হলে প্রতিবেদনের অংশ নিয়ে আপত্তি উঠবে কেন? সে ক্ষেত্রে তো আরাবুল বলবেন, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি’’। তা কিন্তু তিনি বলেননি।

 

টেবিল টেনিস

‘হাফপ্যান্টে মেয়েরা, কোপ টেবিল টেনিস ক্লাসে’ (৪-৫) শীর্ষক সংবাদটি সর্বৈব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাস্তবে সঙ্ঘের কতিপয় সদস্য দীর্ঘ দিন যাবৎ ভবন ও সঙ্ঘের নামকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে যাচ্ছেন এবং তাঁরা ২০১৭ সালের সাধারণ সভায় কার্যনির্বাহী সমিতি বা অন্যান্য পদ থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অপসৃত হন।

ওই সদস্যদের এক জন, ইন্দ্রনাথ পাল, গত ১ মে ২০১৮ তারিখে বর্তমান কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য শ্রদ্ধেয় এক প্রধান শিক্ষককে সঙ্ঘভবনে প্রবেশে বাধা দেন ও গালমন্দ-সহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। সেই সময় সঙ্ঘভবনে প্রায় ১০-১৫ জন বহিরাগত যুবক-যুবতী কোনও এক অজ্ঞাত কারণে অবস্থান করছিলেন।

এই ঘটনায় অপমানিত ও ক্ষুব্ধ ওই শ্রদ্ধেয় সদস্য পর দিন সঙ্ঘের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায়, ২ মে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সঙ্ঘভবনে সকল সদস্য আমার নিকট উক্ত ঘটনার বিহিত চান। ইন্দ্রনাথ পাল সঙ্ঘভবনে উপস্থিত থাকায় শ্রদ্ধেয় সদস্যকে নিগ্রহ ও হুমকির বিষয়ে আলোচনা ও বিক্ষোভ চলে।

কিন্তু কোনও ভাবেই টেবিল টেনিস খেলা বা পোশাকবিধি নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা বিক্ষোভ হয়নি বা সঙ্ঘ কর্তৃপক্ষ টেবিল টেনিস খেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি। উপরোক্ত বক্তব্য আপনার সংবাদদাতা চলভাষ মারফত আমার থেকে শোনার পর কী ভাবে এমন ভ্রান্ত খবর লেখেন, তা ভেবে আমরা সত্যিই মর্মাহত।

সত্য ঘটনাটা হল এই যে, ইন্দ্রনাথ পালের তত্ত্বাবধানে টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণ চালু ছিল। তিনি প্রশিক্ষককে প্রভাবিত করে সম্পূর্ণ মিথ্যা রটনা করে নিজের দোষ আড়াল করতে এই উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আপনাদের সংবাদদাতাকে জানান।

আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র দু’-তিন জন সদস্য ও এক জন অভিভাবকের বয়ান নিয়ে সংবাদদাতা এই সংবাদটি পরিবেশন করেন, অথচ তাতে আমার বা বাকি ৭৫ জন সদস্যের বক্তব্য প্রতিফলিত হল না।

এই খবরের জন্য আমাদের সঙ্ঘের সুনামের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে এবং আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

পরের দিন অর্থাৎ ৫ মে আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘হাফপ্যান্ট বিতর্কে পুরনো কাসুন্দি!’ শীর্ষক আর একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়, সেটিও অর্ধসত্য। সেখানে লেখা হয়নি যে, নতুন প্রশিক্ষক দিয়ে টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণ চালু হচ্ছে এবং কতিপয় ছেলেমেয়ে প্রাত্যহিক ভাবে খেলাধুলা করছে, কোনও পোশাক বিতর্ক নেই।

দেবাশীষ নন্দ  সম্পাদক, বাজেশিবপুর যুবক সমিতি

 

প্রতিবেদকের উত্তর: সংবাদপত্রে যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল তা যে সর্বৈব সত্য তার প্রমাণ মেলে পরের দিন টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণরত বালক-বালিকাদের অভিভাবক, সঙ্ঘের বর্ষীয়ান সদস্য এবং টেবিল টেনিস প্রশিক্ষকদের শিবপুর থানায় দেওয়া গণস্বাক্ষর করা অভিযোগপত্রে। সেখানে তাঁরা স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন প্রশিক্ষণ চলার সময় কিছু মহিলা ও পুরুষ ক্লাবে প্রবেশ করে চিৎকার করে যা যা বলেন তা হল: মেয়েদের হাফপ্যান্ট পরে খেলা চলবে না। খেলা চলার সময় পর্দা বা ফেন্সিং রাখা যাবে না। অভিভাবকরা ঘরে প্রবেশ করলে মেরে বার করে দেওয়া হবে। এই অভিযোগপত্রের কপি আমাদের হাতে এসেছে।

এ ছাড়া সংবাদে কোনও জায়গাতেই সংবাদদাতা তাঁর নিজস্ব কোনও মতামত দেননি। ওই ক্লাবের বর্ষীয়ান সদস্যদের বক্তব্য যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই সম্পাদকের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে দু’দিনই। সেখানে ক্লাবের সদস্যদের অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

 

শিশুসাহিত্য

‘বিজ্ঞানসম্মত?’ (৩-৬) চিঠিটি পড়ে মনে হল লেখক বিজ্ঞান আর শিশুসাহিত্যকে গুলিয়ে ফেলেছেন। লেখকের প্রদত্ত উদাহরণগুলিকে কট্টর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হাস্যকর। সাত-আট বছরের শিশুদের পক্ষে এগুলো অবৈজ্ঞানিক নয়, বরং বয়সোচিত কল্পনার স্বাভাবিক খোরাক। সাহিত্যের এই অবাস্তব কল্পনার আশ্রয়ে শিশুমনের নিজস্ব জগৎ গড়ে ওঠে। লেখকের কথা মানলে তো ‘কঙ্কাবতী’র কোটপ্যান্ট পরা দেনাগ্রস্ত ব্যাঙ বা ‘টুনটুনির বই’-এর রকমারি জন্তু বা ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র ব্যাঙ্গমাও বৈজ্ঞানিকতার অভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। বাচ্চাটি নিজেই ভবিষ্যতে সাহিত্য ও বিজ্ঞানের ভারসাম্য বজায় রাখবে আশা

করা যায়। আর দক্ষিণারঞ্জন-রবীন্দ্রনাথ-সুকুমারের বাংলায় যদি কল্পনার মতো ব্রহ্মাস্ত্র হৃদয়ে চিহ্ন না ফেলে, তবে বৃথা এই বাংলা ভাষা রক্ষার অভিযান!

রাহুল আচার্য  ই-মেল মারফত

 

ভ্রম সংশোধন

‘গাড়ি গতির...’ শীর্ষক সংবাদে (৫-৬, পৃ. ৫) ‘ঘণ্টায় ন্যূনতম গতিবেগের তালিকা’ লেখা হয়েছে। সেটি ‘ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগের তালিকা’ হবে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়