ব্যাটে-বলে লর্ডস মাতাবে কলকাতার ওরা 

বছর চোদ্দোর অঞ্জলি পাসওয়ান এক সময় থাকত কলকাতার রাস্তায়। লন্ডন তার কাছে তখন স্বপ্নের জায়গা। এ সপ্তাহে সেই অঞ্জলিই ক্রিকেট খেলল লর্ডস মাঠে! পথশিশুদের নিয়ে, শিক্ষা ও লিঙ্গসাম্য নিয়ে দারুণ বলেছেও সে। কলকাতার আরও সাত জন শিশুর সঙ্গে অঞ্জলি লর্ডসে এসেছে ‘স্ট্রিটচাইল্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৯’-এ টিম ইন্ডিয়া নর্থ-এর হয়ে খেলতে। ওদের নিয়ে এসেছে ‘হোপ ফাউন্ডেশন’, কলকাতার পথশিশু ও বস্তিবাসী মানুষকে নিয়ে যাদের কাজ। অঞ্জলির পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল ওদের দলের ক্যাপ্টেন তারক সরদার। বাবা মারা যাওয়ার পর তারকরা থাকত গড়িয়াহাটের রাস্তায়। তাকে উদ্ধার করে একটি এনজিও। তারক বলেছে ওর স্বপ্ন পেশাদার ক্রিকেটার হওয়া, তবে এই মুহূর্তে পড়াশোনাটা জরুরি। আটটি শিশুই রাস্তায় দিন কাটিয়েছে, ওদের জন্মের শংসাপত্রও নেই। কিন্তু এ সপ্তাহে ওরাই ইংল্যান্ডে অতিথি। বাকিংহাম প্যালেস, বিগ বেন, লন্ডন আই দেখেছে, ওভাল ক্রিকেট মাঠও ঘুরেছে। পথশিশুদের এই প্রথম বিশ্বকাপে একত্র হয়েছে বিশ্বের বহু পথশিশু। ইংল্যান্ডেরও একটা দল আছে। দশটা দল শুধু ক্রিকেটই খেলেনি, পথশিশুদের গায়ে লেগে থাকা সামাজিক নিন্দা সম্পর্কে সচেতনতার কথাও বলেছে। তারকদের অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে, সবচেয়ে ভাল লেগেছে ইংল্যান্ডের বন্ধুদের। ওরা হিন্দিতে কথা বলেছে, বলিউডের গানও শুনিয়েছে! ৩০ মে টুর্নামেন্ট শুরু। কারা জিতবে জিজ্ঞেস করায় কলকাতার শিশুরা সমস্বরে চেঁচিয়ে বলেছে, ‘ইন্ডিয়া!’

খেলোয়াড়: তারক, অঞ্জলি-সহ কলকাতার শিশুরা। ডান দিকে, টুর্নামেন্টের পদক

 

নাচ ও কারি

ব্রিটেনের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের অন্যতম আকরাম খান চ্যানেল ফোর-এর এক তথ্যচিত্রে ফিরে দেখেছেন নিজের অতীত। বাংলাদেশ থেকে আসা আকরামের মা-বাবা দক্ষিণ লন্ডনের উইম্বলডনে একটা কারি রেস্তরাঁ চালাতেন। দশ বছর বয়সি আকরাম বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবিদ্বেষীরা বাবাকে পীড়ন করত, আতঙ্কিত আকরাম নীরবে দেখতেন তা। ‘দ্য কারি হাউস কিড’ নামের তথ্যচিত্রটি আংশিক আত্মজীবনীমূলক, বাকিটা আকরামের নাচ নিয়ে। জীবনের অভিজ্ঞতাই নাচে বেঁধেছেন তিনি। নাচের ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন রেস্তরাঁর ওয়েটারের কারি পরিবেশন, আক্রান্ত হওয়া, আবার মুক্তির আস্বাদও। তথ্যচিত্রে ৪৪ বছর বয়সি আকরাম জানিয়েছেন নিজের ঐতিহ্য সম্পর্কে গোড়ায় তাঁর বিভ্রান্তির কথা। মাইকেল জ্যাকসনের নাচ দেখে তাঁর মনে হয়, তিনিও কিছু করতে পারেন। রেস্তরাঁয় টেবিলগুলো ঘিরে মুনওয়াক করতেন, দু’হাতে পাঁপড় আর কারির প্লেট! নাচ ছাড়া কিছু চাননি জীবনে। পরে মা তাঁকে কত্থক শেখাতে নিয়ে যান ভারতীয় বিদ্যা ভবনে। ১৩ বছর বয়সে পিটার ব্রুকের ‘মহাভারত’-এ সুযোগ পান আকরাম, যান বিশ্ব ভ্রমণে। গত বছর তাঁর কাজ ‘জ়েনস’-এর জন্য পেয়েছেন অলিভিয়ের অ্যাওয়ার্ড। তথ্যচিত্রে আকরাম পূর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে কারি হাউসগুলো ঘুরে ঘুরে মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

 

ছবির সফর

শৈল্পিক: আর্তেমিসিয়ার আত্মপ্রতিকৃতি

লন্ডনের ন্যাশনাল গ্যালারি তাদের দেওয়াল থেকে বিখ্যাত একটি শিল্পকর্ম সরিয়ে নিয়ে প্রকাশ্য স্থানে রেখেছে যাতে মানুষজন তা সহজে দেখতে পান। আর্তেমিসিয়া জেন্তিলেস্কি-র ‘সেল্ফ পোর্ট্রেট অ্যাজ় সেন্ট ক্যাথরিন অব আলেকজ়ান্দ্রিয়া (১৬১৫-১৭)’ ছবিটিকে রাখা হয়েছে ইস্ট ইয়র্কশায়ারে এক ডাক্তারখানায়, সেখানে অপেক্ষমাণ রোগীরা ছবিটি দেখতে পাবেন। পরবর্তী গন্তব্য নিউকাসল-এ সেক্রেড হার্ট ক্যাথলিক হাই স্কুল, সেখানে অডিটোরিয়ামে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের এক শিল্প প্রদর্শনীতেই রাখা থাকবে এই ছবিও। সতেরো শতকের ইটালির বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের অন্যতম ছিলেন আর্তেমিসিয়া। যে সময়ে নারী শিল্পীদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল না, সেই সময়ে তিনি ফ্লোরেন্সের অ্যাকাডেমি অব আর্ট-এ প্রথম মহিলা সদস্য হয়েছিলেন।

 

স্মরণ

ইন্ডিয়া ক্লাবে হয়ে গেল সত্যনারায়ণ গৌরিসারিয়া-র স্মরণসভা। গত ডিসেম্বরে কলকাতায় প্রয়াত হয়েছেন তিনি। ইন্ডিয়া ক্লাব ছিল ‘সারিয়া’র আপন জায়গা। যশস্বী এই ব্যবসায়ী ইন্ডিয়া লিগ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ‘ইন্ডিয়া উইকলি’র সম্পাদক। ১৯৭৪-এ রয়াল আলবার্ট হল-এ তিনিই আয়োজন করেন লতা মঙ্গেশকরের কনসার্ট। সভায় এসেছিলেন বহু স্বজন-বন্ধু।