Advertisement
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Editioal News

এই অনন্ত অসাফল্যকে মার্জনা করা বিলাসিতা

সচেতনতা অভিযান রয়েছে, সতর্কবার্তা রয়েছে, কিছু আইন রয়েছে, কখনও-সখনও সে সব আইনের প্রয়োগও রয়েছে।

শুধু চাইল্ড পর্ন নয়, ইন্টারনেটে সম্প্রতি ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ভিডিয়োর খোঁজও খুব বেড়ে গিয়েছে। প্রতীকী ছবি।

শুধু চাইল্ড পর্ন নয়, ইন্টারনেটে সম্প্রতি ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ভিডিয়োর খোঁজও খুব বেড়ে গিয়েছে। প্রতীকী ছবি।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০১৮ ০০:৫২
Share: Save:

প্রচেষ্টাই কার্যসিদ্ধির দিকে নিয়ে যায়, ব্যর্থতাই সাফল্যের সিঁড়ি হয়ে ওঠে। ঠিক কথা এ সবই। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্র এমনও রয়েছে, যেখানে আদি-অনন্ত কাল ধরে প্রচেষ্টার স্তরে আটকে থাকা যায় না অথবা বার বার ব্যর্থ হওয়াকে সাফল্যের দিকে অগ্রগতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। কারণ সে সব ক্ষেত্রে বার বার অসফল হওয়ার মতো বিলাসিতা করার সুযোগ আমাদের নেই।

Advertisement

মানুষের জীবন জড়িত যে প্রশ্নের সঙ্গে, ন্যূনতম মানবাধিকারটুকু জড়িত যে প্রশ্নের সঙ্গে, সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অনন্ত সময় নেই আমাদের হাতে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে কখনও কোনও রাষ্ট্রের খামতি হয় না, এমন নয়। কিন্তু খামতিই যদি নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তা হলে মেনে নেওয়া দুস্কর।

শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফির চাহিদা হু হু করে বাড়ছে এ দেশে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ওই ধরনের পর্নোগ্রাফির অনলাইন সার্চ ক্রমবর্ধমান। চাহিদা বাড়লে জোগান বাড়ানোরও চেষ্টা চলে। সুতরাং শিশু পাচার বাড়ে, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ বাড়ে।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

Advertisement

শুধু চাইল্ড পর্ন নয়, ইন্টারনেটে সম্প্রতি ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ভিডিয়োর খোঁজও খুব বেড়ে গিয়েছে। মানসিক বিকৃতি থেকেই যে এই রকম জঘন্য বিষয়ে আগ্রহ আসে, তা নিয়ে সংশয় থাকার কথা নয়। কিন্তু এ বিকৃতি রোখা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এ বিকৃতি সমাজের পক্ষে বিপজ্জনক, আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে ভয়াবহ। প্রথমে ভিডিয়োর খোঁজ, তার পরে বাস্তবের লালসা— আকছার ঘটছে এমন ঘটনা।

অপরাধ যখন ঘটে যায় এবং তার খবর যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন প্রশাসন সক্রিয় হয় বটে। কিন্তু প্রথমত, সব ক্ষেত্রে ন্যায় আদায় করে দিতে পারে না। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধকে শিকড় থেকে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে পদক্ষেপ করা হয় না। শিশু পর্নোগ্রাফি, রেপ ভিডিয়ো বা শিশু পাচারের ক্ষেত্রে অভিযোগ ভিত্তিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। অভিযোগই যাতে না ওঠে, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি। এই ভয়ানক দুঃস্বপ্নকে সমাজ থেকে মুছে ফেলা জরুরি। কিন্তু তার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ জরুরি, তা কখনওই দেখা যায় না।

আরও পড়ুন
শিশু পর্নোগ্রাফি রুখতে কেন্দ্রের ঢক্কানিনাদ, পোর্টালের নামে ছেলেখেলা

সচেতনতা অভিযান রয়েছে, সতর্কবার্তা রয়েছে, কিছু আইন রয়েছে, কখনও-সখনও সে সব আইনের প্রয়োগও রয়েছে। কিন্তু এমন জঘন্য অপরাধ বা প্রবণতার বিরুদ্ধে কিছু আইন প্রণয়ন এবং সুযোগ পেলে সে আইনের কিয়ৎ প্রয়োগই যে যথেষ্ট নয়, অনেক বেশি সক্রিয়তা নিয়ে এবং সদিচ্ছায় গভীরতা নিয়ে যে পদক্ষেপ করা জরুরি, সে কথা বুঝতেই হবে এ বার প্রশাসনকে।

আমরা শিশু পাচার ঠেকাতে পারি না। আমরা শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ কমাতে পারি না। চাইল্ড পর্নের অনলাইন কারবার রোখার জন্য সরকার একটি পোর্টাল খুলল। কিন্তু সে পোর্টালকেও আমরা টেকাতে পারি না। গোড়াতেই গলদ হয়, শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে পোর্টাল, অকেজো হয়ে পড়ে অপরাধ নিরসনের অনলাইন ব্যবস্থা।

যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে খোলা হয়েছিল পোর্টালটি? নাকি দায়সারা বন্দোবস্তেই কাজ সেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল? চাইল্ড পর্ন বিরোধী সরকারি পোর্টাল নিয়ে এখন এমনই সব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর কবে সফল হবে প্রশাসন? আর কত দিন ধরে কত শৈশব নষ্ট হয়ে যাবে? প্রশ্ন তুলতে হবে এ বার সবাই মিলে। সরকার বা রাষ্ট্র চেষ্টা করছে কিন্তু পেরে উঠছে না, এমন কথা বা এমন তত্ত্বকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো সময় বা সুযোগ আমাদের কাছে আর নেই।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.