Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘বিজেপির তিন এজেন্সি কাজ করছে মুর্শিদাবাদে’! রোড শো শেষে অভিষেকের নিশানায় জ্ঞানেশ, অধীর এবং হুমায়ুনও

শনিবার মুর্শিদাবাদের আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক। সেই রোড শোয়ের পর তিনি সুর চড়ান বিজেপি, কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৭
Abhishek Banerjee attacks BJP and Election Commission after roadshow in Murshidabad

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

মুর্শিদাবাদে রোড শোয়ের পর একযোগে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভোটের সময় মুর্শিদাবাদে বিজেপির ‘তিন ‌এজেন্সি’ কাজ করছে। এই ‘তিন এজেন্সি’ কী, তা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ জানান, কমিশন, অধীরের কংগ্রেস এবং হুমায়ুনের মিম ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম— বিজেপির হয়ে কাজ করছে। অভিষেকের কথায়, ‘যাঁরা ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা বিজেপির দালাল।’’

শনিবার আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক। সেই রোড শোয়ের পর তিনি সুর চড়ান বিজেপি, কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নদী ভাঙন রোখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘ফরাক্কা এবং সমশেরগঞ্জের অন্যতম বড় সমস্যা হল নদীভাঙন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং সরকার বার বার কেন্দ্রকে চিঠি লিখে এই নদী ভাঙনকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ করেনি।’’

অভিষেক জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং সমস্যা মোকাবিলায় ১০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যায় করে কাজের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার পরেই তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘ফরাক্কা বাঁধে অনেক অব্যবহৃত জমি পড়ে আছে। সেগুলি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা পুনরায় নির্বাচিত হলে ওই জমিগুলি ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করবে তৃণমূল।’’ অভিষেকের প্রতিশ্রুতি, ‘‘নদী ভাঙনের কারণে যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাঁরা সকলে সেই জমিতে একটি করে বাড়ি পাবেন।’’

Advertisement

নির্বাচনী প্রচার থেকে একযোগে বিজেপি, কমিশনকে নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে। বিজেপির তিনটি এজেন্সি এখানে কাজ করছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন, যারা মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস এবং তৃতীয়ত মিম এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি।’’ অভিষেকের আবেদন, ‘‘ভোটের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ভাগ করতে পারবেন না। যারা আমাদের মধ্যে বিভাজন করতে চায়, তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে।’’

অভিষেকের বক্তৃতায় উঠে এসেছে এসআইআর এবং নাম বাদের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা দুশ্চিন্তা করবেন না। আমরা ৪ তারিখে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এক মাসের মধ্যে সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেব।’’ একই সঙ্গে শুক্রবার লোকসভায় কেন্দ্রের আনা সংবিধান সংশোধনী বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা মহিলা বিলের কথা বলছে। কিন্তু ওটা মহিলা বিল ছিল না। ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। তৃণমূল কংগ্রেস দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিজেপি চাইলেও দেশ ভাঙতে বা ভাগ করতে পারবে না।’’

অন্য দিকে, সবংয়ে এক তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগও তুললেন অভিষেক। এক্স পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আমার নজরে এসেছে কয়েক জন গুন্ডা সবংয়ে আমাদের এক সমর্থকের বাড়িতে জোর করে ঢুকে, তাঁর কন্যার সামনে কটূক্তি করেছে। ভয় দেখিয়েছে।’ বিজেপির বিরুদ্ধেই এই হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক ভাবে বিজেপি-কে জবাব দেবে এ রাজ্যের মানুষ।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Abhishek Banerjee BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy