আগামী ৪ মার্চ বিধানসভা ভোটের গণনাপর্বের পরে আবার পশ্চিমবঙ্গে আসার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সোমবার প্রচারের শেষপর্বে এ কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরেই এআই সহায়তায় প্রণীত এক অডিয়োবার্তায় পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে তিনি বললেন— ‘‘গণতন্ত্রের মন্দিরে বিজয়পতাকা ওড়ানোর এক অসাধারণ সুযোগ আপনাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে।’’
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ওই অডিয়োবার্তায় শুরুতে মোদী লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমার প্রিয় পরিবারবর্গ, গণতন্ত্রের এই উৎসব আপনাদের সামনে বিজেপির বিজয়ের ধ্বজা ওড়ানোর এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। আমি নিশ্চিত যে ২৯ এপ্রিল, আপনারা ভোটদানের এক নতুন রেকর্ড গড়বেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, আমি একটি অডিয়োবার্তার মাধ্যমে আমার মনের ভাব ব্যক্ত করেছি…’’।
আরও পড়ুন:
এর পরে ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের সেই অডিয়োর সূচনায় মোদী পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের ‘উন্নয়নের রোডম্যাপ’ তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, বাংলায় ভোটপ্রচারে তিনি অন্য ধরনের শক্তি অনুভব করেছেন। বললেন, ‘‘আমার বাংলার এই নির্বাচনী প্রচার অভিযানে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি অনুভব করিনি।’’ সেই সঙ্গে মোদীর মন্তব্য, ‘‘আমি অনুভব করতাম আমার এক তীর্থযাত্রা হচ্ছে। আমি যখন মা কালীর ভক্তদের মধ্যে যেতাম, তখন সম্ভবত মা কালী নিজেই আমাকে নতুন শক্তিতে পরিপূর্ণ করে দিচ্ছিলেন।’’
মোদীর দাবি, অযোধ্যায় রামলালার মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠার আগে ব্রত পালনের সময় ‘প্রভু রামচন্দ্র’ তাঁকে বিপুল শক্তি দিয়েছিলেন। এ বার বাংলার জনগণের মুখোমুখি হয়ে তিনি সেই একই শক্তি পেয়েছেন। উন্নত এবং বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘‘বাংলার যুবসমাজ এগিয়ে যাওয়ার জন্য উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ চায়। বাংলার নাগরিক সুরক্ষা চায়। এখন পরিবর্তন করেই ছাড়তে হবে।’’ সেই সঙ্গে অডিয়ো বক্তৃতায় নাম না করে তৃণমূলকে দুষে তাঁর মন্তব্য, ‘‘অনেক ভয় দেখিয়েছে, এখন আর ভয় নয় ভরসা চাই। বাংলাকে সুরক্ষিত রাখা আমার পরম দায়িত্ব।’’ প্রথম দফার ভোট ইতিহাস রচনা করছে বলে দাবি করে দ্বিতীয় দফার ভোটদাতাদের কাছে মোদীর আবেদন, ‘‘আগামী ২৯ এপ্রিল আপনারা বেশি সংখ্যায় ভোটদান করুন। গণতন্ত্রের মন্দিরে বিজয়পতাকা ওড়ানোর এক অসাধারণ সুযোগ আপনাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত