দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে ভোটপ্রস্তুতির সময়ে বেশ কিছু জায়গায় চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ যেমন বর্ধমান থেকে এসেছে, তেমনই এসেছে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে।
মঙ্গলবার বর্ধমানের ডিসিআরসি-তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাটোয়া, পূর্বস্থলী ও মঙ্গলকোটের একাধিক ভোটকর্মী। তাঁদের দাবি, ডিসিআরসি কেন্দ্র থেকে তাঁদের ভোটদানের ব্যবস্থা করার কথা বলেছিল। কিন্তু তাঁরা এসে দেখেন, তাঁদের জন্য ব্যালট পাঠানো হয়নি। ফলে, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরে, তাঁরা কাজে যান। প্রশাসনের যদিও দাবি, এমন কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীদের একাংশ দাবি করেন, নিজেরা ভোট দিতে না পারলে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন না। পূর্ব বর্ধমানের নানা ডিসিআরসি কেন্দ্রে আসা ভোটকর্মীদের একাংশের দাবি, এ বার সহায়তা করার লোক তুলনায় কম। ফলে, নানা সমস্যা মেটাতে দেরি হয়েছে।
নদিয়ার তেহট্টে বি আর আম্বেডকর কলেজ ও বেতাই পলিটেকনিক কলেজে ডিসিআরসি-তে এ দিন বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ নেওয়া বাবদ যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে কম টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। পরে মহকুমাশাসক (তেহট্ট) অভিজিৎ রায়ের হস্তক্ষেপে তাঁদের বকেয়া টাকা মেটানো হয়। ভাঙড়ে ঘটকপুকুর হাই স্কুলের ডিসিআরসি-তে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিহার থেকে আসা ভোটকর্মী সিএইচ সুধাকর। অভিযোগ, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হতে অনেক সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত সহকর্মীরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলার একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে, বহু স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে শেষ মুহূর্তে স্রেফ ফোন করে ভোটের ডিউটিতে আসতে বলা হয়েছে। অনেকের হাতে নির্বাচন কমিশনের চিঠি পর্যন্ত পৌঁছয়নি। অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোটের সামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছনোর পরে কোনও তথ্য না দিয়ে এঁদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত সই করিয়ে তাঁদের আজ, বুধবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে এই নবনিযুক্ত ভোটকর্মীরা নিজেরা কী ভাবে ভোট দেবেন, তাঁদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বরাদ্দ হবে কি না, সেই প্রশ্নথেকেই গিয়েছে।
এ দিকে, কিছু এলাকায় বিশিষ্টজনদের একাংশের যোগাযোগ নম্বর কেন্দ্রীয় বাহিনী সংগ্রহ করছে বলে খবর। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, ভোটের দিন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, সেই খোঁজখবর নেওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ। এর নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)