ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে গত জানুয়ারিতে সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি এবং বণ্টন ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা থেকে বেরোনোর সূত্র খোঁজা। এখনও পর্যন্ত স্থির রয়েছে, মূলত এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৮ মে থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সফর শুরু করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রথমেই নরওয়েতে ‘ইন্ডিয়া নর্ডিক’ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর যাবেন ইটালিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে। এর পর জুনের মাঝামাঝি জি-৭ বৈঠকে যোগ দিতে প্যারিসে যাওয়ার কথা তাঁর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আসন্ন সফরে ভ্যাটিকানে পোপ-এর সঙ্গেও দেখা করতে পারেন মোদী।
নরওয়েতে সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং অবশ্যই নরওয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দেখা এবং বৈঠক হবে মোদীর। প্রসঙ্গত এর আগে দু’বার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্টকহোম (২০১৮) ও কোপেনহাগেন (২০২২)-এ। ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য-রাষ্ট্র নরওয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানাচ্ছে কূটনৈতিক মহল। অসলোতে হওয়া ওই সম্মেলনের কেন্দ্রে থাকবে শক্তি, পরিবেশ, সমুদ্র অর্থনীতির মতো বিষয়গুলি। নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রসঙ্গত তিনি ২০১৭ সালে শেষ বারের মতো ওই দেশে গিয়েছিলেন। ভারতের সঙ্গে কৃষি, জলসম্পদ, প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের অংশীদারি রয়েছে। ভারতের বিনিয়োগও সে দেশে উল্লেখযোগ্য।
প্রসঙ্গত এর আগে ইটালিতে মোদী দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরে কখনও যাননি। ২০২১ সালে জি ২০ সম্মেলনে যোগ দিতে এবং ২০২৪-এ জি-৭ আউটরিচ সম্মেলনে গিয়েছেন। তাঁর আসন্ন ইটালি সফরে প্রতিরক্ষা, শক্তি এবং বিনিয়োগ নিয়ে কথা হবে।
প্রসঙ্গত, দু’মাস আগেই ইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি করার পরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এটা নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে।” এর ফলে বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলে জানিয়েছিলেন মোদী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)