চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক পড়ার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষার আয়োজনে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে কড়া শাস্তির কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। সদ্যই ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন একটি বৈঠকে সর্বভারতীয় স্তরের এই পরীক্ষার আয়োজন কী ভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সব রাজ্যের সচিব এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর ডিরেক্টর জেনারেল ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রের সঙ্গে এক জোট হয়ে সব রাজ্যকে স্বচ্ছ এবং সুরক্ষিত প্রবেশিকা আয়োজন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতিটি রাজ্যের বাছাই করা আধিকারিকেরা যাতে আয়োজক সংস্থা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করেন, সেই নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্র।
বৈঠক চলাকালীন কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করেছে, তা-ও খতিয়ে দেখেন ক্যাবিনেট সচিব। জানা গিয়েছে, ৩ মে-র পরীক্ষায় যা যা সমস্যা হয়েছিল, তার সমাধান করা হয়েছে কি না— তা নিয়েও ওই বৈঠকে এক দফার আলোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকতে চলেছে আধাসেনা এবং বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র তৈরি হওয়ার পর তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পুনঃপরীক্ষার দিন সার্বিক সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে সেন্ট্রাল রিসার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)।
দ্বিস্তর নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র-সহ সব গোপন নথি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট বিমানবন্দর, হেলিপ্যাড এবং অন্য সব রকম গণপরিবহণ ব্যবহার করবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা। ১১ জুন থেকে ১৯ জুনের মধ্যে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব নথি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ সম্পূর্ণ হতে চলেছে।
পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে প্রশ্নকর্তা এবং অনুবাদকদের আলাদা করে নিরাপদ স্থানে নজরবন্দি রাখারও নিদান দেওয়া হয়েছে। ২১ জুন পর্যন্ত তাঁরা মোবাইল, ল্যাপটপের মতো কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ৩ মে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্তদের অনেকেই প্রবেশিকার প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন।