Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘স্লগ ওভারে’ এসে গতি বাড়াতে তৎপর শাহ, প্রোটোকল সরিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার বরাদ্দ করা হল সুকান্তের জন্য

কলকাতা থেকে জামালপুর হেলিকপ্টারে পৌঁছোতে বড়জোর আধ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই বেলা পৌনে তিনটেয় সভা থাকলে দুপুর ২টো ১৫ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ওড়াই যথেষ্ট।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৪৫
Amit Shah kin on increasing speed of campaign at last leg, putting aside protocols HM’s Chopper flies with Sukanta

শাহের কপ্টারেই প্রচার সারছেন সুকান্ত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপির রাজ্য নেতারা আড়ালে-আবডালে বলছেন ‘কার্পেট বম্বিং’। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের উপর আকাশ থেকে ভারী মাত্রায় বোমাবর্ষণ। পশ্চিমবঙ্গে প্রচারাভিযানের ‘ওজন’ বিজেপি যে পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, রূপকার্থে তাকে তৃণমূলের উপরে ‘বোমাবর্ষণ’ বললে ভুল হয় না বলে অনেকে মনে করছেন। সে সব ‘বোমা’ যে আকাশ থেকেই বর্ষিত হচ্ছে, তা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। কারণ, প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব কর্মসূচিতে ‘তারকা প্রচারক’দের পাঠানোর তাগিদে ঢালাও হেলিকপ্টারের বন্দোবস্ত হয়েছে। আকাশপথে রাজ্য চষে ফেলছেন বিজেপি নেতারা। প্রচারপর্বের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গতি আরও বাড়াতে অমিত শাহ নিজের জন্য বরাদ্দ হেলিকপ্টারটিও অন্যদের জন্য মাঝেমধ্যে ছেড়ে দিচ্ছেন।

যেমন শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যবহার্য হেলিকপ্টারটি বরাদ্দ করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তরপূর্ব উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের জন্য। প্রথম দফার ভোটের আগে সুকান্ত উত্তরবঙ্গেই বেশি সময় দিয়েছেন। সেখানেও তাঁর জন্য দল হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা রেখেছিল। প্রথম দফার ভোট সেরে দক্ষিণবঙ্গে ফেরার পরেও তিনি কলকাতা থেকে দূরবর্তী জেলাগুলিতে আকাশপথেই যাচ্ছিলেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বা কেন্দ্রীয় স্তর থেকে আসা তারকা প্রচারকদের জন্যও একই ব্যবস্থা হচ্ছিল। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে প্রচারের শেষ তিন দিনে বিজেপি এমন ‘তারকার মেলা’ বসিয়েছে, যে শাহকেও অবসরে নিজের কপ্টার ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

শনিবার শাহের জনসংযোগ কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল দুপুরের পর থেকে। পৌনে তিনটেয় পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে প্রথম জনসভা। বিকেলে হাওড়ার শ্যামপুরে জনসভা। তার পরে হাওড়ার রামরাজাতলা এবং দক্ষিণ কলকাতার রানিকুঠিতে রোড শো। কলকাতা থেকে জামালপুর হেলিকপ্টারে পৌঁছতে বড়জোর আধ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই বেলা পৌনে তিনটেয় সভা থাকলে দুপুর ২টো ১৫ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ওড়াই যথেষ্ট। অতএব শাহের জন্য বরাদ্দ হেলিকপ্টার শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরাদ্দ করে দেওয়া হয় সুকান্তের জন্য।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি হেলিকপ্টার এখন কলকাতা বিমানবন্দরেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে দিনগুলিতে পশ্চিমবঙ্গে থাকছেন, সে সব দিনে আরও দু’টি করে হেলিকপ্টার বিমানবন্দরে এনে রাখা হয় ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসাবে। অর্থাৎ, যে তিনটি কপ্টারের বহর নিয়ে তিনি যাতায়াত করেন, তার মধ্যে কোনওটিতে সমস্যা থাকলে যাতে তৎক্ষণাৎ বিকল্পের ব্যবস্থা করা যায়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় ছিলেন না-বলে অতিরিক্ত দু’টি হেলিকপ্টার বিমানবন্দরে এনে রাখা হয়নি। বাকি তিনটি বিমানবন্দরের টারম্যাকে অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার কারণে সেগুলি অন্য কারও জন্য বরাদ্দ করার অবকাশ ছিল না।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই শাহের হেলিকপ্টারও সাধারণত আলাদা রাখা হয়। অন্য কাউকে তা দেওয়া হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এ ধরনের প্রোটোকল বা নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের গেরো যাতে প্রচারাভিযানের গতিরোধ না-করে, শাহ সে বিষয়ে সতর্ক। তাই নিজের জন্য বরাদ্দ হেলিকপ্টারটি তিনি বসিয়ে রাখার পক্ষপাতী নন। শাহের মতো সুকান্তেরও শনিবার চারটি কর্মসূচি ছিল। সবক’টিই রোড শো। প্রথমে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এবং মেমারিতে। তার পরে কলকাতায় ফিরে বেহালা পশ্চিম এবং কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে যান সুকান্ত। টারম্যাকে পৌঁছে বুঝতে পারেন, এত দিন যেটিতে যাতায়াত করেছেন, এটি সেই হেলিকপ্টার নয়। নতুন এবং আধুনিক সুবিধাযুক্ত। উড়ান শুরুর আগে পাইলট যখন সওয়ারিদের নিয়মমাফিক ‘ব্রিফ’ করছেন, তখন জানা যায় যে, যানটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্যই এসেছে এবং সেটি একেবারেই নতুন।

১০টা ২০ নাগাদ কলকাতা থেকে উড়ে ১০টা ৪৮ মিনিটে খণ্ডঘোষ পৌঁছোন সুকান্ত। সেখানকার রোড শো সেরে আবার হেলিপ্যাড এবং আকাশপথে মেমারি। তখন কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে ১২টা। ওই সময়ের মধ্যেই হেলিকপ্টার ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল সুকান্তের। তাই তাঁকে মেমারিতে নামিয়ে সেটি কলকাতা ফিরে আসে শাহকে নিয়ে জামালপুর রওনা দেওয়ার জন্য। আর মেমারির কর্মসূচি সেরে সড়কপথে বিকেলের মধ্যেই কলকাতা ফিরে আসেন সুকান্ত।

শনিবার শাহ ছাড়াও বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তর থেকে আসা একঝাঁক ‘ওজনদার’ নাম দক্ষিণবঙ্গ চষে বেড়িয়েছেন। রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা, নিতিন নবীন, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, স্মৃতি ইরানি, মনোজ তিওয়ারি তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ঘন ঘন যাওয়া আসা করছেন। তাই প্রচারের ‘স্লগ ওভারে’ বিজেপিতে হেলিকপ্টারের চাহিদা তুঙ্গে। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া হচ্ছে ‘শাহি’ প্রোটোকলকেও।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Sukanta Majumdar Amit Shah BJP Election Campaign Helicopter
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy