Advertisement
E-Paper

মশা কামড়ালেই বোঝা যাবে রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু ঢুকল কি না! গবেষণা চলছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যানো টোকনোলজি-র অধ্যাপক সৌরভ সরকার এবং দুই গবেষক ছাত্র খোঁজ করছেন নতুন নির্ণায়কের। মূলত কোয়ান্টাম বায়ো সেন্সর তৈরি করতেই চাইছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৮:২৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ডেঙ্গির জীবাণু যত ক্ষণ না শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ভাল মতো, তত ক্ষণ তাকে শনাক্ত করাই যায় না। মশার কামড় থেকে রোগ নির্ণয় পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ৪-৭ দিন। অনেক ক্ষেত্রেই এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা যায় না। ফলে রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় অনেক ক্ষেত্রে। রোগ নির্ণয় করতে ডেঙ্গির ভাইরাস যাতে তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যানো টোকনোলজি-র অধ্যাপক সৌরভ সরকার এবং দুই গবেষক ছাত্র খোঁজ করছেন নতুন নির্ণায়কের। মূলত কোয়ান্টাম বায়ো সেন্সর তৈরি করতেই চাইছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য পেয়েছেন। অধ্যাপক জানান, সম্প্রতি ওই অর্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই মতো কাজও শুরু করেছেন।

এক গবেষক মানস ঠাকুর জানান, যে ডিভাইস তাঁরা তৈরি করছেন সেটা দিয়ে দ্রুত এই ডেঙ্গির ভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। তিনি বলেন, “মশা কামড়ানোর কয়েক দিন পরে জ্বর আসে। অর্থাৎ, তখন শরীরে ভাইরাস ক্রিয়া করতে শুরু করেছে। তারও প্রায় দু’দিন পরে ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। কারণ, রক্তের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাইরাস না পাওয়া গেলে তাকে চেনা যায় না।” তত ক্ষণে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে।

নতুন গবেষণায় যে ডিভাইস তৈরির চেষ্টা চলছে, সেখানে মশা কামড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেনে নেওয়া যাবে রক্তে ডেঙ্গুর ভাইরাস ঢুকেছে কি না। ফলে জ্বর আসার আগেই ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি বুঝে ফেলা সম্ভব হবে। সেই মতো প্রতিরোধক ব্যবস্থা করা যাবে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা কমবে বলে মনে করেন অধ্যাপক।

কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় দ্রুত এই কাজ শেষ করতে চান তাঁরা। আগামী এক বছরের মধ্যে ওই ডিভাইস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু ডেঙ্গি নয়। অন্য যে কোনও ভাইরাস যাতে চিহ্নিত করা যায় ওই ডিভাইস দিয়ে, তা নিয়ে পরবর্তীকালে গবেষণা করবেন তাঁরা, জানিয়েছেন সৌরভ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভাল উদ্যোগ। যত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় করা যাবে, তত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যাবে। তাতে বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।’’

Jadavpur University
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy