E-Paper

ভুল বোঝানো অডিয়ো ক্লিপের সূত্রে ভিড়, দাবি মোথাবাড়িতে

নাম তোলার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে গ্রামের মানুষকে বোঝানো হয়েছিল। তাই নথিপত্র নিয়ে শিশু কোলে বহু মহিলা, এলাকার বাসিন্দারা ব্লক অফিসে জড়ো হন।

সৌমিত্র কুন্ডু

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৯
মোথাবাড়িতে ব্লক অফিসে জমায়েত।

মোথাবাড়িতে ব্লক অফিসে জমায়েত। ফাইল চিত্র।

রাতেই নাম তোলার ‘টোপ’ দিয়ে মালদহের মোথাবাড়িতে জড়ো করা হয়েছিল ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া এলাকাবাসীকে, দাবি স্থানীয় সূত্রের। যার জেরে, গত বুধবার দীর্ঘ ক্ষণ কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে আটকে পড়েন ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীনদের’ নাম নিষ্পত্তিতে ব্যস্ত বিচারকেরা। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের কার্যত ঘেরাও করে রাখা হয়। উদ্ধারে যাওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয়।

কী ভাবে পাকল সমস্যা? এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, সমাজমাধ্যমের সূত্রে স্থানীয় ভাবে ছড়িয়ে পড়ে ‘অডিয়ো ক্লিপ’, যাতে বলা হয়েছিল, নাম নিষ্পত্তির কাজে আসা বিচারকেরা কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে রয়েছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং প্রাথমিক অতিরিক্ত তালিকা অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, যত রাত হোক তাঁদের নাম তোলানো হবে। যাঁরা ব্লক অফিসে আসবেন না, তাঁদের নিজেদের সমস্যা নিজেদের মতো করে বুঝে নিতে হবে। নাম তোলার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে গ্রামের মানুষকে বোঝানো হয়েছিল। তাই নথিপত্র নিয়ে শিশু কোলে বহু মহিলা, এলাকার বাসিন্দারা ব্লক অফিসে জড়ো হন।

প্রথমে কে দিয়েছিল সে বার্তা? এলাকার কয়েকজন মহিলা বলেন, ‘‘আমাদের বলা হয়, রাতে ব্লক অফিসে গেলে নাম উঠবে। আমরা নথি নিয়ে গিয়েছিলাম। কেউ সকাল থেকে, কেউ বিকেল থেকে হত্যে দিয়ে বসেছিলাম।’’ কে এ সব বলছিল? মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে মহিলারা বলেন, ‘‘সকলেই বলছিল।’’ এলাকাবাসীর দাবি, ওই ‘অডিয়ো ক্লিপ’ তাঁদের কাছে নেই। ঘটনার এনআইএ-তদন্ত শুরু হতে আতঙ্কে তাঁরা তা ফোন থেকে ‘ডিলিট’ করে দিয়েছেন।

মোথাবাড়ি বিধানসভায় ‘বিবেচনাধীনের’ তালিকায় রয়েছেন ৭৯,৬৮২ জন। প্রশাসন সূত্রের খবর, তার মধ্যে একটা বড় অংশ ইতিমধ্যে বাদ পড়েছেন। ওই এলাকার রথবাড়ি পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান তমসিন নেহা সোমবার বলেন, ‘‘বুধবার স্থানীয় ভাবে খবর পাই, ব্লক অফিস থেকে ডাকা হচ্ছে। সে রাতেই যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হবে। প্রধান এবং বিএলও-দের থাকতে হবে। এ কথা শুনে বিডিও-কেফোন করি।’’

তিনি জানান, ফোনে বিডিও তাঁকে বলেন, ‘আপনি এ কথা বিশ্বাস করলে, সাধারণ মানুষ কী করবে’? তমসিনের দাবি, ‘‘তখনই বুঝি, কেউ ভুল বোঝাচ্ছে। কয়েক জন বিএলও-কে ব্লক অফিসে যেতে নিষেধ করি।’’

তবে ব্লক অফিসের বাইরে জমায়েত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা যখন বিচারকদের উদ্ধার করেন, তখন তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করা হয়। রাস্তায় বাঁশ ফেলে আটকানোর চেষ্টা, ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। সে ঘটনার পরে বিচারকেরা নথি পরীক্ষা করতে আর কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে যাননি। মালদহ শহরের একটি হোটেলে সে কাজ করছেন। হোটেলের সামনে ২৪ ঘণ্টা পাহারায় বাহিনীর জওয়ানেরা। বিডিও (কালিয়াচক ২) কৈলাস প্রসাদ ফোন ধরেননি। জবাব মেলেনি মোবাইল-বার্তার।

তৃণমূলের কালিয়াচক ব্লক সভাপতি হাসিমুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘মানুষকে ভুল বুঝিয়েই ঘেরাও করানো হয়েছে। অডিও-বার্তায় বলা হয়েছে ব্লক অফিসে না গেলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে না। মানুষ সে কথা বিশ্বাস করেই দলে-দলে ভিড় করেছেন। এর পিছনে এমআইএমের মতো কিছু দল রয়েছে।’’

তবে এমআইএমের অন্যতম জেলা-নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘‘মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে এ কথা সত্যি। তবে এ সবেরপিছনে শাসক দলের লোকজনই রয়েছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mothabari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy