শিক্ষক: বাড়িতে এসে এক বার দেখা করতে পারবে?
ছাত্রী: কেন স্যর?
শিক্ষক: তোমার জন্য দুটো প্রশ্নপত্র জোগাড় করে রেখেছি, ডার্লিং! কখন আসতে পারবে?
ছাত্রী: স্যর, আমি পুরো সিলেবাস শেষ করে ফেলেছি। আরও কিছু বিষয় ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলিই করছি। তবে আমি আসার চেষ্টা করব।
শিক্ষক: চেষ্টা নয়, পরীক্ষার আগেই এসো কিন্তু। অবশ্যই সাত দিনের মধ্যে।
নিটের প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে দেশ জুড়ে যখন হুলস্থুল চলছে, একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনা ঘটছে, নিটকাণ্ডের ‘মাথা’ হিসাবে যখন পুণের এক অধ্যাপকের নাম উঠে এসেছে, সেই সময়েই উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠল। প্রশ্ন নিয়ে এক ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে এল।
আরও পড়ুন:
লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রী একজন পরীক্ষার্থী। তিনি শিক্ষকের কথা রেকর্ড করে রেখেছিলেন, যা প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। সেই কথোপকথন পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন ওই ছাত্রী। এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ছাত্রীর দাবি, পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করতেন ওই শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক পরমজিৎ সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক। পাল্টা দাবি করেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জেপি সৈনি এই ঘটনার অন্তর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যদি এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে থাকে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে, তা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে নিট হয়। কিন্তু ৭ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তার পরই ১২ মে পরীক্ষা বাতিল হয়। ছাত্রীর অভিযোগ, তাঁকে শিক্ষক বার বার বলতেন, তাঁর কাছে প্রশ্ন আছে। সেটা নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে দেখা করতে জোরাজুরি করতেন। ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর এবং তার সঙ্গে প্রশ্নপত্রের প্রসঙ্গ জড়িয়ে যাওয়ায় ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষক নিটের প্রশ্নপত্রই ফাঁস করতে চেয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে।