বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে শাসকদল তৃণমূলের প্রথম দফার ভোটের তারকা প্রচারকদের তালিকায় ফের জায়গা করে নিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত প্রথম দফার ভোটের প্রচারে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে অনুব্রতের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের অন্যতম তারকা-মুখ হিসাবে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন অনুব্রত। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি জেলে থাকায় তারকা প্রচারকদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ১১ অগস্ট বোলপুরের বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে তাঁকে রাখা হয় আসানসোল সংশোধনাগারে, পরে ২০২৩ সালের মার্চ তাঁর ঠাঁই হয় দিল্লির তিহাড় জেল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। যদিও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। দু’বছর এক মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি ছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
জেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই অনুব্রতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। কারণ, কারাবাসের সময় জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তিনি বীরভূমে ফেরার পর অবশ্য জেলা সংগঠনের কোর কমিটির আহ্বায়ক করা হয় তাঁকে। এ বার দলের তারকা প্রচারকের তালিকাতেও স্থান ফিরে পেলেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এখন অনুব্রতের প্রমাণ করার লড়াই, জেল থেকে ফিরে কতটা সক্রিয় ভাবে প্রচারে অংশ নেন ‘কেষ্ট’ এবং তা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, নজর থাকবে সে দিকে। উল্লেখ্য, তারকা প্রচারকদের তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ৪০ জন নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত