রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর সভা থেকে বাড়ির ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে উত্তেজনা বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় যাত্রিবাহী বাসে হামলা চালিয়েছেন তৃণমূলের লোকজন। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল।
রবিবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের গরু হাটতলা মাঠে সোনামুখী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামি এবং ইন্দাস বিধানসভার প্রার্থী নির্মল ধাড়ার সমর্থনে সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সভায় যোগ দিতে বাস এবং ছোট গাড়ি চড়ে সোনামুখী এবং ইন্দাস বিধানসভার প্রচুর বিজেপি কর্মী পাত্রসায়েরে যান। সভা শেষে বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বাস সোনামুখীর দিকে ফিরছিল। অভিযোগ সোনামুখী থানার ধানসিমলা এলাকার কাছাকাছি ‘রিজ়ার্ভ’ করা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন কয়েক জন। ইটের ঘায়ে জখম হন একাধিক বিজেপি কর্মী। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে বাস থেকে নেমে রাস্তা অবরোধ করেন পদ্মশিবিরের কর্মীরা। আরও কয়েকটি বাস থেকে নেমে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তাঁরাও প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল পুলিশ। তাদের আশ্বাসে শেষমেশ অবরোধ ওঠে। কিন্তু দুই রাজনৈতিক দলের তরজা অব্যাহত। অবরোধস্থলে গিয়েছিলেন সোনামুখীর বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামী। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বিজেপি কর্মীদের অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠার পর দিবাকর বলেন, ‘‘ভোটের লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারবে না বুঝতে পেরে এই সব কাণ্ড করছে তৃণমূল। আমাদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হামলাকারী তৃণমূল কর্মীরা বুঝতে পারছেন না যাদের কথায় তাঁরা এভাবে আক্রমণ করছেন, আগামী ৪ এপ্রিলের পর তাঁদের আর পাশে পাবেন না।’’
আরও পড়ুন:
যদিও হামলার ঘটনা ‘অনভিপ্রেত’ বলেছেন সোনামুখীর তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল সাহা। তবে তিনি বলেন, ‘‘কিছু হলেই তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ ঠেলে দেওয়া বিজেপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন তৃণমূল কর্মীরা প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁদের হাতে এত সময় নেই যে বিজেপির বাসে ইট ছুড়বে। এই ঘটনায় অন্য কোনও দলের কর্মীরা যুক্ত থাকতে পারেন।’’