E-Paper

ডাকলেই যাবেন? দলের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান সুদীপ

পরাজয়ের পর দলের কিছু বিধায়ক, পুরপ্রতিনিধি এবং সাংসদদের মধ্যেও ‘দোদুল্যমানতা’ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সুদীপ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৮:০৬
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকলেই তৃণমূলের সদ্য জেতা বিধায়কদের সেখানে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তৃণমূলের লোকসভার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরাজয়ের পর দলের কিছু বিধায়ক, পুরপ্রতিনিধি এবং সাংসদদের মধ্যেও ‘দোদুল্যমানতা’ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সুদীপ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রথমটি দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে যাকে তিনি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। গতকাল বিধানসভার স্পিকারের ঘরে শুভেন্দু থাকাকালীন ঢোকেন ঋতব্রত, সঙ্গে আর এক তৃণমূল সাংসদ সন্দীপন সাহাকে নিয়ে। সেখান থেকে বেরিয়ে ‘গঠনমূলক বিরোধিতার’ কথা বলেছেন তাঁরা। সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের সঙ্গে ৬ জন বিধায়ক কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ প্রমাণিকের ডাকা বৈঠকে গিয়েছেন ১১ জন তৃণমূল বিধায়ক। সুদীপের কথায়, “বোঝা-ই যাচ্ছে, এই নেতারা কেউ তৃণমূল নেত্রীর অনুমতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা বিজেপি-র কোনও মন্ত্রীর কাছে যাননি। সুতরাং এই বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি করতে হবে, তাঁদের ডেকে কথা বলতে হবে। কারণ, এরপর অন্য জেলাতেও মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করবেন এবং সেখানেও গঠনমূলক বিরোধিতার খাতিরে তৃণমূলের বিধায়ক-নেতারা যেতেই থাকবেন!”

সুদীপের অভিযোগ, “বিজেপি সরকার দ্বিচারিতা করছে। এক দিকে বড় মনের পরিচয় দিতে চেয়ে বিরোধী বিধায়কদের ডাকছে। অন্য দিকে ৮০ জন বিধায়কের বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ঘর দেওয়া হচ্ছে না। ওরা যখন ৭৭ জনের বিরোধী দল ছিল, আমরা এ হেন আচরণ করিনি।”

লোকসভায় তৃণমূলের উপনেতা শতাব্দী রায় অবশ্য মনে করেন, রাজ্যের মন্ত্রীদের বৈঠকে বিরোধীদের যাওয়ার একটি ভাল দিক রয়েছে। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রে মন্ত্রীদের কাছে নিজেদের এলাকার কাজের জন্য যাওয়ার অনুমতি আমাদের নেই, আমরা যেতে পারতাম না। এ বার রাজ্যেও আমাদের সরকার নেই। সেখানেও যদি আমরা গিয়ে নিজেদের নির্বাচনী এলাকার কথা তুলতে না পারি, তা হলে এলাকার উন্নয়নের টাকা তো ফেরত যাবে।” তবে যাঁরা মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে ৭৭ বিধায়ক থেকে ২০৮-এ এনেছেন, বিজেপি-র সেই অংশ দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ চান না। গত কাল ঋতব্রতর সঙ্গে স্পিকারের ঘরে যান এন্টালি থেকে প্রথম বার জিতে আসা বিধায়ক সন্দীপন। যাঁকে হারিয়েছেন সন্দীপন, সেই প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল বলেন, “ক্ষমতার বদল হলেই দলে দলে পরাজিতরা যদি শাসক হতে চায়, গণতন্ত্রে তা মানায় না। তা হলে আমরা যাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়েছি, তাঁদের কী হবে? মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমার পুরো ভরসা রয়েছে এ ব্যাপারে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy