তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার বন্ধ করার দাবি তুলল বিজেপি। সোমবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে এই দাবি তোলেন সুকান্ত মজুমদারেরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। অন্য দিকে তৃণমূলের পাল্টা খোঁচা, ভয় পেয়েই এ সব করছে বিজেপি। রাজ্যের শাসকদলের বক্তব্য, খেলা শুরুর আগেই হেরে বসে আছে বিজেপি।
সোমবার সকালে দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বিজেপির প্রতিনিধিদল। সেখানে সুকান্তের সঙ্গে ছিলেন কিরেন রিজিজু এবং পীযূষ গোয়লের মতো কেন্দ্রীয় নেতারাও। কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে সুকান্তেরা জানান, তাঁরা মোট ছ’দফা দাবি কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল মমতার প্রচার বন্ধ করা। তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিজেপির প্রতিনিধিদল। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন বলে মনে করছেন তাঁরা। ভোটারদের ‘জীবনহানির হুমকি’ও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সুকান্ত।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারের ভয়ে যে ভাবে মরিয়া হয়ে গিয়েছেন, তাতে তিনি ভোটারদের ভয় দেখানোর জায়গায় চলে যাচ্ছেন।” পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তৃত বিবরণও তাঁরা কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানান সুকান্ত। তিনি বলেন, “আমি শুধু একটা ঘটনা উল্লেখ করছি। ভারতে এটি বিরলতম ঘটনা। একজন সিটিং চিফ মিনিস্টার বলছেন—যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেবেন, ভোটের পরে তাঁদের বাড়ির বাইরে প্ল্যাকার্ড লাগাতে হবে যে তিনি বিজেপি করেন না।”
এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুকান্তের দাবি, এমন অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যাতে সকলকে বাড়ির সামনে ঘোষণাপত্র দিতে হয় যে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন। বিজেপি-কে তাঁরা সমর্থনও করেন না। সুকান্তের অভিযোগ, মমতা এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ভোটারকে ভয় দেখানো (হচ্ছে), প্রতিনিয়ত বলা (হচ্ছে) যে ইলেকশন কমিশন তো ক’দিনের জন্য, আমরাই থাকব। হারের ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের উপায়ে বাংলার মানুষকে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।”
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়া যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়, কমিশনের কাছে সেই আর্জিও জানিয়েছে বিজেপির প্রতিনিধিদল। সুকান্ত বলেন, “কমিশনের ফুল বেঞ্চ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করা হবে।”
বিজেপির প্রতিনিধিদলের এই অভিযোগের পরে পাল্টা দিয়েছে রাজ্যের শাসকদলও। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এত ভয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! এ দিকে প্রধানমন্ত্রী, অন্য দিকে অমিত শাহ, সব বীরপুঙ্গবকে নিয়ে এসেও বুঝতে পারছেন, কোনও কাজে আসছে না। এ বার একমাত্র উপায়, যদি নিজেদের হাতের তৈরি কমিশনকে বলে-কয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটপ্রচার আটকানো যায়। বিজেপি হেরেই বসে আছে। ম্যাচ শুরুর আগেই হেরে বসে আছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত