ভোট প্রচারে স্লোগান ছিল ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পরে নতুন স্লোগান বাঁধল পদ্মশিবির— ‘পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার’। বাঁধল নতুন গানও।
রাজ্যে ভোট ঘোষণার অনেক আগে, গত ১৭ জানুয়ারি মালদহের জনসভা থেকে স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরের দিন সিঙ্গুরের সভা থেকেও সেই একই স্লোগান তুলেছিলেন তিনি। মোদীর বেঁধে দেওয়া সেই স্লোগান নিয়ে বাঁধা হয়েছিল গান। যা ভোটের ময়দানে বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছিল। পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল মোদীর স্লোগান সম্বলিত সেই গান। তৃণমূলের দুর্গে ধস নামিয়ে রাজ্যে শাসন ক্ষমতা অর্জনের পরে সেই স্লোগান এবং গানেরও উদ্যাপন দরকার বলে মনে করছে পদ্মশিবির।
সেই উদ্যাপনের লক্ষ্যেই বুধবার নতুন স্লোগান বেঁধেছে বিজেপি। প্রকাশ করেছে দু’মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি নতুন গান। নির্বাচনী প্রচারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, এ বার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পালা তাদের। নতুন স্লোগান সম্বলিত গানে ধরা পড়ল সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাসও। রাজ্যে সরকার গঠন করলে শিক্ষার হাল ফেরানোর বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। দিয়েছিল বেকারত্ব দূরীকরণের আশ্বাসও। নতুন গানে বলা হচ্ছে, শিক্ষা এ বার ‘ঊর্ধ্বগামী সিঁড়ি’তে পা রাখবে। রাজ্যে আর ‘বেকারত্ব থাকবে না’, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে নতুন গানে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরির’ সংস্কৃতি ঘোচানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ বারের ভোটপ্রচার পর্বে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় দলই নিজ নিজ স্লোগান-সহ গান প্রকাশ করেছিল। গত কয়েকটি নির্বাচনেই এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যেমন গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বাঁধা গান এবং স্লোগান ‘জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তবে রাজ্য বিজেপির নেতারা মনে করছেন, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মোদীর বেঁধে দেওয়া স্লোগানের উপর গান বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। তাই জনতার রায়ে ক্ষমতায় আসার পরে সেই গান এবং স্লোগান উদ্যাপন করতে নতুন গান প্রকাশ্যে আনল পদ্মশিবির। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেখানে প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তার পাশাপাশি রইল মোদীর মুখে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি। গানের সুরে রয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারে মোদীর বিভিন্ন মুহূর্তের পাশাপাশি ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের বিভিন্ন মুহূর্তও দেখানো হয়েছে গানের ভিডিয়োয়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, গানটির শেষও হয়েছে মোদীর মুখে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি দিয়ে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৩:৩০
তৃণমূলের ‘পুঁজিতে’ থাবা! রাজ্যে ৪৫ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও বিজেপির ঝুলিতে, মেরুকরণই কারণ? -
০০:৩১
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ -
২৩:১৭
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের -
২১:৫৫
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত -
১৮:২৩
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক