তৃণমূলের ‘ফাঁস করা’ ফর্ম ৬-এর ছবি তুলে ধরে পাল্টা প্রশ্ন তুলল বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূল যে সাতটি ফর্মের ছবি আপলোড করেছে, তার মধ্যে চারটি এমন ব্যক্তিদের আবেদন, যাঁদের নাম ডিলিট করা হয়েছে। বাকিগুলি নতুন ভোটার হিসাবে নথিভুক্ত হওয়ার আবেদন। সেই আবেদনকারীদের পদবি দে, বন্দ্যোপাধ্যায় ইত্যাদি। প্রসঙ্গত, তৃণমূল অভিযোগ করেছিল, বহিরাগতদের ভোটার বানানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপি এ বার পাল্টা অভিযোগ তুলল, বাঙালি হিন্দুদের নাম ভোটার তালিকায় থাকতে দিতে চাইছে না তৃণমূল।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে তাদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দাবি করা হয়, তৃণমূল নিজের মিথ্যার জালে নিজেই জড়িয়েছে। এই অভিযোগের পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিজেপি নিজের ফাঁদেই পড়ে গিয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের নাম বাদ দিল কারা। বাঙালি হিন্দু মতুয়াদের রোহিঙ্গা বলে বাদ দিয়েছে বিজেপি ও বিজেপির সহকারী সংস্থা নির্যাতন কমিশন।’’
ওই পোস্টে বিজেপি আরও উল্লেখ করেছে, তৃণমূল যাঁদের বহিরাগত বলে দাবি করছে, তাঁদের পদবি দেখলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে বন্দ্যোপাধ্যায়, দে পদবি। আরও অভিযোগ, বাঙালি হিন্দুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে রাজ্য সরকার কেটে দিতে সচেষ্ট। এখান থেকেই ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, কী করতে চাইছে তৃণমূল সরকার। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান তথা এ রাজ্যে দলের সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালবীয় দলের সেই লেখাকে ট্যাগ করে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ়ের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। মালবীয়ের অভিযোগ, পেজ়কেও বহিরাগত বলা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবারই দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেন পেজ়।
প্রসঙ্গত, ফর্ম ৬ জমা নিয়ে রাজ্যে হুলস্থুল চলছে। ভোটের মুখে রাজনীতির পারদ আরও চড়ছে। তৃণমূল এ প্রসঙ্গে অভিযোগ তুলেছে, ফর্ম ৬ জমা করে পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় ভিন্রাজ্যের ভোটারদের ঢোকাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে বস্তা বস্তা ফর্ম ৬ আসছে। ফলে রাজ্য রাজনীতি এখন ফর্ম ৬ নিয়ে সরগরম। সোমবার সিইও দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন নিজেদের ভোট সুরক্ষিত করতে বাইরের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। সে জন্যই বস্তাভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে সিইও দফতরে জমা দিয়ে গিয়েছেন কয়েক জন। মঙ্গলবারও একই অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের তরফে। ফর্ম ৬ ‘চালান’-এর অভিযোগে বিজেপি এবং তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় সিইও দফতরের বাইরে।
রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল পরে ব্যাখ্যা দেন, অনেক নথিই সিইও দফতরে আসে। তার মধ্যে ফর্ম ৬-ও রয়েছে। তবে তিনি নিয়ম দেখিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, ফর্ম ৬ জমা করলে কোন কোন ভোটারের নাম উঠবে, কাদের উঠবে না। মঙ্গলবার আবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির মোদ্দা কথা ছিল ফর্ম ৬ নিয়ে অভিযোগ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত