Advertisement

নবান্ন অভিযান

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখনই কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

পবিত্র করের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু এই মুহূর্তে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশে এক দিকে যেমন আইনি সুরক্ষা পেলেন পবিত্র, অন্য দিকে তদন্তও জারি থাকছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪২
Calcutta High Court has granted significant relief in the case regarding the allegations levelled against Pabitra Kar, the TMC candidate from Nandigram

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। ফলে গ্রেফতার বা কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশঙ্কা থেকে সাময়িক রেহাই পেলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ, পুলিশের তদন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু এই মুহূর্তে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশে এক দিকে যেমন আইনি সুরক্ষা পেলেন পবিত্র, অন্য দিকে তদন্তের গতিও বজায় থাকছে।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁরই একদা ঘনিষ্ঠ পবিত্রকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি ১৭ মার্চ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেই নন্দীগ্রামে শাসকদলের প্রার্থী হয়েছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সম্প্রতি হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে শুভেন্দু নিশানা করেন পবিত্রকে। বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, স্ক্রুটিনির সময় কোনও আপত্তি জানাননি। যদিও চাইলে পবিত্রের প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যেতে পারত। শুভেন্দুর আরও প্রশ্ন, “একই ব্যক্তি কী ভাবে দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?” তাঁর অভিযোগ, পবিত্র বিজেপির প্রতীকে জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য হয়েও তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন, যা আইনবিরুদ্ধ। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।

পবিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পবিত্র জানান, তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, আইনের পথেই তিনি এগোবেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবারই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আইন অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি দলবদল করে অন্য দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়তে চাইলে তাঁকে পূর্ববর্তী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এই প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে, পবিত্র ২০২৩ সালে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হলেও তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দেননি বলে অভিযোগ। সেই মামলার শুনানিতে আপাতত স্বস্তি পেলেন পবিত্র।

Advertisement
সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৪ মিনিট আগে
Pabitra Kar Suvendu Adhikari Nandigram Calcutta High Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy