পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন আদিত্য দাস নামের এক জন। মঙ্গলবার রাতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছে। তবে এই মামলা আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা শুনানির প্রথম দিন জানা যাবে। এখনও মামলার কোনও নম্বর দেয়নি আদালত। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অজয়পালকে সরানোর আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারী। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মামলাকারী আবেদনপত্রে জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অজয়পালকে কমিশন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছে। কিন্তু তিনি পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বিপরীত কাজ করছেন। অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাঁকে নিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভয় দেখাতে, প্রভাব খাটাতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাকারী আরও বলেছেন, ‘‘১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধি আইনের ২০বি ধারায় কমিশন পর্যবেক্ষক হিসাবে আধিকারিকদের নিয়োগ করেন ‘ভোটে নজরদারি চালাতে এবং ভোট করাতে’। পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে জনসাধারণের মনোবল বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কারণ, তিনি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসাবে পরিচিত। কিন্তু অজয়পালের ক্ষেত্রে তার বিপরীত কাণ্ড ঘটছে।’’ সুপ্রিম কোর্টে কবে এই মামলার শুনানি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় সাত জেলার ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত যে অশান্তি হয়েছিল, দ্বিতীয় দফায় তা-ও চাইছে না কমিশন। সেই কারণে বাড়তি পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে শেষ দফার জন্য। বাড়তি এই ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকাতেই ছিল অজয়পালের নাম। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তিনি। ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসাবেও তাঁকে অনেকে চেনেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোটে নজরদারির দায়িত্ব অজয়পালকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে সোমবার রাতে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন তিনি। এর পরেই তৃণমূল মাঠে নেমে পড়েছে। জাহাঙ্গির জানিয়ে দিয়েছেন, ওই পুলিশকর্তা নিজেকে ‘সিংহম’ বলে মনে করেন। তবে তাঁরাও ‘পুষ্পা’। মাথা নত করবেন না।
মঙ্গলবার সকালে অজয়পাল ও জাহাঙ্গির মুখোমুখি হন। তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওঠে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তবে অজয়পাল দমেননি। দিনভর তিনি নিজের এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ‘সিংহম’ বিতর্কের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ফলতার যুগ্ম বিডিও-কে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসককেও ভোটের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হল অজয়পালকে সরাতে চেয়ে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত